পাঁচ টাকা ভিজিটে ১৬ ঘণ্টা রোগী দেখেন ডা. গৌরাঙ্গ গোস্বামী

  • 15 June
  • 08:03 AM

যায়েদ হোসেন,বিশেষ প্রতিনিধি 15 June, 19





ডা. গৌরাঙ্গ গোস্বামী বসবাস করেন কলকাতার কালনায়। পাঁচ টাকা ভিজিটে প্রতিদিন কমপক্ষে ২০০ থেকে ২৫০ জন রোগী দেখেন তিনি। পাশাপাশি বামপন্থী রাজনীতির একজন সক্রিয় কর্মীও তিনি। কিন্তু রাজনৈতিক, ধর্মীয় কিংবা কোনো শ্রেণিগত বিভেদের কারণে কোনো দিন কোনো রোগীকে ফেরাননি গৌরাঙ্গ। এ যেন এক বিরল চরিত্র!

গৌরাঙ্গ গোস্বামী ১৯৭৮ সালে কলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। এরপর ‘এমএস’-এর পঠনপাঠনে ভর্তি হলেও পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি।তিনি উত্তরবঙ্গের একটি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চাকরি পেয়ে যান।তারপরও কালনাতেই ফিরে আসেন। সেখান থেকেই শুরু। নিজের বাড়িতেই বানিয়ে ফেলেন চেম্বার। ৫ পারিশ্রমিকে রোগী দেখা শুরু করেন তিনি।

গৌরাঙ্গের রোগী দেখা শুরু হয় সকাল ১০টা থেকে, এরপর দুপুরে ঘণ্টা দেড়েক বিশ্রাম নিয়ে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত তার সময় কাটে রোগী-স্টেথোস্কোপ-প্রেসক্রিপশন নিয়ে। অনেক সময় আবার এক ঘণ্টা বিশ্রাম নিয়ে রাত ১টা পর্যন্ত তার কাছে ভিড় জমান রোগীরা। অনেক সময় খানিকটা বিশ্রাম নেয়ারও সুযোগ পান না।বিশ্রামের সময় কাটছাঁট করে নিজের মোটরবাইকে চড়ে রোগী দেখতে ছোটেন তিনি।

গৌরাঙ্গ বলেন, ‌‘বিশ্রামের সময়ে কোনো ইমার্জেন্সি কল আসলো,তখন তো আর চুপ বসে থাকা যায় না। ছুটে যাই রোগীদের কাছে।রাত ১টা পর্যন্ত রোগী দেখি তার মানে এই নয় যে তারপরে রোগী এলে দেখব না। আমার বাড়ির দরজা রোগীদের জন্য সবসময়ই খোলা।'

গৌরাঙ্গকে দৈনিক ২০০ থেকে ২৫০ জন রোগীর চিকিৎসা করতে হয় । কিন্তু যে টাকা পারিশ্রামিক পান তাতে সংসার চলে? প্রশ্ন করলে উত্তরে গৌরাঙ্গ বলেন, 'আমি যে জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত, তাতে এর চেয়ে বেশি টাকা লাগে না। তাছাড়া একজন কমিউনিস্টের জীবন এ রকমই হওয়া উচিত। প্রয়োজনের বেশি উপার্জনের দরকার নেই আমার।'

কালনা স্টেশনে নেমে যদি কেউ বলেন,আমি ডাক্তার বাবুর অতিথি, তার বাড়িতে যাব। শত কাজ থাকলেও যে কেউ আপনাকে সাহায্য করবে। এমনকি ভাড়াও নিতে চান না রিকশা চালকরা। কারো কাছে তিনি সাক্ষাৎ ঈশ্বর, আবার কেউ কেউ ‘পাঁচ টাকার ডাক্তার বাবু’ নামেও ডাকেন।