খুলনার কয়রায় গভীর রাতে মা-বাবা ও মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা

  • 26 Oct
  • 01:06 PM

নিজস্ব প্রতিনিধি 26 Oct, 21

খুলনার কয়রায় পুকরে ভাসমান অবস্থায় একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে কয়রা উপজেলার বামিয়া গ্রামের বাগালী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের পাশের পুকুর থেকে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন- হাবিবুল্লাহ গাজী (৪২), তার স্ত্রী বিউটি (৩৫) ও সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে টুনি (১৩)। নিহত হাবিবুল্লাহ গাজী একই এলাকার আব্দুল মাজেদ গাজীর ছেলে। এলাকাবাসীর সূত্র মতে, সোমবার রাতের কোনো একসময় তাদেরকে হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

বামিয়া গ্রামের ইউপি সদস্য আতিয়ার রহমান জানান, সকাল ৭টার দিকে স্থানীয় দুজন ব্যক্তি বাগালী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের পাশের পুকুরের পানিতে তাদের লাশ ভাসতে দেখে। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছে মা-মেয়ে ও ও বাড়ির মালিকের ভাসমান লাশ দেখতে পান। নিহতের মধ্যে হাবিবুল্লাহর সমস্ত শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অস্ত্রের আঘাতে মাথা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তার হাত-পা বাঁধা ছিল। এছাড়া তার মেয়ে টুনির কপালেও ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নিহত হাবিবুল্লাহ কৃষিকাজ ও রাজমিস্ত্রির হেলপারের কাজ করতেন।

কয়রা থানার ওসি (তদন্ত) শাহাদাত হোসেন জানান, সকালে স্থানীয় লোকজন ইউনিয়ন পরিষদের সামনের পুকুরে মরদেহ ভাসতে দেখে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ তিনটি উদ্ধার করে। নিহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে।

তবে কে বা কারা খুন করেছে? সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এহেন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন কয়রা উপজেলার সাধারণ জনগণ। পাশাপাশি প্রকৃত খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির দাবিও তাদের। যাতে কয়রার মতো দুর্যোগ প্রবণ দারিদ্র্য জায়গায় এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি না হয়।