বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের যেমন ছিলো ২০২০

  • 03 Jan
  • 10:10 AM

মামুন বিন রশিদ 03 Jan, 21

২০২০ সালটা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জীবনে স্বরণীয় একটি বছর। একটি মহামারীর প্রতক্ষ্য সাক্ষী হয়ে রয়েছেন সবাই। একজন সুনাগরিক হিসেবে হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাড়িয়েছেন তাঁরা। দীর্ঘ সময় পরিবারের সাথে কাটিয়ে সুখ অনুভব করছেন কেউ কেউ। চলুন জেনে নেয়া যাক বিশ্ব বিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের কেমন কেটেছে ২০২০। এ সম্পর্কে জানতে চেষ্টা করেছেন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং ক্যাম্পাস সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মামুন।
গত ১৮ মার্চ থেকে আমাদের ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে পড়াশুনা নিয়ে অনেক চিন্তার মধ্যে দিন পার করতে হয়েছে নিজেকে। ওদিকে টিউশনি চলে গিয়েছে, তারপর পরিবার তাকিয়ে রয়েছে আমার মুখের দিকে। সব মিলিয়ে কিছুটা তিক্ত সময় পার করেছি।

এরপরও আমি বলবো সময়টা আমাকে অনেক কিছুই হয়তো দিয়েছে, অনেক কিছু শিখিয়েছে। যা হয়তো শত সাধনা করেও পাওয়া যাবে না। কিভাবে মহামারির সময়ে টিকে থাকতে হয়, বিপদকে যেভাবে হ্যান্ডেল করতে হয় সেটা শিখিয়েছে ২০২০।

গ্রামের অস্বচ্ছল মানুষের মাঝে মহামারীর সময় খাদ্য বিতরণসহ ক্যাম্পেইন করে সবাইকে সচেতন করেছি। মানুষের সাথে গভীরভাবে মিশে তাদেরকে বোঝার মতো সুযোগ হয়েছিলো এই সময়টাতে।

এর আগে কখনো এত দীর্ঘ সময় ছুটি পাইনি। আমি আমার ফ্যামিলিকে এত কাছে থেকেও কখনো দেখিনি। নিজের জায়গাটা উপলব্ধি করতে পেরেছিলাম এই বছরে।

বন্ধু-বান্ধব যারা প্রবাসে পড়াশুনা করতো তাদেরকে একসাথে কাছে পেয়েছি। আবার অনেককে এই মহামারীতে হারিয়েছিও বটে।

তবে আল্লাহর নিকট একটাই প্রার্থনা, আমরা যেন খুব দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারি।

সৈকত ইসলাম
আরবি বিভাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

পূথিবীর আট-দশটা সাধারণ মানুষের মতো আমারো ২০২০ সাল একদম অন্যরকমভাবে কেটেছে। এই আধুনিক যুগে একটি রোগ হঠাৎ করে উদ্ভব হয়ে মহামারী রুপ ধারণ করে সারাবিশ্বকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে এমনটি হয়তো কেউ কল্পনাও করেননি ।

করোনার একদম প্রথম থেকেই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তারপর কয়েকমাস একদম স্থবির হয়েছিল আমাদের একাডেমিক লাইফ।
অনলাইন ক্লাস উপযোগী স্মার্টফোন না থাকার কারণে মোটামুটি ১ বছর পিছিয়ে পড়েছি সহপাঠীদের থেকে।অন্যদিকে দীর্ঘদিন পড়াশুনার চর্চার বাহিরে থাকায় একদমই অলস হয়ে পড়েছি।

একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও সুনাগরিক হিসেবে সবসময়ই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার চেষ্টা করেছি।

দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজ উপজেলায় বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে 'করোনা সচেতনতা ক্যাম্পেইন' করেছি উপজেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে। স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক,সাবান ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে। স্বেচ্ছাসেবকের কাজ করতে গিয়ে ক্ষেত্রবিশেষে প্রভাবশালীদের চক্ষুশূল হতে হয়েছে। তবুও দরিদ্র মানুষদের জন্য কিছু করতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি।

পরিশেষে বলা যায় ভালো খারাপ মিলেই কেটেছে ২০২০ সাল।

হুমায়ন কবির
৩য় বর্ষ
টেলিভিশন, ফিল্ম এন্ড ফটোগ্রাফি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

সুখ দুঃখের পালাবদলে কেটে গিয়েছে বছরটি। ২০২০ এর শুরুটা অনেক সুন্দর কাটলেও মাঝখানের স্মৃতিগুলো মোটেও সুখের নয়। করোনা মহামারীর প্রকোপে পড়ে আমাদের জনজীবনে পোহাতে হয়েছে ভোগান্তি, বিড়ম্বনার যেন শেষ নেই।

দীর্ঘ দিন লক ডাউনে থাকার কারণে হাহাকার দেখেছি গরীব মানুষের চোখে মুখে। সবাই চাকরী হারিয়ে বেকার প্রায়। একজন মেডিকেল স্টুডেন্ট হিসেবে সেই সময়টাতে জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করে মানুষকে সতর্ক করেছি।

ঘরবন্দী অবস্থায় পড়াশুনা নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছিলাম। তেমন একটা পড়াশুনা করা হয়নি। তবে আলহামদুলিল্লাহ । সময়টাকে প্রোপার ইউজ করার চেষ্টা করেছি। এই সময়টা আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে।
কিছু এক্সস্ট্রা কারিকুলাম এক্টিভিটির সাথেও জড়িত ছিলাম। কয়েকটা সার্টিফিকেটও অর্জন করেছিলাম।

যারা এটাকে কাজে লাগাবে তারা সারাজীবন এগিয়ে থাকবে।একটা মহামারির সাক্ষী আমরা। এই মহামারী থেকে নেওয়া সিদ্ধান্ত সারাজীবন কাজে লাগাতে চাই।

খালিদ হাসান মিলু,
এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ, দিনাজপুর।

করোনা আতঙ্ককে সঙ্গী করেই আমরা নতুন বছরকে বরণ করতে চলেছি। কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে গেছে ২০২০ সাল।
শারীরিক সুস্থতার সাথে সাথে মানষিক স্বাস্থ্যের দিকেও খেয়াল রাখতে হয়েছে। ভয় ভীতি যেমন বেড়েছে তেমন দায়িত্বও বেড়েছে। নিজের প্রতি,পরিবারের প্রতি,আশেপাশের মানুষের প্রতি।

পুরো বছর পরিবারের সাথে সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছি।

বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণার পর পড়াশোনার প্রতি কিছুটা অনীহা তৈরি হয়েছে। অনলাইন ক্লাসের জন্য ক্ষতি অনেকটাই পূরণ হয়েছে বলে আমি মনে করি।
২০২০ সালে মহামারীর কারণে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজে অংশগ্রহণ করার সুযোগ হয়েছে। বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিধী মেনে গরীব দুঃখীদের সাহায্য করেছি।

২০২০ সাল আমাকে শিখিয়েছে সবাইকে নিয়ে বাঁচতে এবং যেকোনো বিপদ আসলে শক্ত হাতে মোকাবেলা করতে। এই বছরটি আল্লাহর রহমতে ভালো কেটেছে পরিবারের সাথে। সকলে সুস্থ আছি।

আসছে বছরে আরও বেশি সচেতন হতে চেষ্টা করবো। দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল হব।

তাহরিমা জয়া
কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

আমার জীবনের অন্যতম অালোচিত একটি সাল ২০২০। নিজের শিক্ষা জীবনে কখনো একটানা এত ছুটি কাটাইনি। যে ছুটির জন্য একসময় শিক্ষকদের দ্বারস্থ হতাম, সেই ছুটি যে এভাবে আসবে, ভাবিনি কখনো।

বলতে গেলে এই বছরটা অনেকটা হতাশার মধ্য দিয়ে কেটেছে। সারাদিন বাসায় থেকে জীবনটা একঘেয়েমিতে ভরে গেছে। পড়ালেখাতে বড় ধরণের ফাটল ধরেছে। সবকিছু থেকেই জীবনটা কেমন যেন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে, কোনো পরাধীন দেশে বসবাস করছি, যেখানে নিজের ইচ্ছামত কিছু করার স্বাধীনতা নাই।

তবে দীর্ঘ ছুটিতে পরিবারের সাথে সময় কাটাতে পারছি। কিন্তু সেটাও এখন বিরক্তিকর হয়ে গেছে। মন শুধু ক্যাম্পাস খোলার প্রহর গুণছে। ইনশাআল্লাহ, মহামারী কাটিয়ে দ্রুতই পৃথিবী সুস্থ হবে।

জান্নাতুল মাওয়া দৃষ্টি
ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্সেস অনুষদ
গণ বিশ্ববিদ্যালয়