টিকা প্রাপ্তির তথ্য দেয়নি এক তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী, হাবিপ্রবি খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা

  • 27 Sept
  • 08:21 PM

আব্দুল্লাহ আল মুবাশ্বির, হাবিপ্রবি প্রতিনিধি 27 Sept, 21

দীর্ঘ ১৭ মাস ২৫ দিন বন্ধ থাকার পর ১২ সেপ্টেম্বর থেকে খুলেছে দেশের প্রাথমিক মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলতেও তোড়জোড় শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) প্রশাসন শিক্ষার্থীদের থেকে কয়েক ধাপে টিকা গ্রহণ সংক্রান্ত তথ্য চেয়েছে। তবে তথ্য দেয়ার ক্ষেত্রে কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থীর অনীহা লক্ষ্য করা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন সূত্র বলছে, শিক্ষার্থীদের তথ্য দিতে অনীহার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে বিলম্ব হতে পারে। কারণ করোনার টিকা সংক্রান্ত তথ্যের ওপর নির্ভর করে বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগ বলছে করোনার টিকা সংক্রান্ত তথ্যের জন্য অনলাইনে লিঙ্ক তৈরির মাধ্যমে কয়েক ধাপে শিক্ষার্থীদের কাছে তথ্য চেয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু কয়েক দফা সময় বাড়ানোর পরেও এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী তথ্য দেয়নি। রবিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত প্রশাসনের কাছে তথ্য এসেছে ৭ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীর যেখানে মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ১১ হাজার।

এছাড়াও যেসব শিক্ষার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্র নেই তাদের জন্মনিবন্ধন সনদের তথ্যও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে চাওয়া হয়েছিল, সেখানে তথ্য দিয়েছে মাত্র ৪৬৮জন শিক্ষার্থী। তাদের তথ্য ইতোমধ্যে ইউজিসির কাছে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে এখনো টিকা পায়নি হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদেশি শিক্ষার্থীরা। কয়েকদফা তথ্য দিয়েও এখনও নিবন্ধন করতে পারেননি শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল হলের হল সুপার সহযোগী অধ্যাপক ড. মো: জামাল উদ্দীন বলেন, 'বর্তমানে ৪০জন বিদেশি শিক্ষার্থী হলে অবস্থান করছেন। বিদেশি শিক্ষার্থীদের এনআইডি কার্ড না থাকায় একটু জটিলতা আছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগ ইউজিসির সঙ্গে যোগাযোগ করছে। আমি সব বিদেশি শিক্ষার্থীর পাসপোর্ট নাম্বার, শিক্ষার্থীর নাম ও ফোন নম্বরসহ প্রয়োজনীয় সব তথ্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে দিয়েছি।

ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড.ইমরান পারভেজ বলেন, 'বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সব তথ্য আমরা ইউজিসিতে পাঠিয়েছি। করোনার টিকার রেজিস্ট্রেশনের জন্য তৈরি সুরক্ষা অ্যাপসে বিদেশি শিক্ষার্থীদের অপশন না থাকায় প্রাথমিকভাবে তারা আবেদন করতে পারেনি। তবে খুব দ্রুতই বিদেশি শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হবে বলে আশা করছি'।

বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমার একার পক্ষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়া সম্ভব নয়। খুব শীঘ্রই ৫৮তম একাডেমিক কাউন্সিল বসবে। এখন পর্যন্ত সংগৃহীত সব তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই একাডেমিক কাউন্সিল এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবে'।

উল্লেখ্য, গত ১৪ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত বৈঠক শেষে জানানো হয় আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য রেজিস্ট্রেশন কাজ শেষ করা হবে এরপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের একাডেমিক কাউন্সিলের অনুমোদন নিয়ে পাঠদান কার্যক্রম শুরু ও আবাসিক হল খুলতে পারবে। উক্ত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা.দীপু মনি।

বৈঠকে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, কোভিড-১৯ সম্পর্কিত কারিগরি উপদেষ্টা কমিটি, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।