হাবিপ্রবিতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের এক ভিন্ন রকম ইদ উদযাপন

  • 23 July
  • 08:30 PM

আব্দুল্লাহ আল মুবাশ্বির, হাবিপ্রবি প্রতিনিধি 23 July, 21

ইদ মানেই আনন্দ, ইদ মানেই খুশি। করোনা পরিস্থিতিতে ত্যাগের মহিমায় এক ভিন্ন রকম ইদ উযযাপন করলো বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা। তবে নিজ পরিবার এবং মাতৃভূমি থেকে হাজার কিলোমিটার দূরে এসে কিছুটা ভিন্ন রকম এক ইদ উযযাপন করেছে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীরা। বন্ধ বিশ্ববিদ্যালয় হয়তো খুলে দেওয়া হবে এই আশায় এবং ঝামেলা এড়াতে দেশে ফিরেননি হাবিপ্রবিতে অধ্যরনরত এসব বিদেশি শিক্ষার্থী। তাই পরিবার-আত্নীয়স্বজন ছাড়াই ক্যাম্পাসে অবস্থানরত বাঙালি বন্ধুদের সাথে ইদের আনন্দ ভাগাভাগি করেছেন বিভিন্ন দেশ থেকে হাবিপ্রবিতে পড়তে আসা এসব শিক্ষার্থীরা।

ভারত, ভুটান, নেপাল, সোমালিয়া, নাইজেরিয়া সহ ছয়টি দেশ থেকে আসা এসব বিদেশি শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন তাদের ইদ অনুভূতি।

ইদ উদযাপনের অনুভূতি জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ তম ব্যাচের কৃষি অনুষদের সোমালিয়ার শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ্ আলী ইব্রাহিম বলেন, 'এই মহামারির সময়ে পরিবার থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে ইদ উদযাপন করাটা কিছুটা কঠিন ছিলো। তবে এই অপূর্ণতা বুঝতে দেয়নি এখানকার বন্ধুরা। আমরা অনেক মজা করার চেষ্টা করেছি এবং মসজিদে প্রার্থনা করার পর ঘোরাঘুরিসহ প্রচুর ছবিও তুলেছি। এরপর হলে ফিরে নিজ পরিবারের সাথে কথা বলেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বাঙালি বন্ধু তাদের বাসাই আমাদের ইদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলো। এটি আমার জীবনের স্মরণীয় একটি ইদ হয়ে থাকবে। একটু ভিন্নভাবে ইদ উদযাপন করার সুযোগ করে দেওয়ায় মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি'।

কম্পিউটার সাইন্স এ্যান্ড ইন্জিনিয়ারিং (সিএসই) অনুষদের নেপালি শিক্ষার্থী দিপক শাহ বলেন, 'প্রথমত আমি অনেক আনন্দিত যে সম্পূর্ণ ভিন্ন রকম এক সংস্কৃতিতে এবারের ইদ উযযাপন করা দেখতে পেলাম। এখানকার বাংলাদেশি বন্ধুরা অনেক বেশি আন্তরিক। আমার রংপুরের বন্ধু আবির রহমান ইদে তার বাসায় নিমন্ত্রণ জানিয়েছিলো। সেখানে গিয়ে আমি তাদের ইদ উযযাপন করা দেখেছি। তার পরিবার ইদে আমাকে উপহার হিসেবে নতুন পোশাক এবং টাকা দিয়েছে। আমি বিস্মিত হয়ে গিয়েছিলাম যখন তারা বললো ইদের দিন ইদ সেলামি হিসেবে এই টাকা দেওয়া হয়। তার পরিবার আমার অনেক যত্ন করেছে। বন্ধু আবির রহমানের জন্য অনেক ভালোবাসা রইলো'।

নাইজেরিয়ার শিক্ষার্থী আবু বকর সাইদু বলেন,'উচ্চশিক্ষার জন্যই হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে হাবিপ্রবিতে এসেছি। এখন পরিবারের বাইরেও আরেকটি পরিবার হয়ে উঠেছে যার নাম হাবিপ্রবি পরিবার। বাঙালিসহ সকল বিদেশি বন্ধুরা একসাথে ঘোরাঘোরি ও আনন্দ করেছি। আমার ডায়েরির অনেকগুলো পাতায় লিখে নিয়েছি এই ইদ অভিজ্ঞতা। এই ইদ আমার জীবনের স্মরণীয় একটি ঘটনা হয়ে থাকবে'।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ তম ব্যাচের কৃষি অনুষদের ভারতীয় শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সফিউল্লাহ জানান,'কোভিড-১৯ পরিস্থিতির জন্য প্রায় দেড় বছর ধরে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় হয়তো খুলে দিবে এই আশায় থেকে আর দেশে ফেরা হয়নি। এজন্য আগের মতো ইদের আনন্দ তেমনভাবে উপভোগ করতে পারিনি। আসলে বন্ধু-পরিবারের সাথে ইদ উযযাপন করতে পারাটা অনেক মজার। যাইহোক, ইদে ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে নামাজ পড়ে বাংলাদেশী বন্ধুসহ অন্যান্য দেশের বন্ধুদের সাথে বেশ মজা করেছি এবং প্রচুর ছবি তুলেছি। এসব ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করার মাঝেই ইদের আনন্দকে খুঁজে পেতে চেষ্টা করেছি'।

কৃষি অনুষদের সোমালিয়ার শিক্ষার্থী লিবান আলী মাহমুদ ইদের অনুভূতি জানিয়ে বলেন, 'আসলে করোনা পরিস্থিতির জন্য এবছর সোমালিয়ায় গিয়ে ইদ উযযাপন করতে পারিনি। এজন্য কিছুটা খারাপ লাগছে যদিও। তবে এখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আন্তরিকতায় এই খারাপ লাগা কিছুটা হলেও কমে গিয়েছে। এছাড়াও ইদে অন্যান্য বাংলাদেশি এবং বিদেশি বন্ধুদের সাথে বেশ ভালোই সময় কাটিয়েছি'।

হাবিপ্রবিতে অধ্যয়নরত এসব বিদেশি শিক্ষার্থীদের ইদে ঘুরে নিয়ে বেড়িয়েছেন বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা। তাদের মধ্যে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান। মেহেদী হাসান জানান,' ইদে বিদেশি শিক্ষার্থীদের সাথে বেশ ভালো সময় কাটিয়েছি। নানা কারণে ইদে এবার আমারও বাড়ি ফেরা হয়নি। এজন্য বিদেশি এসব বন্ধুদের সাথেই ইদের আনন্দ ভাগাভাগি করেছি,অনেক আড্ডা দিয়েছি। আড্ডায় তাদের ছোটোবেলার ইদ স্মৃতিচারণ শুনে বেশ ভালো লেগেছে। বিভিন্ন দেশের বন্ধুরা একসাথে নিজেদের ইতিহাস-ঐতিহ্যের আলোচনা শুনে অনেক কিছু শিখেছি। এবারের ইদে আমার বিদেশি বন্ধুদের একাকীত্ব অনুভব করার সুযোগ দেইনি।'

উল্লেখ্য, বর্তমানে হাবিপ্রবিতে ভারত, ভুটান, নেপাল, সোমালিয়া, নাইজেরিয়া সহ ছয়টি দেশের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করছে। ইউজিসির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী বিদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়নের দিক থেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে হাবিপ্রবির অবস্থান দ্বিতীয়।