সেশন জট থেকে বাঁচতে চায় মেডিকেল শিক্ষার্থীরা

  • 11 Oct
  • 04:43 PM

নিজস্ব প্রতিনিধি 11 Oct, 20

এমবিবিএস ডিগ্রি একটি ৫ বছর মেয়াদী কোর্স। বাংলাদেশের কারিকুলামে শুধুমাত্র মেডিকেলে স্নাতক শেষ করতেই কমপক্ষে ৬ টি বছর (গ্রাজুয়েশন এবং এক বছর ইন্টার্নশিপ) লেগে যায় । এই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ৪ টি পেশাগত পরীক্ষা হয়।

মহামারী কোভিড-১৯ এর কারণে মে-২০২০ এর নিয়মিত পেশাগত পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে। যার কারণে তারা পরবর্তী ফেজের ক্লাস করতে পারছে না। বিভিন্ন মেডিকেলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বেশিরভাগ মেডিকেলে আগের ফেজের বিষয়গুলোই বার বার অনলাইনের মাধ্যমে পড়ানো হচ্ছে। এতে করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে। সবাই জানতে চাচ্ছে পরীক্ষার ব্যাপারে একটা সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা৷ উল্লেখ্য মে-২০২০ এর সাপ্লিমেন্টারী পরীক্ষার্থীরা কিছুদিন পূর্বে আন্দোলন করে যার কারণে তাদের দাবী মেনে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় এই মাসেই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এছাড়া প্রতিবেশী দেশ ভারতে পরীক্ষা ছাড়াই পরবর্তী ক্লাসে উঠেছে শিক্ষার্থীরা। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল এসএসসি ও জেএসসি এর যোগফলের ভিত্তিতে হবে। তাই নিয়মিত মেডিকেল শিক্ষার্থীদের পেশাগত পরীক্ষার ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত না আসায় তাদের শিক্ষা জীবন সেশনজটের কবলে পড়বে বলে ধারণা করছে এবং তারা কিছু দাবী উপস্থাপন করেছে। “প্রফ মে-২০২০ অটো প্রমোশন চাই” ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে তারা কিছু দাবী তুলে ধরেছে।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সকল সরকারি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে তাদের তিন দফা দাবি-
১) করোনাকালীন এ সময়ে ঝুঁকি নিয়ে কোন প্রফেশনাল পরীক্ষা নয়।
২) সেশনজট মুক্তিতে অটোপ্রমোশন চাই।
৩) অনতিবিলম্বে এবং নিশ্চিন্তমনে পরবর্তী ফেজের অনলাইন পাঠদান চাই।

কেন অটোপ্রমোশন চায়- সে ব্যাপারে জানতে চাইলে তারা বলেন-

১. আমাদের ৭ মাস নষ্ট হইছে আর না। আমাদেরকে আইটেম ক্লিয়ারেন্স এর উপর ভিত্তি করে অটো প্রমোশন দেয়া হোক।

২. অতিদ্রুত পরের ফেজ এর ক্লাস শুরু করতে হবে, যেন সেশনজোট মুক্ত থাকতে পারি।

৩.সিদ্ধান্ত এই মাসের মধ্যে জানাতে হবে, যদি না হয় আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনে নামবো এই মাসের মধ্যে।

৪. আমাদের সম্মানিত শিক্ষকদের সাথে এই বিষয়ে কথা বলছি। স্বাস্হ্যমন্ত্রনালয়ে স্মারকলিপি দিতে হবে। আমরা ইতিমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছি এবং তাদের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

৫. কিন্তু এই সবকিছুর জন্য প্রয়োজন সকলের এক হওয়া, আমাদের দাবি যেন একটাই থাকে তা হল এইচএসসি পরীক্ষায় যদি পূর্বের ফলাফলের ভিত্তিতে আটোপাশ দেওয়া হয়, তাহলে আমাদের ও আইটেম এর ভিত্তিতে অটোপ্রমোশন দেওয়া হক। এছাড়া বেসরকারি মেডিকেল গুলো তে বেতন নিচ্ছে তাই অতিদ্রুত নেক্সট ফেইজের বিষয়ে কোন ব্যাবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

৬. আমাদের একটাই উদেশ্য সব মেডিকেলের এমবিবিএস ১ম, ২য়, ৩য় প্রফ পরীক্ষার্থী এবং বিডিএস প্রফ পরীক্ষার্থীদের এক হয়ে এক দাবিতে আন্দোলন করা, এক্ষেত্রে সকল মেডিকেলের অংশগ্রহণ জরুরী।

৬. আর সামনে করোনার প্রকোপ আরো বাড়তে পারে।এ অবস্থায় আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার মত উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়নি। যেহেতু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এরিয়ার সাথে সম্পর্কিত সেহেতু করোনা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি আরও বেশি।আমরা জানি পাবলিক পরীক্ষা জেএসএসি ও এইচএসসি অটো প্রমোশন দেওয়া হয়েছে।বাকি স্কুল, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক লেভেলেও অটো প্রমোশন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা সারাবছর আমরা পরীক্ষা দিয়েই এসেছি, তাই আমাদের দাবি আমাদের সারাবছরের পরীক্ষা, আইটেম, টার্ম, কার্ডের উপর ভিত্তি করেই যেন কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। আর ইতিমধ্যে আমরা করোনা আক্রান্ত হয়ে অনেকেই আমাদের কাছের মানুষ দের হারিয়েছি, শারীরিক ও মানসিক ভাবে কিছুতেই এখন পরীক্ষা দেওয়ার মত অবস্থাই নেই কেউ, ডাক্তার রা সবসময় ” Mental Health ” নিয়ে কথা বলেন। তাই আমাদের দাবি ও আমাদের অভিভাবক শিক্ষক মন্ডলীদের কাছে অনতিবিলম্বে সারাবছরের পারফর্মেন্স এর উপর ভিত্তি করে অটোপ্রমোশন দিতে হবে!!

৭. এখন যদি প্রফ হয়ও এক্ষেত্রে এতগুলো পরীক্ষার্থীরা হলে থাকলে যদি তারা করোনা আক্রান্ত হয় তাহলে এর দায় কে নিবে? আর যদি প্রফ হয় তাহলে প্রফের প্রস্তুতির জন্য ২ মাস দেওয়া হবে, প্রফ হতে ৩ মাস,পরবর্তী ইয়ারের ক্লাস শুরু হতে ২০২১ এর মার্চ এপ্রিল মাস চলে আসবে, আর ও বেশি সময় চলে যাবে, শিক্ষার্থীরা সেশনজটেই পড়বে এবং সেক্ষেত্রে বেসরকারি মেডিকেল শিক্ষার্থীদের
কোর্সের সময়সীমার বর্ধিত সময়ের বেতন দিতে হবে। তাই অতিদ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ চাই!