সেচ ব্যবস্থার অভাবে কয়রায় চাষীরা ফসল উৎপাদনে নিরাশ

  • 29 Dec
  • 11:47 AM

মোঃ ইকবাল হোসেন, খুলনা (কয়রা) 29 Dec, 20

খুলনার কয়রা উপজেলা প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকা। মাছ চাষের পাশাপাশি ধান চাষ এঅঞ্চলের মানুষের জীবিকা নির্বাহের প্রধান উপজীব্য উৎস। কিন্তু কৃষি প্রয়োজনীয় উপকরণ সহ সেচ ব্যবস্থা না থাকায় হাজার হাজার কৃষক একদিকে যেমন ফসল উৎপাদনে পিছিয়ে আছে, অন্যদিকে পতিত জমির সঠিক চাষের অভাবে মানুষের কাঙ্ক্ষিত খাদ্য উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। সরকার ভিক্ষুক মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা করলেও এঅঞ্চলে রাস্তা ঘাটে ভিক্ষা বৃত্তির নানা বয়সের লোক চোখে পড়ে। অনাহারে অর্ধাহারে যাদের জীবন যাপন দারিদ্র্য সীমারেখা নিম্নস্তরে।

একটি ফসল আমন ধান চাষ যা নির্ভর করে বৃষ্টির পানির ওপরে। আবার বোরো মৌসুমে পানির জন্য হাহাকার করতে দেখা যায় কৃষকদের। চার দিকে খাল বিল শুকিয়ে চৌচির হয়ে পড়ে। খাল, বিল, ডোবা-নালায় নেই পানি। পানি না থাকার কারণে বিপাকে পড়তে হচ্ছে ৫নং কয়রা সদর ইউনিয়ন, মহারাজপুর, আমাদী, মহেশ্বরীপুর সহ নোনা পানিতে ডুবন্ত দক্ষিণ বেদকাশি এলাকার কৃষকদের। অথচ ধান চাষের সাথে ওতপ্রোতভাবে জীবন নির্বাহ জড়িয়ে আছে কয়রা সদর সহ মহারাজপুর ইউনিয়নের সহস্রাধিক কৃষক পরিবার।

মাটি এবং বালি ভরাট হয়ে ছোট ছোট খালসমূহ আগেই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এছাড়া লিজ ও টেন্ডারের কারণে ইজারাদাররা যথেচ্ছা ব্যবহার করছে কাস খতিয়ান ভুক্ত খালগুলো। বিলসমূহ শুকিয়ে যাওয়া এবং সেচ ব্যবস্থা না থাকায় চলতি বোরো মৌসুমের বাম্পার ফলন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এখানকার চাষীরা। ফলে ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা সম্ভব হচ্ছে না। কৃষকদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

ধান চাষ করে বছরের কয়েকটি মাস স্বভাবিক জীবন যাপন করলেও পানির অভাবে বোরো ধান চাষ না করতে পেরে, বাকি মাস গুলো সংসার চালানো দুরূহ হয়ে পড়ে।

খুলনার কয়রা উপজেলা ব্যবস্থা না থাকায় হাজার-হাজার বিঘা জমিতে আমন চাষের পরে রবি মৌসুমে হচ্ছেনা বোরো ধানের চাষ। বৃষ্টির পানির উপর নির্ভর করে চাষীরা আমনের লাভজনক একটি ফসল পেলেও আম্পান, আইলা, সিডর ও বুলবুলের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে লড়াই করে প্রতি বছর একটি ফসল উৎপাদন করে যাচ্ছে। সেচ ব্যবস্থা না থাকায় চাষীরা অস্বচ্ছল হলে পড়েছে। দু'ফসলের জন্য জমি উপযোগী থাকলেও পানির সংকটের কারণে প্রতিবছরই হতাশ এঅঞ্চলের কৃষক শ্রেণি।

সরোজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাষীরা বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভর করে দুই ফসলি জমিতে আমনের একটি ফসল উৎপাদন করছে। অথচ সরকারি বা বেসরকারি কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি কৃষি সেচ ব্যবস্থায়। আবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে উপকূলীয় এঅঞ্চলে ধানের ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। এলাকায় যদি সরকারি ভাবে সেচ ব্যাবস্থা করা হয় তাহলে হতোদারিদ্র কৃষক রবি মৌসুমে ও ফসল উৎপাদন করে অর্থিক সচ্ছলতা ও স্বাভাবিক ভাবে জীবন যাপন করতে সক্ষম হবে।

এবিষয়ে কয়রা উপজেলার কৃষি অফিসার জনাব এস এম মিজান মাহমুদের সাথে যোগাযোগ করলে দিতে পারেনি কৃষকদের আশানুরূপ আশ্বাস। বিষয়টি যেন কৃষি কর্মকর্তার জানার বাইরে। তিনি নথি-পত্র দেখে জানাচ্ছি বলে কালক্ষেপণ করলেও কৃষকদের সেচ ব্যবস্থা নিয়ে কোন গাঠনিক বক্তব্য দিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন।