'সুশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া প্রয়োজন'

  • 13 Sept
  • 02:53 PM

ভার্সিটি ভয়েস ডেস্ক 13 Sept, 21

শিক্ষায় মনুষ্যত্ব বিকাশের পূর্বশর্ত। জ্ঞান শক্তি অর্জনই শিক্ষার উদ্দেশ্য। শিক্ষাই সব শক্তির মূল -বলেছেন ফ্রান্সিস বেকন। শিক্ষা হচ্ছে যেকোনো অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক অঙ্গনের চালিকা শক্তি।  ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শিক্ষার ভূমিকা অপরিসীম। বতর্মানে আমাদের সমাজে শিক্ষা নয়  বরং সুশিক্ষার প্রয়োজন। শিক্ষা মানুষকে শিক্ষিত করে, কিন্তু সর্বদা সুশিক্ষিত করে না। শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত হলে তাকে সুশিক্ষিত বলা যায় না। একজন মানুষকে শিক্ষিত নয়,সুশিক্ষিত হয়ে গড়ে ওঠা প্রয়োজন।

সুশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার জন্য চারিত্রিক গুণাবলি ও নৈতিকতা জরুরি। একটা মানুষকে সুশিক্ষায় গড়ে তুলতে পরিবারের ভূমিকা অপরিসীম। পরিবার থেকেই প্রাথমিকভাবে শিশু হাতেখড়ি শিক্ষা পায়। আসলে পরিবার থেকেই একটা মানুষ প্রথমে মৌলিক শিক্ষা পায় যেটা তার জীবনের সব শিক্ষার মূল।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, সুশিক্ষার লক্ষণ এই যে, তাহা মানুষকে মুক্তি দান করে। সুশিক্ষা বলতে সেই প্রকৃত শিক্ষা কে বুঝায় যা মানুষ বাস্তব ক্ষেত্রে এর পজিটিভ দিক গুলো প্রয়োগ করতে পারে। সুশিক্ষার অর্থ হচ্ছে শিক্ষার এমন এক অবস্থা যে শিক্ষার্থীর সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে এবং স্বশিক্ষিত হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে। সুশিক্ষা এবং স্বশিক্ষা  একে অপরের পরিপূরক।

প্রমথ চৌধুরীর একটি উক্তি আছে, সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত। মানুষকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলে সমাজেও সেই মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটাতে ভূমিকা পালন করে এবং আরো প্রকৃত মানুষ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিক্ষা ব্যক্তিকে কোনদিকে চালিত করবে, সেটা নির্ভর করে শিক্ষাগ্রহণকারী ব্যক্তি ভবিষ্যতে তার জীবনে শিক্ষার প্রয়োগ কীভাবে করছে, তার ওপর। সুশিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে ব্যক্তি একজন প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে। সুশিক্ষা ব্যতীত কোনো ধরনের অগ্রগতি সম্ভব নয়। জীবনকে বিকশিত করতে হলে নিজেকে শিক্ষায় বিকশিত করতে হবে তবে সেই শিক্ষা যেনো অবশ্যই সুশিক্ষা  হয়।  শিক্ষিত হওয়ার চেয়ে  সুশিক্ষা অর্জন জরুরী। সুশিক্ষা মানুষকে আলোকিত করে এবং বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করে। সুশিক্ষা ব্যক্তি সমাজ সর্বোপরি জাতি গঠনে আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করে। দেশ উন্নয়নে এবং মানব সমাজ উন্নয়নে সুশিক্ষার বিকল্প নেই। সার্টিফিকেটদারী শিক্ষা নয়, সুশিক্ষাই মানুষের মান নির্ধারণ করে।

বর্তমানে বেশিরভাগ মানুষই পরীক্ষার জন্য শিখে, ভালো সার্টিফিকেট অর্জন করার জন্য শিক্ষা অর্জন করে। ফলে সুশিক্ষায় শিক্ষিত মানুষ খুব কিঞ্চিত পরিমাণে দেখা যায়। আজ সমাজে মিথ্যা বলার প্রবণতা, অসৎ পন্থা অবলম্বন করার প্রতিযোগিতা, বিলাসিতা, প্রতারণার মতো অপরাধে ছেয়ে গেছে সমাজের সর্বত্র।লোভ-লালসা ও বিভিন্ন প্রকার স্বার্থ চরিতার্থে তারা অর্জিত শিক্ষাকে ঠেলে দেয় পায়ের নিচে। আর তার  কারণ হলো নৈতিকতা শিক্ষার  ও চর্চা অভাব। আমাদের সমাজব্যবস্থায় শিক্ষিতজনদের ভেতরেও সুশিক্ষার বড় অভাব পরিলক্ষিত হয়। তাই সুশিক্ষা রপ্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তি জীবনে,দেশ ও জাতির উন্নয়নে শিক্ষা নয় সুশিক্ষার প্রয়োজন। একজন মানুষের উচ্চশিক্ষা লাভ করার পাশাপাশি মনুষ্যত্ব অর্জনের শিক্ষা নেওয়াটাও জরুরি। শিক্ষা হতে হবে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ সমৃদ্ধ। সুশিক্ষা নিশ্চিতে পরিবার, সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সবাইকে সমানভাবে ভূমিকা রাখতে হবে।  প্রত্যেকটি মানুষকে শিক্ষিত নয়,বরং সুশিক্ষিত হয়ে গড়ে উঠতে হবে।


লেখকঃ-
মানছুরা আক্তার সাদিয়া
শিক্ষার্থী, সমাজকর্ম বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।