জবি বিতর্ক সংঘে ফের সুযোগ মিলছে প্রতিভাবান তার্কিকদের

  • 26 Dec
  • 07:49 PM

জবি প্রতিনিধি 26 Dec, 20

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) বিতর্ক সংঘ, জেএনইউডিএস-এ আবারও সুযোগ মিলছে প্রতিভাবান তার্কিকদের। গত একবছর ধরে তার্কিক বাছাইয়ে সেচ্ছাচারিতা ও যোগ্য তার্কিকদের অঘোষিত নির্বাসনে দেওয়ার অভিযোগ ছিলো কর্তাব্যক্তিদের বিরুদ্ধে।

ক্যাম্পাসে ভালো তার্কিক হিসেবে পরিচিতি থাকার পরও অনেক তার্কিককে জাতীয় ও বড় পর্যায়ে বিতর্কে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তার্কিকদের। অথচ বারবার ব্যর্থ হওয়ার পরও সুযোগ পেয়েছে বিশেষ কিছু সদস্য।

ফলস্বরূপ গত একবছরে বড়কোনো প্রতিযোগীতায় মেলেনি সাফল্য। সাফল্য বলতে শুধু ব্যাংক এশিয়া আয়োজিত বিতর্কে রানারআপ হলেও, সে আয়োজনটি ছিলো মাত্র ৮ দল নিয়ে।

এছাড়াও সংঘের হয়ে জাতীয় পর্যায়ের বিতর্কে সুযোগ না পাওয়া একদল তার্কিকরাই অর্জন করেছে আরও একটি রানার আপ ট্রফি। তবে দায়িত্বরতদের স্বেচ্চাচারিতায় সেই ট্রফির স্বীকৃতি মেলেনি জবির একমাত্র বিতর্ক সংগঠন জেএনইউডিএস-এর থেকে।

তবে পটপরিবর্তন সভাপতি রদবদলে। ছাত্রত্ব না থাকায় সভাপতি পদে জুনায়েদ ইমনের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন সহসভাপতি গালিব। নতুন সভাপতির হাত ধরে সুযোগ পেয়েই জাতীয় পর্যায়ের বিতর্কে বাজিমাত সেসব তার্কিকদের

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের আয়োজনে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ২৪ টি দলের সাথে অংশ নিয়ে রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে জবি টিম। দলের সদস্য ছিলেন, শারমিন নিশি, তৌফিকুল ও মুবাশ্বির।


এবিষয়ে তৌফিকুল বলেন, এর আগে সুযোগ পাই নি এটা নিয়ে অভিযোগ নেই, তবে এটা চাই জাতীয় পর্যায়ে বিতর্কে যোগ্যদের সুযোগ দেওয়া হোক, শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্কের জেরে অনভিজ্ঞদের সুযোগ না দেওয়াই ভালো কারন এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেজের ব্যাপার।

শারমিন নিশি বলেন, যেকোনরকম অর্জনই খুশির,তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে বিতর্ক করে ভালো করার আনন্দ অন্যরকম।সুযোগের আশায় ছিলাম অনেকদিন থেকেই। ঠিক কোন নিয়ম ফলো করে সুযোগের ক্রাইটেরিয়া নির্ধারিত হয় সেটা স্পষ্ট করে কেউই বলতে পারেনি বা জানেনা আমার মনেহয়।অনলাইনে যখন টীম পাঠানো শুরু হলো,কিছু মানুষ বারবার সুযোগ পাচ্ছিল।আমি সাংগঠনিক সম্পাদকের কাছে জানতে চাইলে বলেন,টীম সিলেকশন তার হাতে নেই,সে ভবিষ্যতে আমার নাম রিকমেন্ড করবেন।এরপর সভাপতির কাছে জানতে চাই এবং জানাই যে কোনরকম পরীক্ষা দিয়ে হলেও আমি দিতে চাই,আর বিতর্ক করতে চাই।উনি টীম সিলেকশনের প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে বলেন,আপাতত আর টীম পাঠাবোনা,যাদের পাঠিয়েছি তারা সবাই দীর্ঘদিন থেকে বিতর্কের সাথে আছে,ক্যম্পাস খোলার পর চারটা ফিক্সড টীম বানাবো।অবশেষে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গালিব ভাই দায়িত্বে এসেই সুযোগ করে দিলেন।

সাফল্য না পেলেও নিজের পক্ষেই কথা বলছেন সাধারণ সম্পাদক। সাধারণ সম্পাদক দ্বীন ইসলাম বলেন, করোনার মধ্যে তারা নিজেদের ডেভেলপ করেছে। একটা সংগঠন চালাইতে হলে সবাইকে স্পেচ দিতে হয়। আমার কাছে মনে হয় এই অভিযোগের সত্যতা নেই।

নতুন সভাপতি গালিব বলেন,একটা সংগঠন নিয়ে চালাচ্ছেন তাদের যোগ্যতা একটা জরুরি বিষয় আবার যে চালাচ্ছে তার যোগ্যতাও জরুরী বিষয়। আগে যাদের পাঠানো হয়েছে, তাদের প্রায় ৮০ ভাগই কমিটির সদস্য, ফলে বিতর্ক কমিটি নির্ভর হয়ে যায়। আমার কাছে প্রায় ১৬টা লিস্ট ছিলো তারমধ্যে কমিটির একজনই ১১/১২ বার। অন্যগুলোর অধিকাংশই কমিটির সদস্য, দুই-একজন বাইরের। ফলে কমিটির বাইরে যারা আছে ভালো বিতার্কিক তারা বঞ্চিত হয়েছে। আমার কাছে মনে হয়েছে, যারা ভালো বিতার্কিক তাদের সুযোগ না দেওয়া হলে তারা হতাশ হয়ে পড়বে। সবমিলিয়ে সংগঠনের ক্ষতি হবে। আমরা এখন যোগ্য বিতার্কিকদের জায়গা দিয়েছি এবং তারা সফলতা এনেছে।

মডারেটর সুমন মজুমদার বলেন, আমার কাছে এধরণের অভিযোগ আসেনি এখনও। আসলে অবশ্য ব্যবস্থা নিবো।

উল্লেখ্য, জেএনইডিএস বিতর্কে সংঘের কর্তাব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এরআগেও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। আন্তবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতা নিয়েও অভিযোগ তোলেন প্রতিযোগীরা। এছাড়াও সভাপতি পরিবর্তন নিয়ে সংগঠনকে না জানিয়ে সংগঠনের প্যাডে এককভাবে প্রতিবাদলিপি দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন কমিটির প্রচার সম্পাদক।