সিজারের প্রয়োজন জানাবে সফটওয়্যার

  • 17 Feb
  • 04:23 AM

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি 17 Feb, 20

ফেব্রুয়ারিতে আয়োজিত স্পিজনার এন্ড স্কোপাসের ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন সাইবার সিকিউরিটি এন্ড কম্পিউটার সায়েন্সে বেস্ট রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এপ্লাইড ম্যাথ ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থী কাওছার।

এই সম্মেলেনটি আয়োজন করে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ।

কনফারেন্সটির মুল ট্যাগলাইন ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সাইভার সিকিউরিটিতে নতুন আবিস্কারগুলো সামনে নিয়ে আসা। আর দেশকে নতুন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির স্পর্শে আনা। পৃথিবীর প্রায় ২০টির বেশি দেশ থেকে গবেষক, প্রফেসর, বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণাগুলো জমা দেন।

দেশের সেরা সব কয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তাদের গবেষনাগুলো জমা দেন। এরমধ্যে বেস্ট রিসার্চ অ্যাওয়ার্ডের তালিকায় স্থানে জায়গা করে নেন নোবিপ্রবির আহমেদ কাওছার।

তার গবেষণাটি ছিল মেশিন লার্নিং অ্যান্ড ডিপ লার্নিং ব্যবহার করে একজন গর্ভবতি নারীর ডেলিভারি মোড প্রিডেকশন করা যাবে।

কাওছার জানান, ২০১৯ সালে জুন মাসে তিনি একটি নিউজ দেখেছেন যেখানে রিপোর্ট করা হয়েছিল বাংলাদেশে সি-সেকশন ৫১% বেড়ে গিয়েছে শেষ ২ বছরে। যেখানে প্রতি বছরে ৪৮৩ মিলিয়ন ডলারে বেশি সি-সেকশনের পেছনে খরছ হচ্ছে যা একদম অপ্রয়জনীয়। ডাক্তার, মেডিকেল একধরনের মুনাফার লোভে ভয় সৃষ্টি করেছে সিজার করানোর জন্য।

তিনি জানান, এই গবেষণাটি একমাত্র করার ভিশন এবং মিশন হচ্ছে একজন ডেলিভারি রোগিকে কি সত্যি সিজার করা লাগবে নাকি নরমাল ডেলিভারিতে হবে সেটি এলগরিদম বলে দিবে। আমরা মেশিং লার্নিং এন্ড ডীপ লার্নিং ইউসড করে মোটামুটি নির্নয় করতে সক্ষম হয়েছি একজন ডেলিভারি রোগীর কি সত্যি সিজার করা লাগবে কিনা। এই ক্ষেত্রে আমারা ৮৯ পার্সেন্টের বেশি সঠিক প্রিডিকশন করতে সক্ষম হয়েছি।

কাওছার আরও জানান, যেহেতু ডাক্তার বা মেডিক্যালরা এই ধরণের আবিস্কারকে তাদের নিজেদের করে নিবেনা তাই তাদের মুনাফার ক্ষতি হবে। তাই ভবিষতে যদি কোন ফান্ড পাই তাহলে সেটি এমনভাবে প্রোডক্টে ডিজাইন করা হবে যেন মানুষ নিজেরাই ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে তাদের বেবি ডেলিভারিতে নর্মালে হবে নাকি সিজারে।

তাছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গবেষণায় কাওছারের আগে ৫ টি অ্যাওয়ার্ড ছিল। যার মধ্য ভারতে আসিসি-আইটি, রবি আর-ভেঞ্জার, রাজশাহী ইউনিভার্সির কিংবা বেসিসি আইসিটি এয়ার্ড উল্ল্যেখযোগ্য।

কাওছার জানান, এই গবেষণার জন্য আমাদের ডেটা নিয়ে অনেক বেশি সমস্যা ফেইস করতে হয়। শেষ পর্যন্ত নার্সিং অফিসার রায়হানা ইয়াসমিন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স তাড়াইল কিশোরগঞ্জ আমাদের এই কাজের জন্য সব চাইতে বেশি সহযোগিতা করছে। তার প্রতি আমরা অনেক কৃতজ্ঞ। অনেক ধন্যবাদ জানায় প্রফেসর ডক্ট্র বাবুল ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, অনিক ভাই এবং প্রত্যশাকে তার অক্লান্ত সহোযোগিতার জন্য।

কাওছার নোবিপ্রবির হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে চান বিশ্ব দরবারে। সে আশা নিয়ে কাওছার যোগদান করেছেন আমেরিকা ভিত্তিক একটি সফটওয়্যার ইন্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠানে।