সিগ্ধ বিকেলের গল্প

  • 14 Aug
  • 07:32 PM

ভার্সিটি ভয়েস ডেস্ক 14 Aug, 21

লকডাউন শেষ। আমি পুরান ঢাকায় থাকি বিধায় ভাবলাম ভিক্টোরীয়া পার্ক থেকে একটু হেটে আসি। কিন্তু এমন একটা অপ্রিতিকর অবস্থার মুখোমুখি হবো ভাবতে পারি নি। ভিক্টোরীয়া পার্কে গেলাম গিয়ে হাটাহাটি করছি। হাটাহাটির এক পর্যায়ে যখন ক্লান্ত হয়ে গেছি তখন একটা জায়গায় বসলাম। আমি ঠিক যেই জায়গায় টায় বসেছি তার উল্টোপাশেই বসেছে একটা মেয়ে আরেকটা ছেলে। বিশ্বাস করেন এমন অপ্রিতিকর একটা অবস্থা ছেলে টা মেয়ে টার এমন একটা জায়গায় ধরে বসে আছে, সেটা আমি এখানে বলতে নিজের কাছেই কেমন একটা লাগছে।

যাইহোক সেই মেয়ে আর ছেলেটার সামনে একজন আন্টি বসে ছিল। কিন্তু তারপরে ও সেই ছেলে আর মেয়ে টা কখনো হাতাহাতি করছে, ছেলেটা মেয়েটার হাতে চুমু খাচ্ছে, মেয়েটার লজ্জাজনক স্থানে হাত দিচ্ছি। সেটা দেখে সেই আন্টি সেই জায়গাটা থেকে উঠে গেলো। কিন্তু তারপরে ও সেই মেয়ে আর ছেলেটির টনক নড়লো না। কতটা বিবেকবুদ্ধি হীন ছেলে মেয়ে হলে
এমন কাজ করতে পারে ভাবুন একবার। সামনে দুইজন ছেলে সেই ছেলে মেয়ে গুলোকে দেখে টিটকারি মারছে। যেই আন্টি আর আংকেল গুলো পার্কে তখনো হাটাহাটি করছিল তারা ত লজ্জায় সেখানে তাকাতেই পারে নি।

এইসব দেখে যখন আর ভালোলাগছিল না তখন আমি নিজেই গেলাম পুলিশের কাছে যারা ভিক্টোরীয়া পার্কেই সার্বক্ষনিক সময় থাকে। তাদের কাছে গিয়ে বললাম পুরো ঘটনাটা। ঘটনা শুনে সে আমাকে বললো আমি কি করি? আমি আমার পরিচয় দিলাম বললাম আমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। তারপর সে বললো আপনার কলেজ আমি বললাম কবি নজরুল থেকে ইন্টার পাশ করেছি। এটা শুনে সে বললো তাহলে এগুলো ত কমন ব্যাপার আপনার জানার কথা। তারপরে সে আমাকে ইংলিশে কতগুলো লাইন বললো। তারপরে বললো ভাই আপনি শিক্ষিত ছেলে এদের ব্যাপারে কি বলবেন এরা বিবেকবুদ্ধি হীন।

তারপর সেই পুলিশ অফিসার টা বললো আমি এই ছেলে মেয়েগুলো কে আগে থেকেই লক্ষ্য করছি । তারা এইরকম অস্যভতা করছে। তারপর অবশেষে পুলিশ অফিসার টা আমাকে বললো ভাই আপনি একটা কাজ করেন আপনি তাদের সামনে যান সামনে গিয়ে একটা সালাম দেন দিয়ে বলেন আমি ডাকছি। আমি ও সেই কাজটি করলাম। তাদের সামনে গিয়ে সালাম দিলাম এবং বললাম পুলিশ অফিসার স্যার আপনাদের ডাকছে। তারপর সেই ছেলে আর মেয়ে টা সেটা শুনে পার্ক থেকেই চলে গেছে। তারপর আমি আর সেই পুলিশ অফিসার মিলে হাসলাম। পুলিশ অফিসার টা বললো লজ্জা পেয়েছে।

এখন আমার কথা হলো প্রেম ত সবাই করে কমবেশি কিন্তু পার্কে ছেলে মেয়ে গুলো যা করলো সেটা ত অসভ্যতা। এবং আরেকটা মজার ব্যাপার কি জানেন, অসভ্যতা করলো ছেলে আর মেয়ে টা আর গালিগালাজ শুনলো তাদের মা-বাবা। এইরকম অবস্থা প্রত্যেকটা পার্কেই কিন্তু এইসব দেখে সবাই নিরব, সবার অভ্যাস হয়ে গেছে এগুলো দেখে। তাই হয়তো মা বাবা সমান লোক গুলো ও এগুলো দেখে নিরব থাকে, চুক্ষুলজ্জায় সেই দিকে তাকায় ও না। আজকে আমরা পরিমনি কে নিয়ে ট্রল করছি সেই দিন টা বেশি দূরে নয় যেদিন এই ছেলে মেয়ে গুলো কে নিয়ে মানুষ ট্রল করবে। হয়তো ওদের গায়ে তখন ও কিছুই লাগবে না কারন ওরা ত বিবেকবুদ্ধি হীন কিন্তু লাগবে ওদের মা-বাবাদের গায়ে। ওদের কারনে ওদের মা-বাবা কে মানুষের কটু কথা শুনতে হবে। তাই তাদের মতো ছেলে মেয়ে গুলোর কাছে আমার একটাই অনুরোধ আপনার মা-বাবাকে অন্যের চোখে আর ছোট করবেন না।

লেখকঃ-
শুভ দে
পড়াশোনা: ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগ, ২য় বর্ষ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।