সামাজিক ও মানসিক চাপ এবং করণীয়

  • 08 July
  • 06:00 AM

রাকিবুল হাসান সৌরভ, শিক্ষার্থী- মনোবিজ্ঞান বিভাগ (ঢাবি) 08 July, 20

ব্যক্তিজীবনে আমাদের অনেকেই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত হয়ে জীবন নিয়ে হতাশ হয়ে পড়ে। অনেকসময় সুইসাইডাল বা আত্মঘাতী চিন্তাভাবনা ও শুরু করে! তখন তাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য দরকার সঠিক সময়ে সঠিক সামাজিক ও মানসিক সাপোর্ট বা সমর্থন।
আমরা কিভাবে কাউকে সামাজিক ও মানসিকভাবে সাপোর্ট দিতে পারি?

- আমার ডিপার্টমেন্টেরই একটা মেয়ে দেখলাম একবার হঠাৎ করেই চুপসে গেছে! কারো সাথেই কথা বলে না এবং খুব স্ট্রেসড লাগে দেখতেই। অথচ দুইদিন আগেও খুব প্রাণচঞ্চল ছিল। আমি ব্যাপারটা লক্ষ্য করে তার সাথে কথা বলতে গেলাম তো কথা বলল না। তার কাছের বন্ধুদের জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছে ওর। দেখলাম ওরাও কিছু জানে না। জানার চেষ্টাও নাকি ওইভাবে করে নি। বরং ওকে একা থাকতে দিয়ে "স্পেস" দিচ্ছিল! যা একটা মানসিক চাপভোগী মানুষ কখনোই মন থেকে চায় না। তারা চায় তার আপন মানুষগুলো এসে তার সাথে কথা বলুক, ধৈর্য্যসহকারে তার কথা শুনুক। ওর সাথে পরে অনেক চেষ্টায় কথা বলে এই ব্যাপারটাই বোঝলাম! পরে আমি যে সাপোর্টটা দিয়েছিলাম ওটা আসলে ওর কাছের মানুষজনদের দেয়াই খুব দরকার ছিল।

- আচ্ছা, আপনার জীবনে কি এমন মানুষজন আসলেই আছে যাদেরকে আপনি সবসময় পাবেন যখন আপনার কথা বলা বা কোন অনুভূতি শেয়ার করা একান্তই প্রয়োজন!
অথবা এমন কেউ কি আছে যাকে আপনি কল দিয়ে আপনার জীবনে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ কোন ঘটনা মুহুর্তেই শেয়ার করতে পারবেন?
অনেকেরই কিন্তু সেটা নেই! কিন্তু তাদেরও কারো না কারো সাপোর্ট খুবই প্রয়োজন!

- সোশ্যাল সাপোর্ট হল আপনার পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী এবং অন্যরা আপনাকে দেওয়া শারীরিক এবং মানসিক স্বাচ্ছন্দ্য। এটি এমন ব্যাপার যা আপনি যে সম্প্রদায়ের অংশ তারা আপনাকে ভালবাসে এবং আপনার প্রতি যত্নবান হয়, আপনাকে মূল্য দেয় এবং আপনাকে ভাল চিন্তা করে।

সোশ্যাল সাপোর্ট বা সামাজিক সমর্থন বিভিন্ন ভাবে দেয়া যেতে পারে। তার চারটি প্রধান পদ্ধতি গুলো হলঃ

মানসিক সমর্থনঃ
কেউ সোশ্যাল সাপোর্ট এর কথা বললে প্রথমেই আমরা এটি চিন্তা করি। আপনি কাউকে মানসিক সাপোর্ট দিতে চাইলে তাদের কথা শোনার সময় সহানুভূতি দেখান এবং তাদের বলে অথবা ইঙ্গিতে বোঝান যে আপনি তাকে আসলেই কেয়ার করেন।
উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি আপনার সঙ্গী থেকে পৃথক হয়ে যান বা আপনার চাকরিটি হারাতে থাকেন তবে কোনো ঘনিষ্ঠ বন্ধু আপনাকে মানসিক এবং শারীরিক স্বাচ্ছন্দ্যের প্রস্তাব দিতে পারে। যেমন আলিঙ্গন করা বা প্রতিদিন কল করে প্রথম কয়েক সপ্তাহ কেবল আপনি কী করছেন তা দেখার জন্য। এভাবেই কাউকে মানসিক বা ইমোশনাল সাপোর্ট দেয়া যায়।

প্র‍্যাক্টিক্যাল হেল্প বা ব্যবহারিক সহায়তাঃ
আপনার কাছের কেউ যদি প্রবল অর্থকষ্টে ভুগে তাহলে তার প্রতি যত্নশীল লোকেরা মিলে তকে প্র‍্যাক্টিক্যালি বা ব্যবহারিকভাবে সহায়তা যেমন অর্থ বা খাবার উপহার, চলতে ফিরতে সহায়তা দিতে পারেন। এই জাতীয় সহায়তা তাকে তার প্রতিদিনের জীবনের কাজগুলি সম্পূর্ণ করতে এবং তার কিছু দৈনন্দিন স্ট্রেসারকে স্বাচ্ছন্দ্য করতে সহায়তা করে।

দৃষ্টিভঙ্গি ভাগ করে নেওয়াঃ
আপনি কারো প্রতি আস্থা প্রকাশের মাধ্যমে বা তাকে উত্সাহিত করে সহায়তা করতে পারেন। আপনি তকে তার শক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিতে পারেন এবং তাকে পরিস্থিতি সম্পর্কে সহায়ক এবং বাস্তবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারেন।
উদাহরণস্বরূপ, আপনার কাছের কেউ কোনো কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার তার শক্তি এবং তার অতীতের সাফল্যের কথা তাকে মনে করিয়ে দিতে পারেন। এতে করে তার আত্মবিশ্বাস প্রবল হয়ে উঠবে এবং সাফল্য লাভের জন্য তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ!

তথ্য দিয়ে সহায়তা করা ঃ
কোন নির্দিষ্ট ব্যাপারে অভিজ্ঞ কেউ যখন ঐ পরিস্থিতিতে তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে, এটি খুব সহায়ক হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, যে কেউ ইতিপূর্বে চাকরি হারিয়েছে সে নেটওয়ার্কিংয়ের জন্য সংস্থানগুলি বা পরিবর্তনের সাথে মোকাবিলা করার টিপস দিতে পারে। সম্প্রতি বিয়ে করা কোনও বন্ধু তাদের বিবাহের ব্যয় এবং আপনার বাজেটের সাথে কীভাবে সামঞ্জস্য করতে হবে তার টিপস সরবরাহ করতে পারে, বৈবাহিক জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অজানা দিক আপনার কাছে উল্লেখ করে আপনাকে সহায়তা করতে পারে। অথবা আপনিও যদি অভিজ্ঞতা সম্পন্ন হয়ে থাকেন আপনিও এভাবে কাউকে তথ্য দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলো মোকাবিলা করতে সহায়তা করতে পারেন।

এভাবে আপনি আপনার আশেপাশের মানুষগুলোকে বিভিন্ন সামাজিক ও মানসিক চাপ মোকাবিলায় সহযোগিতা করতে পারেন।