মান উন্নয়নের ফল না পাওয়ায় কপাল পুড়ছে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের

  • 21 Dec
  • 12:01 AM

নিজস্ব প্রতিবেদক 21 Dec, 21

ডিগ্রির মান উন্নয়নের ফল না পাওয়ায় মাস্টার্সে ভর্তি হয়েও ফ্রম ফিলাপ করতে পারছেন না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অন্তর্ভুক্ত সাত কলেজের ডিগ্রির ২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থীরা। এতে বিপাকে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, চলতি বছরের মার্চ-এপ্রিল এ মান উন্নয়নের পরীক্ষা দিলেও এখন ও ফলাফল পাচ্ছেন না শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষা গ্রহণের ৯০ দিনের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা না করায় শর্ত সাপেক্ষে মাস্টার্সে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বসা এখন অনেকটাই অনিশ্চিত।

এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর ফলাফল প্রকাশের আবেদন করে ইমেইল করলেও কোনো সুরহা পাচ্ছেন না শিক্ষার্থীরা।

ঢাবির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর আবেদনপত্রে শিক্ষার্থীরা বলেছেন, আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত কবি নজরুল সরকারি কলেজের প্রিলি মাস্টার্স ১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। আমরা মাস্টার্স প্রথম বর্ষে এই শর্তে ভর্তি হয়েছিলাম যে আমরা যারা ডিগ্রী শেষ বর্ষ এক বা দুই বিষয়ে ফেল করেছিলাম তারা যদি ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষায় পাস করতে পারি তবে আমাদের কে মাস্টার্সে ফরম ফিলাপ করার সুযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু এখন আমরা এক জটিল সমীকরণের সম্মুখীন হয়েছি। আমরা যারা ডিগ্রিতে ১/২ বিষয়ে ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষা দিয়েছিলাম তাদের রেজাল্ট প্রকাশ করার আগেই মাস্টার্স এর ফরম ফিলাপের নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই মাস্টার্স এর পরীক্ষা রুটিন দিয়ে দেয়া হয়েছে।

আবেদন পত্রে শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন রেখেছেন যে, তাদেরকে শর্তসাপেক্ষে ভর্তি করা হয়েছিল ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষায় পাশ করতে পারলে আমাদেরকে মাস্টার্স ফরম ফিলাপের সুযোগ দেয়া হবে। যেহেতু আমাদের ইম্প্রুভ পরীক্ষার রেজাল্ট দেয়নি তাহলে আমরা কিভাবে এখন ফরম ফিলাপ করবো?

শিক্ষার্থীদের ধারণা, তাদের দিক বিবেচনা না করেই এই ফরম ফিলাপের সময় প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের এই সমস্যা সমাধানের জন্য খুব শীঘ্রই সদয় দৃষ্টি দেয়ার আহবান জানান তারা। অন্যথায় তাদের শিক্ষাজীবন আবারও নতুন এক জটিলতার সম্মুখীন হবে বলে ধারণা করছেন তারা।

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি সাত (৭) কলেজের ২০১৮ সনের মাস্টার্স প্রথম পর্ব নিয়মিত, অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন পরীক্ষা আগামী ৩ জানুয়ারি, ২০২২ তারিখ হতে অনুষ্ঠিত হবে বলে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর।

ভুক্তভোগী কবি নজরুল সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রিলি মাস্টার্স শিক্ষাবর্ষের (২০১৭-১৮) শিক্ষার্থী মো. নাহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের তিন বছরের ডিগ্রি পরীক্ষা। এটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আনা হয়েছে। এটি করতে লেহেছে দুই বছর। করোনায় ক্ষতি হয়েছে এক বছর। আমাদের ডিগ্রি শেষ করতে প্রায় আট বছর লেগে যাচ্ছে। এখন আবার যদি এ বছর আমরা পরীক্ষা দিতে না পারি তাহলে আরো এক বছর লছ। আমাদের চাকরির বয়স ও শেষ হয়ে যাচ্ছে।

একই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী শফিকুল ইসলাম সুমন বলেন, আমাদের যেহেতু শর্ত সাপেক্ষে ভর্তি নেয়া হয়েছে। তবে ফলাফলের জন্য পরীক্ষায় বসতে না দেয়া অমানবিক। এতোদিন পর যদি ফলাফলের জন্য আমরা পরীক্ষাই দিতে না পারি, তাহলে আমরা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়েই ভর্তি হয়ে যেতাম। আমাদের সময় নষ্ট করার কোনো মানেই হয় না। প্রশাসনের এ ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টির আহবান জানাচ্ছি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বাহালুল হক চৌধুরী বলেন, অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে আমরা নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েছি। নতুন করে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা কোনো ধরনের সেশনজটে পড়বে না।

মান উন্নয়নের ফলাফলের বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি দেখবেন।

বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসা করলে কবি নজরুল সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ ড.খালেদা নাসরিন বলেন, আমি কথা বলেছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। উনারা বলেছেন যে তারা সংশ্লিষ্ট বিভাগে কথা বলবে। তারপর জানাবে, কিন্তু তারপর আর জানায়ই নাই। পরবর্তীতে উনাদের আবার ও জানানো হয়েছে। উনারা আবার ও বলছেন বিষয়টি দেখবেন, যত দ্রুত সম্ভব এটা করবে এটা জানিয়েছে। সমস্যাটি সমাধানের জন্য আমি আগামীকাল আবার ও যোগাযোগ করবো।