সবুজের বুকে লাল বেঁচে থাকুক চিরকাল

  • 26 Mar
  • 05:15 AM

খাদিমুল বাশার জয়, এম.ফিল গবেষক (ঢাবি) 26 Mar, 20

লাল-সবুজের পতাকার দিকে তাকালেই এক ধরণের দৃঢ়প্রত্যয় কাজ করে। মনে হয় অনেক অব্যক্ত কথা ধারণ করে রেখেছে পতাকাটি। পরিচয় করিয়ে দেয় স্বাধীন সার্বভৌম একটি রাষ্ট্রের। মনে করিয়ে দেয় আমরা মুক্ত স্বাধীন জাতি, যে জাতি মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। অধিকার অর্জনে সচেষ্ট এক জাতি, যে জাতি স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে জানে। দীর্ঘ নয় মাসের সংগ্রামের ফসল আমাদের স্বাধীনতা। আর এই নয় মাসের বিনিময়ে বিশ্ব চিনলো এক নতুন দেশ, নতুন জাতিকে। নতুন করে জানালো কাঁদামাটির নরম এ মানুষগুলো নিজেদের অধিকার আদায়ে বাঘের হুঙ্কার দিয়ে কাঁপিয়ে দিতে পারে বিশ্ব। যে কোন অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলতে পারে। স্বাধীনতার জন্য যখন মন ছুটে যায় তখন কোন মারণাস্ত্রই বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। পুরো বিশ্ব সে দৃশ্য অবলোকন করেছে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে। ২৫ মার্চের পাক হানাদার বাহিনীর অতর্কিত হামলার যথোপযুক্ত জবাব দেয় বাঙালি। ২৬ মার্চ ঘোষণা করা হয় স্বাধীনতা। আর তাই স্বাধীনতা দিবস আজও তরুণ প্রজন্মের কাছে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। প্রেরণা যোগায় নিষ্ঠার পথে নির্ভীক যোদ্ধা হওয়ার। শুধু একটি দিবস হিসেবে নয়, এর বর্ণোচ্ছটায় বদলে যায় জীবনের গতিপথ, সাহস যোগায় নতুন শপথ নেয়ার। আর এ কারণেই স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য এতো বেশি। বর্তমান সময়েও এর প্রভাব প্রতিদিনের পথ চলার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। প্রতি মুহূর্ত মায়াবী এক আবহে জড়িয়ে রাখে।

মুক্তিযুদ্ধের এ অধ্যায় থেকে শুধু প্রেরণা নিলেই হবে না। আমাদেরকে গড়ে উঠতে হবে সেই দীক্ষায়। নিয়োজিত রাখতে হবে দেশ গড়ার কাজে। ছোট্ট শিশুটিকে বোঝাতে হবে দেশ ও দেশের মাটির মর্যাদা, শহীদদের মর্যাদা, তাঁদের প্রতি আমাদের ঋণ; বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন সমস্ত কিছু।

সমগ্র পৃথিবী আজ একটা ভয়াবহ অবস্থার মুখোমুখি। পৃথিবীর ব্যস্ততম শহরগুলোতে আর ব্যস্ততা নেই। অদৃশ্য এক ভাইরাসের আতঙ্কে সাতশ কোটি জনসংখ্যার এই পৃথিবীটাকে বড় বেশি অচেনা মনে হয় । এই মেঘাচ্ছন্ন সময়ের পৃথিবীর মলিন চেহারায় আলোকরশ্মি দেখা দিবে সময়ের ব্যবধানে। মেঘ কেটে যাবে, কিন্তু থেকে যাবে সংকট। পৃথিবীজুড়ে এই সংকট অনিবার্য। সমগ্র পৃথিবী জুড়ে বয়ে যাওয়া ঝড় পরবর্তী সময়ের সংকট মোকাবিলায় সকলের মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন হবে। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের দায় রয়েছে মহামারী পরবর্তী সংকট মোকাবিলায় রাষ্ট্রযন্ত্রকে সহায়তা করার। নিজের প্রয়োজন মেটানোর পূর্বেই যে দেশের প্রয়োজন মেটাতে হবে সে শিক্ষা তো আমরা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ থেকেই পেয়েছি।

জীবনানন্দের ভাষায় পৃথিবী আজ গভীরতম অসুখে আক্রান্ত। এই গভীরতম অসুখের পরবর্তীতে রয়েছে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশকেও এই অসুখ পরবর্তী সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। আর সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সরকারের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের সারথীদের এগিয়ে আসতে হবে। বিজ্ঞানী আইজ্যাক নিউটন বলেছেন, " আমি যদি মানুষের জন্য কিছু করে থাকি তবে তা সম্ভব হয়েছে আমার ধৈর্য ধরে চিন্তা করার ক্ষমতার মাধ্যমে।" আজ সময় এসেছে করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার। মহামারী করোনাকে পরাজিত করতে ধৈর্য ধরে এগিয়ে যেতে হবে।
বর্তমান সময়ে আমাদের ভালো থাকতে হবে। এই ভালো থাকা শুধু নিজের জন্য নয়। পরিবারের জন্য, সমাজের জন্য, দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য। মনে রাখতে হবে, সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।

আমরা যেহেতু মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশ, দেশের মাটি ও বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসি সেহেতু মহামারী পরবর্তী যেকোন সংকট থেকে উত্তরণ আমাদের পক্ষে সম্ভব।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের লগ্নে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সকল বীর শহীদের প্রতি অতল শ্রদ্ধা।