শোক হোক পথ চলার শক্তি

  • 15 Aug
  • 12:47 PM

ভার্সিটি ভয়েস ডেস্ক 15 Aug, 21

শোকাবহ ১৫ই আগস্ট আজ। জাতীয় শোক দিবস৷ বাঙালি জাতির কাছে এক শোকের দিন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬ তম শাহাদাতবার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের এ দিনে বাংলাদেশ ও স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ধানমন্ডির ৩২ নাম্বার নিজ বাসায় সপরিবারে হত্যা করা হয়। রচিত হয় বাঙালির ইতিহাসে এক কলঙ্কিত অধ্যায়। সেসময় বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। প্রতি বছর তাই ১৫ আগষ্ট জাতি গভীর শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারকে।

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শেখ লুৎফুর রহমান ও সায়েরা খাতুনের আদরের 'খোকা' তার সংগ্রামী চেতনার দ্বারা বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক হয়ে উঠেছিলেন।

গোপালগঞ্জ থেকে স্কুল জীবন শেষ করে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হন। ১৯৪৭ সালে এ কলেজ থেকেই বি.এ পাশ করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। ছাত্র থাকাকালীন অবস্থায়ই তিনি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি ছিলেন এক সংগ্রামী নায়ক। ১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট বিজয়ী হলে তিনি মন্ত্রী হন। কিন্তু পরবর্তীতে যুক্তফ্রন্ট ভেঙে দেওয়ার ফলে ১৯৫৫ সালে গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। এ নিয়ে দুইবার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন৷ ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের সামরিক শাসন জারি হলে তিনি গ্রেফতার হন এবং ১৯৫৯ সালে মুক্তি পেলেও তাকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়। ১৯৬৬ সালে ৬ দফার প্রণয়নকারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারী রেসকোর্স ময়দানের এক বিশাল সমাবেশে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করা হয়। এরপর ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার উপস্থিতিতে তিনি ঘোষণা করেন,
"এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম
এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম"
তাঁর বজ্রকণ্ঠে দেওয়া এমন ঘোষণাতেই বাঙালি জাতি উজ্জীবিত হয়ে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার খবরে গোঁটা বিশ্বে নেমে আসে শোকের ছাঁয়া। বঙ্গবন্ধু হত্যায় পশ্চিম জার্মানির নেতা নোবেল পুরষ্কার বিজয়ী উইলি ব্রানডিট বলেন,
"মুজিবকে হত্যার পর বাঙালিদের বিশ্বাস করা যায় না। যে বাঙালি মুজিবকে হত্যা করতে পারে সে যেকোন জঘন্য কাজও করতে পারে"
১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট বাঙালি জাতির ইতিহাসে যে কলঙ্কিত অধ্যায় রচিত হয় তা ৩৫ বছরের বেশী সময় পর ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি মধ্যরাতের পর পাঁচ খুনির ফাঁসি কার্যকরের মাধ্যমে কলঙ্কমুক্ত হয়। তবে কিছু খুনী বিভিন্ন দেশে পলাতক থাকার কারণে বাকী খুনীদের সাজা কার্যকর হয় নি।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার যা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন তাঁর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে হত্যা করা হলেও তিনি বাঙালির হৃদয় থেকে মুছে যান নি। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে তিনি হৃদয়ে রয়ে যাবেন আজীবন। কবিতার ভাষায় তাই বলতে চাই,
"শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি তোমায় শেখ মুজিব
ভক্তি ভরে সালাম জানাই অতীব অতীব"


লেখকঃ-
সাদীয়া নওশীন
শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।