‘শৈশব স্মৃতিতে রিমঝিম বর্ষার অনুভূতি’

  • 27 June
  • 11:34 AM

ভার্সিটি ভয়েস ডেস্ক 27 June, 21

বাংলাদেশ নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুর দেশ। এদেশে মৌসুমি আবহাওয়া বিরাজ করে। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপদাহের পরেই বাংলার প্রকৃতিতে আসে বর্ষা। আমাদের দেশে মোট বৃষ্টিপাতের শতকরা আশি ভাগ বৃষ্টি হয় বর্ষাকালে। প্রকৃতপক্ষে বৈশাখ মাসের শেষ থেকে শুরু করে কার্তিক মাসের প্রথম পর্যন্ত বর্ষার দাপট থাকে। বাংলার প্রকৃতিতে ছয় ঋতুর মধ্যে বর্ষা দ্বিতীয় ঋতু। সাধারণত আষাঢ় ও শ্রাবণ মাস বর্ষাকাল হলেও কখনো তার আগেই রিমঝিম বৃষ্টি শুরু হয়ে থাকে।

বর্ষাকালে বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় মৌসুমি বায়ু। এ বায়ু বঙ্গপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প বয়ে আনে। আর জলীয় বাষ্প বৃষ্টি হয়ে ঝরে। সারাদিন আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা বিদ্যমান থাকে। হুর মুড় করে মেঘ ডাকে। আর বিদ্যুৎ চমকায়, বজ্রপাত হয়। কিন্তু অবাক বিষয় হলো এ বজ্রপাত হতে ১-২ সেকেন্ড সময় লাগে। বর্ষার পরশ পেয়ে প্রকৃতি নবজীবন ফিরে পায়। সতেজ, সবুজ, নির্মল হয় গাছপালা। বর্ষা বাংলার প্রকৃতিকে নতুন রুপ উপহার দেয়। ফুল, ফল, পল্লবে ভরে ওঠে প্রকৃতি। এসময় কদম, কামিনী, জুঁই, গন্ধরাজ, রজনীগন্ধা, বেলী, টগর ফুল ফোটে। তাদের সুগন্ধে মন মাতোয়ারা হয়ে যায়।

এছাড়া আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠাল পাওয়া যায় এসময়। অন্যান্য ফলের মধ্যে জাম, লিচু, জারুল, ডালিম, লেবুসহ অনেক ফল ফলে। চর্তুদিকে নদীনালা, খালবিল, পুকুর ডোবা পানিতে ভরে থৈ থৈ করে। অনেক জমিতে পলি জমে। এতে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। সারাদিন বন্দি ঘরে কত সুখের স্মৃতি মনে পড়ে। মনে পড়ে অতীতের হারানো দিনগুলো। শৈশবের কাটানো সময়। বৃষ্টি আসলেই সবার একসাথে ভেজার আনন্দ। বারবার ফিরে পেতে মন চায় ছোটবেলার জীবন, যেখানে কোনো বাধাবিঘ্ন ছিল না। স্কুল থেকে ফেরার পথে কচুর পাতা মাথায় দিয়ে বাড়ি ফেরার অনুভূতি প্রকাশ করা যায় না। কচুর পাতার উপর টিপটাপ বৃষ্টির শব্দ অবুঝ মনকে অশান্ত করে দিত। "নীরবে মিস করি শৈশব, সে ছিল যেন ইদ উৎসব।" বর্ষার এই আনন্দ শুধু শিশুরা উপভোগ করতো না।

পরিবারের বৃদ্ধ মানুষেরা অনেক গল্প বলত। আষাঢ়ের আকাশে মেঘ জমলেই বৃষ্টি। আর বৃষ্টিতে চর্তুদিকে কোলাব্যাং ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর করে। হঠাৎ করে আবার আসমানে রঙধনু দেখা দেয়। তবে বাংলার প্রকৃতিতে বৃষ্টির পরেই রঙধনু উঁকি দেয় আসমানে। মেঘের জলক্ণা যখন চিকচিক করে তখন সেই জলক্ণা রঙধনু সৃষ্টি করে। আর সূর্যের আলোতে তা দৃশ্যমান হয়। রঙধনুতে সাতটি রঙের সমাহার, যাকে আমরা সংক্ষেপে বলি আসলহবেনিক। অর্থাৎ আসমানী, সবুজ, হলুদ, বেগুনি, নীল, কমলা আর লাল। এর মধ্যে তিনটি মৌলিক রঙ থাকে আসমানী, সবুজ আর লাল। তবে রঙধনুর ব্যাপ্তি খুব অল্প সময় থাকে।

বর্ষার যেমন কল্যাণকর দিক আছে, তেমনি খারাপ দিক আছে। সারাদিন তীব্র বর্ষণের ফলে দিনমজুর, খেটে খাওয়া মানুষের অভাব দেখা দেয়। এসময় অনেক পানিবাহিত রোগ দেখা দেয়। নদীভাঙন হয়। ফলে অনেক মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে। তাদের দুঃখের সীমা থাকে না। কিন্তু বর্ষা সীমিত নেতিবাচক প্রভাব থাকলেও বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ। এ ঋতু বাংলাদেশের জন্য খুবই উপকারী। কৃষকেরা আউশ ধান ঘরে তোলে। এদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল পাট জন্মে এই বর্ষাতেই। তাই আমার কাছে বর্ষাকাল প্রিয় ঋতু হয়ে থাকবে।


লেখক: মোঃ আবদুল্লাহ আলমামুন
শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা