শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে হাবিপ্রবিতে মানববন্ধন

  • 24 May
  • 03:40 PM

আব্দুল্লাহ আল মুবাশ্বির, হাবিপ্রবি প্রতিনিধি 24 May, 21

স্বাস্থ্যবিধি মেনে অবিলম্বে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) অধ্যয়নরত সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সোমবার (২৪ মে) সকাল ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক ও প্রশাসনিক ভবনের সামনে তারা এ মানববন্ধন করেন। মানববন্ধন শেষে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. মোঃ ফজরুল হকের মাধ্যমে উপাচার্য অধ্যাপক ড. বিধান চন্দ্র হালদার (রুটিন দায়িত্ব) বরাবর একটি স্বারকলিপি দেন।

স্বারকলিপিতে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে চারটি দাবি জানানো হয়।

১. স্বাস্থ্যবিধি মেনে আটকে থাকা সকল সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা স্ব-শরীরে গ্রহণ করা হোক।
২. অতিদ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল আবাসিক হল খুলে দেয়া হোক।

৩. অতিদ্রুত প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ভ্যাক্সিনেশনের আওতায় আনা হোক।

৪. সেশন জটের হাত থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষায় অতিদ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হোক।

মানববন্ধনে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো: শফিউল আজম অপু বলেন, 'একটি দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য অর্থনীতির যেমন ভূমিকা রয়েছে তেমনি শিক্ষারও গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু করোনাকালীন সময়ে শিক্ষা ব্যবস্থা ভঙ্গুর অবস্থায় পরিণত হয়েছে'।

আবার ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী জুলকিফল বলেন, 'কাল বিলম্ব না করে অতি দ্রুত স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের হলসমূহ খুলে দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি । সেই সাথে অবিলম্বে পরীক্ষা সমূহ স্ব-শরীরে নেয়ার জন্য শিক্ষামন্ত্রানালয়, ইউজিসি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগ কামনা করছি। সেই সাথে আমরা ৪৮ ঘন্টার আন্টিমেটাম দিয়েছি। এই সময়ের মাঝে আমাদের দাবি আদায় না হলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাবো'।

মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন উত্তম কুমার পাল, ডেভিড, শাকি, নাহিদ, মামুন, শাহজাহানুর আলন সহ আরো অনেকে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রুটিন উপাচার্য বলেন, 'আমরা শিক্ষামন্ত্রনালয়ের দিকে তাকিয়ে আছি। তারা প্রজ্ঞাপন দিলেই আমরা অতি অল্প সময়ের মাঝে ডীন কমিটির মিটিং এ বসে পরীক্ষা নেয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারবো। মন্ত্রানালয় যদি স্ব-শরীরে পরীক্ষা নেয়ার ব্যাপারে সুপারিশ করে তবে স্ব-শরীরে পরীক্ষা নেয়া হবে। অন্যথায় যদি অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার ব্যাপারে সুপারিশ করে তবে অনলাইনে পরীক্ষা নেয়া হবে। শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান থাকবে তারা যাতে লেখাপড়ার মধ্যেই থাকে। কারণ আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যাশা করছি দ্রুতই একটি সিদ্ধান্ত আসবে'।

অন্যদিকে সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বে থাকা ইউজিসির সদস্য প্রফেসর ড. দিল আফরোজা বেগম বলেন, 'আমরা গতসপ্তাহে শিক্ষামন্ত্রনালয়ে একটি প্রস্তবনা পাঠিয়েছি। আশা করছি এ সপ্তাহের মধ্যেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা গ্রহণের ব্যাপারে প্রজ্ঞাপন জারি করবে। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের একাডেমিক কাউন্সিল ডেকে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত সমূহ গ্রহণ করা সহজতর হবে। তবে করোনা সংক্রমণ ৫% এর নিচে না নামা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা স্ব-শরীরে পরীক্ষা দিতে পারবে না অন্যথায় অনলাইনে পরীক্ষা দিতে হবে শিক্ষার্থীদের। অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার ব্যাপারে আমরা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বিবেচনায় কিভাবে পরীক্ষা সমূহ নেয়া যায় সেব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি।পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা যাতে সাশ্রয়ী মূল্যে ইন্টারনেট কিনতে পারে (২০০ টাকার বিনিময়ে ৩০ জিবি ইন্টারনেট) সে ব্যাপারে মোবাইল অপারেটরদের সাথে চুক্তি করা হয়েছে। মূলত গতবছর এপ্রিলে ১৯০০ শিক্ষার্থী ও ৭০০ শিক্ষকের উপর জরিপ চালিয়ে আমরা সার্বিক বিষয়ে সকল সমস্যা জানার চেষ্টা করেছি। এর প্রেক্ষিতেই মূলত শিক্ষার্থীদের সফটলোন দেয়া হয়'।

তিনি শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিনের আওতায় আনার ব্যাপারে বলেন, 'আমি ব্যক্তিগতভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কে অনুরোধ জানিয়েছি যাতে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খোলার জন্য ১০ লাখ ভ্যাকসিন দেয়া হয়। তবে অতিসম্প্রতি যে ভ্যাকসিন দেশে আসতেছে সেগুলো মেডিকেলের ছাত্রদের দেয়া হবে বলে জানতে পেরেছি। তবে এরপর কোনো ভ্যাকসিন পাওয়া গেলে সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের যাতে করোনার টিকা দিতে হয় সেব্যাপারে আমরা চেষ্টা চালাবো'।

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে দুপুর সোয়া ১২ টায় দিনের কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।