শিক্ষার্থীদের টাকায় ঢাবির ট্যুরিজম বিভাগে শিক্ষকদের ভোজন বিলাস

  • 09 July
  • 09:52 PM

ভার্সিটি ভয়েস ডেস্ক 09 July, 21

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এর ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে শিক্ষার্থীদের টাকায় বিভাগের চেয়ারম্যান শিপের দ্বায়িত্ব হস্তান্তরে ভোজন বিলাসের অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট বিভাগের একাধিক শিক্ষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিভাগের বর্তমান চেয়ারম্যান গত ৩০ জুন দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ উপলক্ষে বিভাগে ভোজন বিলাসের আয়োজন করা হয়। এতে ব্যবহার করা হয় বিভাগের টাকা। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন খোদ বিভাগের চেয়ারম্যান নিজেই। তিনি বলেন, এটা আমাদের বিভাগের ঐতিহ্য (ট্রেন্ড) যে, যখন কেউ দায়িত্ব গ্রুহণ করে তখন বিভাগে মিষ্টি মুখ করানো হয়। তবে ছবিতে দেখা যায়, বিভাগের শিক্ষকগণ স্বাস্থ্য বিধি মানার ক্ষেত্রে শিথিলতা দেখিয়েছেন।

এদিকে একাধিক শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা, বর্তমান চেয়ারম্যান ড. সন্তোষ কুমার দেব এর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ।
বিভাগের এমবিএ ১২ তম ব্যাচের একাধিক শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের ১ম সেমিস্টার কার্যক্রম গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে চলতি বছরের ফ্রেব্রুয়ারিতে শেষ হয়।কোর্স শেষ হওয়ার পাঁচ মাস পরও পরীক্ষা নেওয়া হয়নি।পরীক্ষা নেয়ার জন্য বিভাগের চেয়ারম্যান বরাবর তারা একটি আবেদন দেন।এরপরও বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের পরীক্ষার ব্যাপারে কোন কিছু জানানো হয়নি। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। ওই ব্যাচের এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিভাগে চেয়ারম্যান নিয়োগ হলেই খাওয়া দাওয়া হয়। তখন করোন থাকে না। কিন্তু যত করোনার সমস্যা যখন আমরা পরীক্ষা নেয়ার কথা বলি। তাছাড়া স্যাররা কিন্তু আমাদের টাকাই এসব ভোজন বিলাস করেছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বিভাগে ফেব্রুয়ারি, মার্চ এমনকি এপ্রিল মাসেও পরীক্ষা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিভাগের একজন শিক্ষক বলেন, করোনার কারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ, ক্লাস পরীক্ষা হচ্ছে না, ছাত্রাবাস ও বন্ধ । কিভাবে হবে পরীক্ষা বা ক্লাস তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়সহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্তা ব্যাক্তিরা নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন । শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন এবং গুনগত শিক্ষা নিশ্চিত করা খুবই গুরুত্বপুর্ন এবং কঠিন একটি বিষয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে , অনেকে গ্রাম থেকে অনলাইন ক্লাস করতে পারে না, আবার অনেকে কম্পিউটার বা স্মার্ট ফোন কেনার সামর্থ্য নেই , কেউ কেউ ইন্টারনেট ডেটা কিনতে পারে না। এতো কিছুর পর ও স্বপ্নের বিদ্যাপীঠ থেকে সনদ পাওয়ার আশা সবার থাকে। সে জন্য কষ্ট করে হলেও টাকা জোগাড় করে ভর্তি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে ছাত্রদের ভর্তির টাকা বিভাগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা থাকে। সেখান থেকে শিক্ষার্থীদের ক্লাস, পরীক্ষাসহ সকল উন্নয়মূলক কাজে ব্যয় করা হয়। এজন্য শিক্ষার্থীর টাকায় এমন ভোজন বিলাস উচিত নয় বলে মনে করি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সম্প্রতি বিভাগে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব হস্তান্তেরের অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং উপ-উ্পাচার্য (শিক্ষা)উপস্থিত ছিলেন না। বরং উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক মমতাজউদ্দিন এবং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ আব্দুল মইন। বিষয়টি নিয়ে অনুষদের একাধিক শিক্ষক বলছেন, সামনে ডিন ইলেকশন এবং ফ্যাকাল্টি কনভেনর ইলেকশনের কারনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার এবং ডিন একই এলাকার হওয়ায় এমন করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেয়ার ব্যাপারে চেয়ারম্যান ড. সন্তোষ কুমার দেব বলেন, আমার কাছে এমন আবেদন আসেনি। আমরা ক্লাস রিপ্রেজেটেটিভদের (সিআর) সাতে কথা বলেছি। তারা পরীক্ষা দিতে চায় না।