ঐতিহ্যের সাক্ষী লৌহজং তীরের সেই স্টেশনটি

  • 05 Jan
  • 02:38 PM

আব্দুল্লাহ আল মামুন 05 Jan, 21

শহরের ঘিঞ্জি পরিবেশ আর বদ্ধ আবহাওয়া যেন বিষিয়ে তুলেছে নগর জীবনকে। যদিও নগরের সবকিছু দিনেদিনে উন্নত হচ্ছে। কিন্তু সেখানে পা ফেলার জায়গাটুকুও যেন অবশিষ্ট নেই। বুক ভরে মুক্ত-বিশুদ্ধ-প্রাঞ্জল বাতাসও টেনে নেয়ার সুযোগ নেই আধুনা শহরগুলোতে।

কিন্তু এসবের মাঝেও যদি এমন কোনো স্থান থাকতো যেখানে থাকবে শুধু সবুজের ছোঁয়া। থাকবে না অনবরত গাড়ির হর্ণ আর বিষাক্ত ধোঁয়া। চোখ মেলে তাকালেই সবুজের মাঝে নিমিষেই হারিয়ে যাবে নগরবাসী। প্রাণ ভরে নদী থেকে নির্মল বাতাস গ্রহণ করার সুযোগ থাকবে। পানকৌড়ি সন্ধ্যা আসার আগে ডানা ঝাপটে দিগন্তে বিলীন হয়ে যাবে। কিংবা মনের প্রশান্তি যোগাতে নাকে এসে গন্ধ ছড়াবে ফুলের সৌরভ।

ভ্রমণের মতো সেখানে ভৌতিক ট্রেন এসে প্ল্যাটফর্ম থেকে যাত্রী উঠিয়ে তার নিজস্ব শব্দযোগে দূরে কোথাও হারিয়ে যাবে। এমন সব রোমাঞ্চকর দৃশ্য আর মন মাতানো ফুলের সৌরভ শুধু গল্প বা উপন্যাসেই পাওয়া যায়। নদীর তীরে বসে সূর্য ডোবার দৃশ্যটিও যদি সহজেই উপভোগ করা যায় তাহলে মন্দ কী! নদীর কলকল শব্দ কেড়ে নেবে ঘুরতে যাওয়া দর্শনার্থীদের মন।

স্টেশনের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ঐতিহ্যের সাক্ষী সেই লৌহজং নদী। নদী থেকে ভেসে আসে ভাটিয়ালী গান। আর চোখে পড়ে জেলে বন্ধুদের বিচিত্র জীবন। রেলসেতুর নীচ দিয়ে বাঁশের ফালির মতো তর তর করে বয়ে যাচ্ছে কয়েকটি পালতোলা নৌকা।

বলছিলাম টাংগাইলের ভূঞাপুর রেল স্টেশনের কথা। যেখানে জীবনানন্দ দাশের রুপসী বাংলা যেন তার অপার মহিমায় সৌন্দর্য বিলি করে। অপরুপ সৌন্দর্য আর মনোরম পরিবেশে মুগ্ধ হয়ে দূরদূরান্ত থেকে প্রতিদিন দল বেঁধে ছুটে আসে অনেকেই।

স্টেশনটাকে ঘিরে যে শুধু প্রতিদিনের রুটিনই রচিত হয়, তা নয়। চারিদিকে খোলামেলা, প্রকৃতির অপরুপ মিলনমেলা ও সৌন্দর্যের সান্নিধ্যে আসতে বিশেষ দিনগুলোতে ভীড় জমে দর্শনার্থীদের।

বিশেষ কোনো দিনে এখানে চলে বিভিন্ন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান। ঈদ উপলক্ষ্যে বছরে দুবার আয়োজন করা হয় বিভিন্ন জমকালো অনুষ্ঠানের। তার মধ্যে অন্যতম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শিশুদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকে নাগরদোলা।

এ সম্পর্কে স্টেশন মাস্টার বলেন, 'এখানে জীবন পায় নতুনত্বের পরশ, তাই প্রতিদিন পড়ন্ত বিকেলে মনে সতেজতা ফিরিয়ে আনতে ছুটে আসেন এলাকাবাসী। খোলামেলা বিস্তৃত জায়গাটি যেন মহাকালের সাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে।'

এলাকাবাসীর নিত্য দিনের পছন্দের জায়গা এটি। যুবক থেকে বৃদ্ধ, নারী, শিশু সব বয়সের মানুষের-ই যেন এক মাত্র আনন্দ-উল্লাসের স্থান এটি। ব্যস্ত জীবনের সকল অবসাদকে পেছনে ফেলে একবার এখানে আসতেই হবে, না হলে এই বিচিত্রময় জীবনের কোথাও একটু অপূর্ণতা রয়ে যাবে।