লকডাউনে সশরীরে পরীক্ষা স্থগিত, অনলাইনে পরীক্ষা নিতে পারে হাবিপ্রবি

  • 25 June
  • 10:55 PM

আব্দুল্লাহ আল মুবাশ্বির, হাবিপ্রবি সংবাদদাতা 25 June, 21

পরীক্ষার ঘোষণায় বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে ভোগান্তিতে পড়েছে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) প্রায় ছয় হাজার শিক্ষার্থী। দিনাজপুর সদর উপজেলা লকডাউন ঘোষিত হওয়ায় গত ২১ জুন পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত পূর্ব ঘোষিত সকল পরীক্ষা স্থগিত করে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ফলে এ মাসের পহেলা জুন থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা এসব শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসেই আটকা পড়ে। লকডাউনে আটকা পড়া এসব শিক্ষার্থীরা না পারছে বাড়ি ফিরতে না পারছে কবে পরীক্ষা হবে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হতে।

প্রথমদিকে পরীক্ষার রুটিন প্রকাশিত হবার পর শিক্ষার্থীরা মাস চুক্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে দিনাজপুর শহরের বিভিন্ন মেসে উঠে যায়। আবাসিক হল বন্ধ থাকায় মেসে উঠা এসব শিক্ষার্থীদের মাঝে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক-অনাবাসিক সকল শিক্ষার্থীরাই ছিলো। কিন্তু পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্তে এতোদিনের মেসে থাকা-খাওয়ার পুরো খরচটাই জলে গেলো বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক শিক্ষার্থী। এদিকে সারাদেশের বেশিরভাগ জেলা লকডাউনের আওতায় থাকায় বাড়ি ফেরা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে শিক্ষার্থীদের মাঝে। এছাড়া দিনাজপুর শহর থেকে বিভিন্ন জেলায় সকল ধরণের গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে।

পরীক্ষা দিতে আসা ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুর রহমান বলেন, 'পরীক্ষা ঘোষণার পর রুটিন দেখে নোয়াখালী থেকে পরীক্ষা দিতে আসলাম। পরীক্ষার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলাম হঠাৎ পরীক্ষার ২ দিন আগে শুনলাম পরীক্ষা স্থগিত। এখন দিনাজপুর শহর লকডাউন ঘোষিত হওয়ায় বাড়ি ফেরার জন্য বাস-ট্রেন সব বন্ধ। বাড়িতে বাবা-মা চিন্তা করছে,আবার মেসে থেকে শুধু খরচা বাড়ছে। এজন্য প্রশাসনের কাছে আমার আকুল আবেদন থাকবে অন্তত ঢাকা পর্যন্ত যেন আমাদের যাওয়ার কোন ব্যবস্থা করে দেয়'।

কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী যারীন শ্যাইমা শ্যামা জানান, 'পরীক্ষা হবে জেনে নিশ্চিত হয়েই আমরা ক্যাম্পাসে এসেছি। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘোষণা দিয়েছিলো লকডাউনেও পরীক্ষা হবে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি পুরো উল্টো পরিস্থিতি। আমরা না পারছি বাড়ি ফিরতে না পারছি এখানে থাকতে। এই ভোগান্তির দায় কে নিবে'।

শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের রুটিন উপাচার্য অধ্যাপক ড. বিধান চন্দ্র হালদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আসলে পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করবো তারা যেনো দ্রুত বাড়ি ফিরে যায়। আর শিক্ষার্থীরা যেনো সেশনজটে না পড়ে সেজন্য আমরা অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার চিন্তাভাবনা করছি। এজন্য ইতিমধ্যে কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রওশন আরাকে আহবায়ক এবং ইন্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসাইন সরকারকে সদস্য সচিব করে একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য অনুষদের ডিনরা এই কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছে। তারা অনলাইনে পরীক্ষা কিভাবে নেওয়া যায় এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে রিপোর্ট জমা দিবে। তার আলোকেই আমরা অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবো'।

তবে লকডাউনে ক্যাম্পাসে আটকে থাকা শিক্ষার্থীদের বাসায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন সেবা ব্যবহার করা হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে রুটিন উপাচার্য বলেন, 'এটা সম্ভব নয়। লকডাউন চললেও স্বল্প মাত্রায় কিছু যানবাহন চলছে। শিক্ষার্থীরা চাইলে ভেঙে ভেঙে এসব যানবাহনে করে বাড়ি ফিরতে পারে'।