সাংবাদিক রোজিনার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ইবিতে ভার্চুয়াল মানববন্ধন

  • 20 May
  • 03:59 PM

আজাহার ইসলাম, ইবি প্রতিনিধি 20 May, 21

প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তিসহ তিন দফা দাবিতে ভার্চুয়াল মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা। বৃহস্পতিবার (২০ মে) কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দিনব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করছে সংগঠনটি।

এসময় অবিলম্বে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানায় সংগঠনটির সদস্যরা। এছাড়াও তাকে হেনস্তার ঘটনায় তদন্তপূর্বক জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সারাদেশে লেখক-সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে প্রতিবাদ জানায় সংগঠনটির সদস্যরা।

এ বিষয়ে সংগঠনটির ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আশিকুর রহমান ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ‘প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলাম এখন কারাগারে। এটা নিঃসন্দেহে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের পথে বড় অন্তরায়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি-অনিয়মের যে সংবাদ তিনি জাতির সামনে উপস্থাপন করেছেন, সেটা প্রশংসার দাবিদার। অথচ তাকে সচিবালয়ে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে হেনস্থা করা হয়েছে। যেটা স্পষ্টত গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে খর্ব করে। অনতিবিলম্বে সুষ্ঠু সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি রোজিনা ইসলামকে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।’

ইবি শাখার সাধারণ সম্পাদক এস এ এইচ ওয়ালিউল্লাহ ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ‘লেখক এবং সাংবাদিকরা তাদের লেখনির মাধ্যমে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষেই কাজ করে। রোজিনা ইসলামকে চুরির মামলায় ফাঁসিয়ে গণমাধ্যমের ইতিবাচক চর্চাকে ভয়ের সংস্কৃতির মাধ্যমে রোধ করতে চায় কতিপয় দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও গোষ্ঠী। রোজিনা ইসলামের উপর আরোপিত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার সহ তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির মাধ্যমে লেখক- সাংবাদিক নির্যাতনের ইতি টানতে হবে। একই সাথে পূর্বে সকল সাংবাদিক ও লেখকদের হেনস্থার সাথে জড়িতদেরও শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’

উল্লেখ্য, গত ১৭ মে (সোমবার) ‘রাষ্ট্রীয় গোপন নথি’ চুরি চেষ্টার অভিযোগে প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক অনুসন্ধানী সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে সচিবালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে পাঁচ ঘন্টার বেশি সময় আটকে রেখে হেনস্তা করা হয়। পরে রাতে তাকে ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস' আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়৷ পরদিন ১৮ মে (মঙ্গলবার) তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নিতে পুলিশের আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।