রেজিস্ট্রারের বিদায়ে নতুন সম্ভাবনা গবি'তে

  • 13 Sept
  • 10:03 AM

আব্দুল্লাহ আল মামুন, গবি প্রতিনিধি 13 Sept, 20

সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে (গবি) রেজিস্ট্রার মো. দেলোয়ার হোসেনের অব্যাহতির মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৮ বছর পর যেন কলঙ্কমুক্ত ক্যাম্পাস পেল গবি শিক্ষার্থীরা। সবার চোখে মুখে যেন বইছে আনন্দের ঢেউ। রেজিস্ট্রারের কালো থাবা থেকে মুক্ত হতে পেরে ক্যাম্পাসের প্রতিটি প্রাণে যেন আজ নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। তাইতো উনার অব্যাহতির দিনটিকে অনেকে আখ্যায়িত করেছেন গবির বিজয় দিবস হিসেবে।

গতকাল দুপুরে ট্রাস্টি বোর্ডের জরুরী সভায় তাকে অব্যাহতি দেয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই ফেসবুকে পোস্টের মাধ্যমে তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মোস্তাক আহমেদ পারভেজ লিখেন, 'গণ বিশ্ববিদ্যালয় আজ কলঙ্কমুক্ত হলো।' এর আগে তিনি লিখেন, 'বারে বারে ঘুঘু তুমি খেয়ে যাও ধান, এবার ঘুঘু তোমার বধিব প্রাণ'।

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শারমিন কবিতা লিখেছেন, 'স্বর্গীয় সুখ চাওয়া রেজিস্ট্রারের বিদায়ে অামরা স্বর্গীয় সুখ অনুভব করছি।' সার্বিক বিষয়ে দু:খ প্রকাশ করে ডিবেটিং সোসাইটির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নাজমুল হোসেন জানান, 'ক্যাম্পাসে যাদের হাতে নৈতিকতা শিক্ষার দায়িত্ব ন্যস্ত, তাদেরকেই আজ পদে পদে নৈতিক শিক্ষা দিতে হচ্ছে।'

আইন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মুন্নি আক্তার লিখেন, 'একক অাধিপত্য মুক্ত ক্যাম্পাস হিসেবে গবিকে অ্যাখায়িত করাই যায়।' সাধারণ ছাত্র পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. জান্নাতুল ফেরদৌস জিবু অভিমত প্রকাশ করে বলেন, 'অপরাধ করলে শাস্তি পেতে হবে। হোক সে ছাত্র, শিক্ষক, রেজিস্ট্রার কিংবা নেতা। অন্যায় করে কেউ পালাতে পারবেনা।'

রেজিস্ট্রারের বিদায়কে ঐতিহাসিক অ্যাখায়িত করে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রোকনুজ্জামান বলেন, 'উনার অন্যায়ের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সুদীর্ঘ দিনের। আজ তা পূর্ণতা পেয়েছে। গবিয়ানরা দেখিয়ে দিয়েছে অন্যায় করলে গবিতে কেউ পার পাবে না। এখনই সময় পরিবর্তনের।
চলুন পাল্টে যাই, পাল্টে দেই। গড়ি তুলি স্বপ্নের ক্যাম্পাস।'

সিদ্ধান্তের বিষয়ে ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) মো. জুয়েল রানা বলেন, 'গণ বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ডকে ধন্যবাদ। আশা করছি আরো কিছু সমস্যা রয়েছে তা চলমান সংকট সমাধানের মতই সমাধান করবেন আর আমাদের পাশে থাকবেন।'

এমনই অনেক শিক্ষার্থীর লেখাতে রেজিস্ট্রারের বিদায়কে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ইতিবাচক বলে ধরা হচ্ছে। তাদের ধারণা, দীর্ঘদিনের নানা সমস্যা কাটিয়ে এবার নতুন গতিতে এগিয়ে যাবে ক্যাম্পাস।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রেজিস্ট্রারের সাথে এক ছাত্রীর ২৬ মিনিট ৩২ সেকেন্ডের একটি অশ্লীল ফোনালাপ ফাঁস হয়। এ ঘটনার পর থেকে ক্যাম্পাসে তোলপাড় শুরু হয়। অবস্থার প্রেক্ষিতে জরুরী সভা আহ্বান করে গতকাল তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড।