রায়হানের কিছু কথা

  • 22 Apr
  • 10:47 PM

আদনান মেহমুদ সম্রাট, নিজস্ব প্রতিনিধি 22 Apr, 21

#আমরা কি আামাদের নায্য পারিশ্রমিক পাচ্ছি?

আমরা শিল্পীরা যে সংগঠনেই কাজ করি নাহ কেন আমরা সব সময়ই চাই আামাদের সর্বশ্য দিয়ে আামাদের কাজটির সফলতা আনতে।কোন শিল্পীই চায় নাহ তার পরিবেশনা খারাপ হোক।কিন্তু আমরা এত কষ্টের পরও যখন আমাদের নায্য পারিশ্রমিক পাই না তখন খুবই হৃদয়বিদারক ঘটনার মধ্য নিয়ে চলতে হয়। অনেক নৃত্যশিল্পী আছে যারা নাচ করেই তাদের জীবিকানির্বাহ করে।পরাশুনা খরচ চালায়।পরিবারের খরচ যোগায়।একটা অনুষ্ঠান করার পর সেই সম্মানি দিয়েই তার দৈনন্দিন অভাব গুলো পূরন করে।একটা অনুষ্ঠানের পিছনে সেই শিল্পীর অবদান কতটা একবার কি ভেবে দেখেছি? সকাল বেলা নাহ খেয়ে রিহার্সেলে যাওয়া,কোনদিন গাড়ি ভাড়া ও পকেটে থাকে নাহ।দুপুরের খাবারটা দলের সাথে কোন মতে মানিয়ে নেওয়া।আবার রিহার্সেল করা।সেটা যত রাত ই হোক নাহ কেন। তখন আামাদের দলনেতার সে কথা মাথায় থাকে নাহ রাত হচ্ছে,ছেলেমেয়ে গুলো বাড়ি ফিরতে হবে।কিভাবে যাবে সেতাও তার ভাবনার বাহিরে থাকে। তার নিজের গাড়িতে করে সে ঠিকই চলে যায়।শারীরিক অসুস্থতা হলেও কখনো বিশ্বাস করে নাহ।।ভাবে এ এক অভিনয়।অনেক ধরনের বাধা বিপওি পেরিয়ে আসতে হয় একটি অনুষ্ঠানে। এত কিছুর পরও যখন দেখি আমাদের সম্মানি আশার থেকেও কম তখন সেই শিল্পীর কি অবস্থা হবে একবার কি ভেবে দেখেছি? কিন্তু অনুষ্ঠান পরিচালক বা ব্যাবস্থাপনায় যারা থাকেন তাঁদের কাছে থেকে দলনেতা সম্পূর্ণ বাজেট নিয়ে থাকেন।হা আমরা বুঝি একটি অনুষ্ঠানের জন্য পোশাক, গহনা,খাবার সব কিছুর জন্য আলাদা বাজেট দেওয়া হয় এবং শিল্পী সম্মানির জন্য আলাদা বাজেট দেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু এর পর ও যদি নানা অযুহাতে সেই শিল্পীর পারিশ্রমিক থেকে কেটে নেওয়া হয় সেটা কতটা যুক্তিগত আসলে আমার বোধগম্য নয়।সব দলনেতা এক নাও হতে পারে কিন্তু বেশিরভাগই এমন।নিজের সার্থ সিদ্ধি আদায় এর পর আর স্মরন করে নাহ।এত কিছুর পর ও শুনতে হয় খুব বাজে কথা।যদি কোন নৃত্য শিল্পী তার প্রতিভা প্রকাশের জন্য একটু সুযোগ চায় তখন তার কাছে সেই সুযোগ এর জন্য গুরুকে দেওয়ার মত দক্ষিণা নাহ থাকে তখন হয়তো মানবতার খতিরে তাকে ফ্রি ক্লাস ও করিয়ে পরবর্তীতে স্বার্থে কোন ব্যাঘাত ঘটলে তাকে সেই কথা শুনিয়ে দেওয়া হয়।শুনে এসেছি পিতা মাতার পর ই রয়েছে শিক্ষক। আার শেই শিক্ষক এর কাছ থেকেই যদি এমন শিক্ষা পেয়ে থাকি তাহলে এ কেমন শিক্ষা? একই অনুষ্ঠানে অন্য দলের ছেলেমেয়েদের থেকে আমরা যদি কম সম্মানি পাই তাও সব দলের থেকে বেশি পরিশ্রম করে এটা কতটা মানবিক আসলেই বুঝতে পারছি নাহ!তারা ভুলেই যান আামাদের নিয়েই তাদের দলের পথচলা।আামাদের ছাড়া অচল। এত কষ্টের পরও আমরা ভালো ব্যবহার পাই নাহ।একটা দল প্রতিষ্ঠিত হাওয়ার ক্ষেএে শুধু দলনেতারই অবদান তা ভুল।যদি তাই হত তাহলে ব্যঙ্গকরে বলতেই পারি কোন দলকেই সদস্যের বা সহ শিল্পীর প্রয়োজন হত নাহ মঞ্চে কলাগাছ দাড় করিয়ে একাই দল চালিয়ে যেত।আসলে এই কথা গুলো হয়তো দলের দলনেতাদের খারাপ লাগতে পারে। কিন্তু এটাই সত্যি। সর্বদা হিংসা র রাজ্যে বসবাস করেন তারা।আমিও একজন দলনেতা। হুম এটা আামার ক্ষেএেও প্রোযজ্য।শিল্পী আন্দোলন করে সামাজিক পরিবর্তন ঘটানো বিরাট ব্যাপার। ইতিহাসে দেখা গেছে, এ ধরনের আন্দোলনের জন্য সামাজিক ক্ষেত্রও প্রস্তুত হয়ে থাকে। অতীতে দেখা গেছে, শিল্পীরা তাঁদের হাতিয়ারকে কাজে লাগিয়েছেন সমস্যা থেকে উত্তরণের পথে যাওয়ার কালে। ধর্মীয় যাজকদের কবলে জীবন যখন জড়ত্বে পঙ্গু, তখনই ইউরোপে এসেছে রেনেসাঁ। তেমনই ‘এসটাবলিসমেন্ট’-এর বিরুদ্ধে ইম্প্রেশনিস্টদের বিদ্রোহ। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ-পরবর্তী মানবজীবনে হতাশা, দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তার অবসানকল্পে এক্সপ্রেশনিস্টদের আবির্ভাব ইউরোপে সামাজিক পরিবর্তনের সূচনা করেছে।
একইভাবে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে পথিকৃৎ না হলেও বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন ও একাত্তরের স্বাধীনতাযুদ্ধে বাংলাদেশের শিল্পীরা জনগণের পাশেই স্থান করে নিয়েছিলেন।

সামাজিক অবক্ষয়ের শিকার শিল্পীসমাজও। প্রতিষ্ঠিত মূল্যবোধের ভাঙনে সমাজের সর্বস্তরের বিশৃঙ্খলা দেশকে নিয়ে যাচ্ছে চরম হতাশার দিকে। ব্যক্তিস্বার্থ জন্ম দিচ্ছে সন্দেহ আর অবিশ্বাসের।
সবচেয়ে দুঃখজনক, যাঁরা এতকাল সমাজের বিবেক বলে পরিচিত, তাঁরাই আজ সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত।


#করোনাকালিন শিল্পীদের অবস্থা

বর্তমানে আমরা এক ভয়াল অবস্থার মধ্যে দিয়ে আামাদের জীবন অতিবাহিত করছি।চারিদিকে শুধু মৃত্যুর খবর।অনেক আপনজন হারিয়ে ফেলছি। আমরা যারা শিল্পী তাদের সকল চলমান জীবন থমকে গিয়েছে। সকল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সহ সকল কর্মকান্ড বন্ধ রয়েছে। কখনো ভাবিনি বিশ্বে এমন একটি আতংক তৈরি হবে।যা ধনি গরিব ভেদ করেনা।শিল্প,দয়া,প্রাচুর্য,অহংকার,মানবিকতা এই শব্দগুলা কেমন যেন মিলেমিশে এক হয়ে গেছে।আমরা এমন এক যুদ্ধে নামছি যেখানে শত্রুকে দেখতে পাচ্ছিনা কখন আক্রমণ করবে সেটাও বুঝছিনা।মানবজাতি আজ কত অসহায়।পৃথিবী আজ কোথায় চলে গেসে।ভাবতে পারছিনা।কতো অগ্রসর বিজ্ঞান প্রযুক্তি। কোথায় গেলো আজ! একটা ভাইরাস লণ্ডভণ্ড করে দিচ্ছে মানব জাতি সহ পুরো বিশ্বকে।এসব নিয়ে আমরা যারা নৃত্যশিল্পী বা যাদের পেশা নাচ গান অভিনয় নিয়ে তাদের উপর যে কতটা প্রভাব ফেলছে তা আসলে আমরা ছাড়া কেউ আসলে বুঝতে পারবেনা।এমন অনেক পরিবার আছে যাদের এই পেশায় পুরো পরিবার চলে।কিন্তু এখন এই পরিস্থিতিতে তারা পুরপুরি অচল হয়ে গেসে।খুবই ভয়াবহ অবস্থা।কেউ সংসার চালাতে পারছে না।আবার কেউ হাত ও পাততে পারছে না।আমাকে সাহায্য কর এটাও বলতে পারছে না।এসব নিয়ে যদি আমরা না ভাবি তাহলে তাদের কি হবে? এই অঙ্গনের কি হবে? আমাদের এই অঙ্গনের সচ্ছল শিল্পী ও সরকারের বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন।অসচ্ছল শিল্পীদের তালিকা করে তাদের পাশে দাড়ানো প্রয়োজন। আজ সময় এসেছে একে অন্যের পাশে দাড়ানোর,মানবিকতার হাত বাড়ানোর। একে অন্যের হাত ধরে বেচেঁ থাকার।