রামদাও এর নিচে বিদ্যুৎ কুমার রায় এর গলা!

  • 28 July
  • 07:42 PM

ভার্সিটি ভয়েস ডেস্ক 28 July, 21

১. আমি তখন ভাসানটেক সরকারি কলেজের শিক্ষক হিসেবে নতুন নিয়োগ পেয়েছি। ভাসানটেক সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুস ছামাদ স্যার কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেছেন। কলেজের অফিসের জন্য আউট সোর্সিং এর মাধ্যমে মাত্র একজন নাইট গার্ড নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রথম বর্ষের ছাত্র ছাত্রী ভর্তি হয়েছে। প্রোবলেম হলো খালের মধ্যে কলেজ। কোন রাস্তা নেই। যদিও আমি নিজের বেতনের টাকা খরচ করে ছাত্রদের সাথে নিয়ে মাথায় করে মাটি নিয়ে নিয়ে রাস্তা তৈরি করেছি। সরকার এই রাস্তা করলে হয়ত ১০/২০ লক্ষ টাকা লাগত। আমি শুধু বেতনের ৫০/৬০ হাজার টাকা খরচ করে ৪/৫ মাসের মধ্যেই এই রাস্তা ছাত্র ছাত্রী এবং অভিভাবকদের চলাচল করার জন্য উপযুক্ত করে ফেলছি।

২. ভাসানটেক পুনর্বাসন প্রকল্পের মধ্যেই ছিল পিচ্চি হান্নান, টুকাই সাগরের বসবাস। রেগুলার তাদের বাহিনীর লোকজন কলেজে আসত। আমি আর অধ্যক্ষ স্যার কলেজে থাকি। একদিন রাতে দেখি কলেজ বিল্ডিং এর সাইডে একদল লোক ২৫/৩০ বছরের হবে তারা জুয়া খেলছে, গাজা খাচ্ছে। আমি সেখানে একাই গেলাম এবং তাদেরকে অনুরোধ করলাম কলেজ থেকে চলে যাবার জন্য। তারা চলে গেল। পরের দিন ক্লাস শেষে বিকেলে অধ্যক্ষ স্যারের রুমে বসে আছি। হঠাৎ একজন লোক বিশ বছরের মত বয়স হবে। বিশাল একটা লম্বা রামদা নিয়ে আমার সামনে অধ্যক্ষ স্যারের রুমে আসল। লোকটা আমাকেই বলল বিদ্যুৎ স্যার কে? আমি ভয় পাচ্ছিলাম যে কথা বলার আগেই আমাকে জবাই করে কিনা!আমি বললাম বসেন। লোকটা বসল। আমি বললাম আমি বিদ্যুৎ স্যার। লোকটা
আমাকে বলল, আপনি কাল খেলা বন্ধ করেছেন কেন? আপনাকে যদি কেটে ফেলি কে বাচাবে?

৩. আমি বললাম দেখুন আমাকে মারলে আপনার কোন লাভ নেই। বরং যে কাজ করলে আপনার লাভ হবে সেই আমি করতে পারি। লোকটা বলল আমার লাভ হবে মানে? আমি বললাম দেখুন আপনি সাহসী মানুষ । বাংলাদেশে সাহসী মানুষের খুব অভাব। আপনার কাছে অনুরোধ আপনি যদি উদ্যোগ নেন তাহলে আপনি ভাসানটেক সরকারি কলেজকে দেশের সেরা কলেজে পরিণত করতে পারেন। আপনার কারনে কলেজে কোন দল থাকবে না। কেউ আধিপত্য দেখাবে না। কাল সকালে আপনি আসবেন। আমি আপনাকে সবগুলো ক্লাসে নিয়ে যেয়ে সকল ছাত্র ছাত্রীর কাছে পরিচয় করিয়ে দিব এবং বলব আপনিই কলেজের আশেপাশের সকল ধরনের খারাপ কাজ থেকে কলেজকে মুক্ত করেছেন। সকল ছাত্র ছাত্রী আপনাকে মন থেকে দোয়া করবে, সম্মান করবে। পরের দিন লোকটা এসেছিল। আমি ক্লাসে ক্লাসে যেয়ে লোকটাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলাম। তারপর থেকে ভাসানটেক সরকারি কলেজের আসেপাশে কোন খারাপ কাজ যেমন জুয়াখেলা, ডাল খাওয়া, গাজা খাওয়া হয়নি। আজ ভাসানটেক সরকারি কলেজ একটা ফুলের বাগানের মত হয়েছে।

৪. ভাসানটেক সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মহোদয় এবং আমি কখনোই গালি গালাজ করতাম না। বুদ্ধি দিয়ে সবকিছু জয় করতাম। আমি বই পুস্তক পড়ে শিখেছি যে কোন মানুষকে অস্ত্র দিয়ে জয় করা যায় না। বুদ্ধি দিয়ে ভালোবাসা দিয়ে জয় করা যায়। আজকে বিসিএস ক্যাডারদের মনোভাব যখন দেখি যে সকল অধ্যক্ষ খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করে তাদের সমর্থন করে ফেসবুকে পোস্ট দেয় তখন কস্ট পাই।
মনে রাখতে হবে বিসিএস ক্যাডারের চেয়ে জনগণ উপরে অবস্থান করে।জনগণের কোন ভুল নেই। জনগণের কোন আবেদন ভুল ধরে যা ইচ্ছা তাই করা যায় না।আমরা কিন্তু সরকারি কর্মচারী।


বিদ্যুৎ কুমার রয়
রসায়ন বিভাগ;
সহযোগী অধ্যাপক, ভাসানটেক সরকারী কলেজ, ঢাকা।
নবম-দশম শ্রেণির রসায়ন গ্রন্থের লেখক।