রাজ্জাকের ফুলবাগানে বেড়েছে সৌন্দর্য, থেমেছে মূত্রত্যাগ

  • 06 Jan
  • 10:33 PM

আরাফাত হোসেন, জিটিসি প্রতিনিধি 06 Jan, 20

কয়েকদিন আগেও যেখানে মলমূত্রের উৎকট গন্ধে চলা যেত না এখন সেখানে সুন্দর ফুল বাগান। দায়িত্বশীলরা যেটা করতে পারেন নি সেটাই করে দেখিয়েছেন সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী আব্দুর রাজ্জাক।

আব্দুর রাজ্জাক তিতুমীর কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে থাকেন।

তিতুমীর কলেজ সংলগ্ন ফুটওভার ব্রিজের নিচে মূত্রত্যাগ বন্ধ করার জন্য সাধারণ শিক্ষার্থীরা নানা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিল। কিন্তু সব বাধা টপকিয়ে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

তবে ব্যক্তি উদ্যোগে আব্দুর রাজ্জাক মূত্রত্যাগের স্থানে ফুলের বাগান করে দেখিয়েছেন। সন্ধ্যার পরও যাতে কেউ প্রস্রাব করতে না পারে সেজন্য সেখানে লাইটিংয়ের ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘এই শহর আমার, এই দেশ আমার, পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্বটাও আমার। পরিচ্ছন্নতা শুরু হোক আমার থেকেই।’

তিনি বলেন, ‘আমি একজন দেশের সাধারণ নাগরিক হিসেবে সবাইকে বলতে চাই যে, নিজ ইচ্ছায় বা অজান্তে কোনোভাবেই যেন আপনার দ্বারা পরিবেশ নষ্ট না হয় সেদিকে খেয়াল করবেন। যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলবেন না। নির্দিষ্ট জায়গায় নির্দিষ্ট স্থানে ভালোভাবে রাখুন যাতে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। বিশেষ করে আমি পথচারীদেরকে বলতে চাই আপনারা রাস্তার আশেপাশে যেখানে-সেখানে মূত্রত্যাগ করবেন না। আপনারা যারা মূত্রত্যাগ করেন তাদের কারণে রাস্তার পাশ দিয়ে ঠিকমতো হাঁটা যায় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি খুবই আনন্দিত যে খুব অল্প সময়ের মধ্যে এমন একটা কাজ সম্পূর্ণরূপে করতে পেরেছি। সেই সঙ্গে বুঝাতে সক্ষম হয়েছি যে যেখানে সেখানে মূত্রত্যাগ করা ঠিক না। মানুষের কাছে জায়গাটির সৌন্দর্য তুলে ধরতে চেষ্টা করেছি।’

স্বেচ্ছাসেবক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘গত ১৭ ডিসেম্বর কলেজের অনেককে আমার সঙ্গে কাজ করার জন্য বলেছি। তবে দুঃখের বিষয় সেদিন তেমন কাউকে পাশে পাইনি। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ২য় বর্ষের নূর মোহাম্মদ সুমন নামের একজন আমার সঙ্গে থেকে কাজ করেছে। দুজনে মিলে কলেজ থেকে পাইপ টেনে পানি দিয়ে জায়গাটি পরিষ্কার করেছি। বালু দিয়ে স্যাঁতসেঁতে জায়গা ভরাট করেছি। অনেকেই বলেছিলো যেও না, পারবা না করতে। অথচ আমি করে দেখিয়েছি। আমরা পেরেছি।’

সরেজমিনে দেখা যায়, তিতুমীর কলেজ সংলগ্ন ফুটওভার ব্রিজের দুই পাশ এখন ১৫০টিরও অধিক ফুলগাছ, পাতাবাহার সহ নানা রকম গাছে সমৃদ্ধ। সন্ধ্যার পরপরই জ্বলে আলো। একদিকে বৃদ্ধি পেয়েছে সৌন্দর্য, থেমেছে মূত্রত্যাগ।

ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে গাছগাছালি প্রয়োজন শিরোনামে স্ট্যাটাস দিয়ে গাছ, টব, ব্যানারের অর্থ সংগ্রহ করেছেন আব্বুর রাজ্জাক। নিজেও যতটুকু পেরেছেন দিয়েছেন। গাছ সংগ্রহ করতে যেয়ে বৃথা রায় দিপা নামে এক মধ্যবয়সী গাছপ্রেমীর সঙ্গে রাজ্জাকের পরিচয় হয়। তিনি রাজ্জাককে কলেজের সামনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার জন্য নানা পরামর্শ দেন এবং কিছু গাছ উপহার দেন।


কে বলে আমাদের তরুণ সমাজ হতাশ, মাদকাসক্ত, কর্মহীন? শাওন ও রাজ্জাকের মতো তরুণরা আছে আমাদের পাশে। ওদের মতো করে আরও অনেক শাওন বা রাজ্জাক যদি এভাবে সবুজায়নের স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে যায় তাহলে এই কংক্রিটের জঞ্জালে ভরা নগরী পুষ্প পল্লবে সেজে উঠবে। বাতাস হবে দূষণ মুক্ত, নির্মল। আসুন আমরা স্বপ্ন দেখি। স্বপ্ন মরে গেলে তো বর্তমান স্থবির হয়ে যাবে। স্বপ্ন হোক সবুজের, স্বপ্ন হোক প্রাণের আনন্দের, স্বপ্ন হোক শ্যামল বাংলাদেশের।’

এমন উদ্যোগে তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছে প্রশংসিত হয়েছেন রাজ্জাক। অদূর ভবিষ্যতে তিতুমীর কলেজের পরিবেশ আরও সৌন্দর্যময় হবে এমন শতশত ক্ষুদ্র উদ্যোগে, এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।