রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনা আদর্শ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেরানী বহিষ্কার

  • 11 June
  • 09:52 AM

নিজস্ব প্রতিবেদক 11 June, 20

১৯৬৬ সালে স্থাপিত রাঙ্গুনিয়ার ঐতিহ্যবাহি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চন্দ্রঘোনা আদর্শ বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাত্র ৫ বছরের হিসাব হতে ২৮ লাখ টাকা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক সুরনজিত বড়ুয়া ও কেরানী সুরনাথ দাশকে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি সভায় গত ৭ জুন ২০২০ বরখাস্ত করা হয়েছে ।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আবু হেনা মোস্তফা কামালের নিকট অব্যাহতি প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গত ০৮/০৬/২০২০ সোমবার বিদ্যালয়ের যাবতীয় দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন।

জানা যায়, গত ৭ জুন স্কুল পরিচালনা কমিটির সভায় সাসপেন্ড কৃত প্রধান শিক্ষক এজেন্ডায় তার আত্মসাত কৃত টাকা তিনি আত্মসাত করেছেন বলে স্বীকার করে এবং ইতোমধ্যে ২টি কিস্তিতে বিদ্যালয় ফান্ডে ৪ লাখ টাকা জমা করেন বলে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য খালেক সিকদার ও ইলিয়াস তালুকদার সত্যতা নিশ্চিত করেন। বাকী টাকা কিস্তি করে দেওয়ার অনুমতি চাইলে পরিচালনা কমিটি তাকে বরখাস্ত করেন।বিদ্যালয়ের যাবতীয় কর্মকান্ড সহকারী প্রধান শিক্ষক আবু হেনা মোস্তফা কামালকে বুঝিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অপর দিকে স্কুলের কেরানী সুরনাথ দাশ আত্নসাত কৃত টাকার ৫০ হাজার স্কুল ফান্ডে জমা করেন। তিনিও বাকী টাকা কিস্তিতে দেওয়ার সময় প্রার্থনা করলে পরিচালনা পর্ষদ তাকেও বরখাস্ত করেন।

একাধিক সুত্রে জানান যায়, স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও কেরানীর বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক জেএসসি প্রবেশ পত্র বাবদ বিদ্যালয়ের ফান্ডে টাকা জমা না দেওয়া, এসএসসি ছাত্র ছাত্রীদের ফরম পূরনের টাকা আত্নসাত ছাত্র ছাত্রীদের মাসিক বেতন স্কুল ফান্ডে জমা না দেওয়া, বিদ্যালয়ের ডাব বিক্রি থেকে শুরু করে নানা কাজে নিজে টাকা আত্নসাত, জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় অন্য বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীদের ফরম ও রেজিস্ট্রেশন ফি স্কুল ফান্ডে জমা না দিয়ে নিজে আত্মসাত করেন বলে অভিযোগ প্রমানিত হয় । বিভিন্ন ভাবে ভাইচার করে গত ২০১৪ সাল থেকে ২০১৯ সাল এ ৫ বছরে ২৮ লাখ টাকা আত্মসাত করে। কেরানী ও ছাত্র-ছাত্রীদের থেকে টাকা নিয়ে স্কুল ফান্ডে কিংবা ব্যাংকে জমা করেনি। গত ৫ বছরে ছাত্র ছাত্রীদের সকল বেতন পরিশোধ করলেও বিদ্যালয়ের ফান্ডে কোন টাকা জমা করেনি বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক ও কেরানী।

২০১৩ সালে প্রধান শিক্ষক স্ট্রোক করে। এরপর থেকে তিনি বছর খানেক স্কুলে আসতে পারেনি। সে সময়ে স্কুল পরিচালনা কমিটি মানবিক চিন্তা করে তাকে স্কুলে আবারও দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর পরেও ২০১৯ সালে তাকে আবারও দায়িত্ত থেকে বাদ দেওয়া হয়। সেবারেও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় চেয়ারম্যান ইদ্রিস আজগর আবার তাকে প্রধান শিক্ষক পদে বহাল করেন বলে বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়।

এলাকাবাসী জানায় গত কয়েক বছর যাবত বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ১১নং চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইদ্রিছ আজগর মন্ত্রী মহোদয়ের নাম ব্যবহার করে নিজের ইচ্ছা মত পরিচালনা কমিটি গঠন করতেন। ফলে দক্ষ পরিচালনা পরিষদ ও সুযোগ্য শিক্ষকের অভাবে বিদ্যালয়ের পড়ালেখার মান একেবারে নিম্ন পর্যায়ের পাশের হারও কোন রকমে । বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সহ পড়ালেখার মান নিয়েও এলাকাবাসীর অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী পরিষদের সভাপতি মোঃ ফরিদ আহম্মদ অভিযোগ করে জানান, আমাদের সময়ে স্কুলের সুনাম অত্র উপজেলার নয় চট্টগ্রামের ছড়িয়ে ছিল কিন্তু বর্তমানে চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নে একমাত্র মাধ্যমিক স্কুলটি শিক্ষার মান এত পিছিয়ে রয়েছে তা বিগত ১০বছরেও উত্তরনের কোন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়নি। এর দায় স্কুল পরিচালনা পরিষদও এড়াতে পারে না বলেও জানান তিনি।

রাংগুনীয়ার সাবেক ছাত্রনেতা ও অত্র স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আবু তাহের অভিযোগ করে বলেন, অদক্ষ পরিচালনা কমিটির ও অদক্ষ শিক্ষক দ্বারা স্কুলটির লেখাপড়া না হওয়ায় আস্থা হারিয়েছে ফেলেছে যার কারণে স্কুলে দূর্নীতি বেড়ে যায়। অবিলম্বে দূর্নীতিমুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মান ফিরিয়ে আনতে স্কুলের পরিচালন পর্ষদের অদক্ষ সদস্য ও সভাপতির পদত্যাগ দাবি করেন তিনি।

সর্বশেষ পরিচালনা পরিষদ গঠনে প্রাক্তন শিক্ষার্থী পরিষদের কঠোর অবস্থানে ০২ জন অভিভাবক পরিবর্তিত হলে বিদ্যালয়টি কিছুটা শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এ ব্যাপারে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইদ্রিছ আজগর জানান, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তাকে বিধি মোতাবেক ৩বার কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করি। তিনি এর কোন জবাব দেয়নি। তাই গত ৭ জুনের পরিচালনা কমিটির সভায় তাকে ও কেরানীকে সর্বসম্মতি ক্রমে বরখাস্ত করা হয়।

স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী পরিষদ এবং এলাকার সুশীল সমাজ ও জনগণের অভিযোগ ৫ বছর নয় বিগত ১০ বছরের হিসাব নিরপেক্ষ অডিট ফার্মের মাধ্যমে অডিট করলে প্রকৃত অর্থে আত্মসাতকৃত অর্থের পরিমান কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

এলাকাবাসীর দাবি অনতিবিলম্বে, বর্তমান সভাপতি যেদিন থেকে স্কুলের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন সেদিন থেকে আজকে পর্যন্ত স্কুলের হিসাব পেশাদার অডিট ফার্মের মাধ্যমে করে জনসম্মুখে প্রকাশ করে উক্ত সময়ে যারা বিদ্যালয় পরিচালনায় দায়িত্বে ছিল তদন্তপূর্বক তাদেরও বিচারের কাটগড়ায় আনার জন্য জোর দাবি জানান এলাকার জনসাধারণ ও স্কুলের অভিভাবকগন।

অভিযুক্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও কেরানীকে মুঠোফোনে একাধিবার চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।