রবিবাতে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উৎযাপন

  • 14 Dec
  • 05:23 PM

মো. হাবিবুর রহমান, রবিবা প্রতিনিধি 14 Dec, 21

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ (রবিবা) বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উৎযাপিত হয়। এ দিনেই বিজয় লগ্নে হত্যা করা হয় দেশের সকল বুদ্ধিজীবীদের। যার প্রভাব আজও বাংলাদেশকে বহন করতে হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ এর অস্থায়ী ক্যাম্পাসে সকাল থেকে শুরু অনুষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রম।

সকাল ৯টায় অস্থায়ী প্রশাসনিক ভবনে পতাকা অর্ধনমিতকরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। তারপর শহিদদের স্মৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় শিক্ষক সমিতির সভাপতি এবং রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. ফকরুল ইসলাম বলেন, পাকিস্তানীরা সর্বপ্রথম জাতির মাথাকে অর্থাৎ বুদ্ধিজীবীদের চিহ্নিত করে হত্যা করে। তারা ৯৯১জন শিক্ষক, ৪২জন আইনজীবী, ৪৯জন চিকিৎসক, ১৩জন সাংবাদিক, ৪জন সাহিত্যিক এবং আরও অন্যান্য পেশাজীবীদের নাম ধরে ধরে তালিকা করে হত্যা করে। তিনি অধ্যাপক মুনীর চৌধুরীর কবর নাটকটির একটি সংলাপ তুলে ধরে বলেন, ধর্মের নামে যে দ্বি-জাতি তত্বের প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল তার দিন ফুরিয়ে আসছে।

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ এর রেজিস্টার সোহরাব আলী বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান যখন ভারত ভ্রমণে গিয়েছিলেন তখন তিনি বলেছিলেন বাংলাদেশেও রবীন্দ্র ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে রবীন্দ্রনাথের নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় হবে।

এবং অনুষ্ঠানের সভাপনী বক্তব্যে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ এর উপাচার্য এবং শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উৎযাপনের সভাপতি প্রফেসর ড. শাহ আজম বলেন, বুদ্ধিজীবী দিবসটি পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে ন্যাককার জনক একটি ঘটনা। তিনি আরও বলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭০ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে যে জনসমর্থন অর্জন করেন তা শুধুমাত্র পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক শাসন নয় গোটা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হবার যোগ্যতা রাখেন। বাঙালিকে উদ্ধুদ্ধ করার জন্য ৭ই মার্চে ভাষণ দেন। একদিকে পাকিস্তানীরা নিরীহ বাঙালিকে হত্যা করেছে অন্যদিকে বেছে বেছে বুদ্ধিজীবী, প্রকৌশলী, শিক্ষক, চিকিৎসককে হত্যা করে। তিনি বলেন আমরা যে ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছি তা অপুরনীয়। আলোচনা সভার দ্বিতীয় পর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য যে, গতকাল সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় শহিদ বুদ্ধিজীবীদের উদ্দ্যেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী একাডেমিক ভবনে মোমবাতি প্রজ্জলন করা হয়। এছাড়া আজ শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উৎযাপন অনুষ্ঠান উপলক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলদেশ এর সকল বিভাগের চেয়ারম্যান, সম্মানিত শিক্ষক মন্ডলী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারন শিক্ষার্থীবৃন্দ।