‘যে যায় লঙ্কায়- সেই হয় রাবণ, আসতে পারে ৩০তম জাতীয় সম্মেলনের ডাক’- ভিপি কামাল

  • 22 Oct
  • 04:46 PM

নিজস্ব প্রতিবেদক 22 Oct, 20

করোনাকালীন সময়ে জনসেবামূলক কাজের জন্য প্রশংসিত হওয়ার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক বিতর্কিত বিষয়ে জড়িয়ে নাম খারাপ হচ্ছে ছাত্রলীগের। ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃত্ব মনে করছেন বিভিন্ন সাংগঠনিক কমিটি গঠনে গড়িমসির জন্য এই অপবাদগুলো সংগঠনের ঘাড়ে আসছে।

সময় পেরিয়ে গেছে অনেক আগেই।এখনো হয় নি ছাত্রলীগের প্রাণখ্যাত ঢাবির হলগুলোর কমিটি। আবার কেন্দ্রীয় কমিটির অবস্হাও লেজেগোবরে, নেই কোনরকমের সংস্কার পরিকল্পনা। সাংগঠনিক এইসব বিষয় নিয়ে এবং ৩০ তম জাতীয় সম্মেলনের আগমণী বার্তা নিয়ে এবার সোচ্চার হয়েছেন ঢাবির ঐতিহ্যবাহী সলিমুল্লাহ মুসলিম হল সংসদের সদ্যসাবেক ভিপি কামাল উদ্দিন।

তার ফেসবুক টাইম লাইনের স্টাটাসটি পাঠকদের সুবিধার্থে হুবহু তুলে ধরা হলো -


দেশরত্ন শেখ হাসিনার নির্দেশে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সংগ্রামী সভাপতি_ 'রেজওয়ানল হল চৌধুরী শোভন ভাই' এবং বিপ্লবী সাধারণ সম্পাদক 'গোলাম রাব্বানী ভাই' অব্যাহতী পত্র জমা দেয়ার পর 'শোভন- রব্বানী' ভাইয়ের কমিটির ই সহ-সভাপতি 'আল নাহিয়ান খান জয়'
ভাইকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য দাদা কে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব প্রদান করে। পরবর্তীতে দেশরত্ন শেখ হাসিনা
নিজে তাদের ভারমুক্ত করে সভাপতি_ সাধারণ সম্পাদকের পূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করেন। পরবর্তীতে করোনাকালীন সময়ে জয় ভাই -লেখক দাদার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ অগ্রসেনানীর ভূমিকা পালন করে।

কিন্তু বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে গতিশীল করার কাজে তাদের ভূমিকা কতটুকু এ নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়..? চেয়ারে বসলে কি সবাইকেই চেয়ার এর মায়া বস করে নেয়,, নাকি যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ - এমন রূপে আবির্ভূত হয়। "জয়-লেখক" ভাইয়ের উল্লেখযোগ্য এবং বহূল আলোচিত কিছু বিষয়ের মধ্যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ত্যাগী কিছু ছাত্রলীগ কর্মীকে বহিষ্কারই অন্যতম_ যেটি তারা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাংবিধানিক বিধি অনুযায়ী করেনি।যাদেরকে বহিষ্কার করা হয়েছিল তাদের মধ্যে অধিকাংশই লড়াকু এবং ত্যাগী নেতাকর্মী ই ছিলেন। আমার কাছে এ বিষয়টিকে তাদের চেয়ার কুক্ষিগত করার ই নেপথ্যের কারণ বলে বিবেচিত হয়েছে।কেননা "বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে" গতিশীল করার জন্য যদি তারা এটি করে থাকত তাহলে গত বছরের-(২০১৯) ২০,২৪,২৭ জুলাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইডেন মহিলা কলেজ এবং কবি নজরুল সরকারি কলেজের অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনের কমিটি প্রদান করত। ইতিমধ্যে তাদের দায়িত্ব নেয়ারি এক বছর পার হয়ে গেছে তার পরও কমিটি হয়নি। আর যেসব ইউনিটের সন্মেলন হয়নি তাদের কথাতো বাদ-ই দিলাম।
তাদের চেয়ার কুক্ষিগত করা- এজন্যই বলছি,, কেননা এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের কোন বর্ধিত সভা পরিলক্ষিত হয়নি,, এমনকি কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের নেতৃবৃন্দদের কোন প্রকার দায়িত্বও বন্ঠন করা হয়নি অথচ কমিটির পূর্ণাঙ্গ বয়স প্রায় তিন বছরের মাঝেমাঝি পর্যায়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। উপরুন্ত শুনেছি কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের নেতৃবৃ্ন্দের বিভিন্ন ভাবে শাষাণো হয়েছে,, যাক এ বিষয়ে কোন কথা বলবো না_ যেহেতু আমি কেন্দ্রীয় বডির অংশ নই।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি জয় ভাই, সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য দাদা; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি সঞ্জিত দাদা এবং সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম ভাই - আপনাদের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ করতেছি আপনারা দ্রুত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ইউনিটগুলোর কমিটিগুলো প্রদান করুন_ নাহলে পরবর্তীতে এই কমিটিগুলো না দিয়েই চলে গেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো মেধাবী শিক্ষার্থীর প্রায় দীর্ঘ ৩ বছরের ঝরানো ঘামের অভিশাপ আপনাদের ছাড় দিবে না।
জয় ভাই-লেখক দাদা কে অনুরোধ করব আপনারাও সম্মেলনকৃত ইউনিট গুলোর কমিটি প্রদান করুন- শুন্য পদগুলো পূরণ করুন,যেসকল ইউনিটে দীর্ঘদিন কোন কমিটি হয়নি সেগুলোন প্রদান করুন,, না হলে "বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৩০ তম জাতীয় সম্মেলনের" ডাক আসলে এগুলোন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ইতিহাসে হাজারো ছাত্রলীগ কর্মীর বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে থাকবে।
ক্ষমতাকে কেউ কুক্ষিগত করতে পারে না।অনেক দেরি হয়ে গেছে।
ফ্যাক্ট-
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৩০ তম জাতীয় সম্মেলন।

উল্লেখ্য, ভিপি কামাল উদ্দিন সংস্কারপন্হী এবং প্রতিবাদী ছাত্রনেতা হিসেবে সংগঠনের কাঠামো সংস্কারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছেন।