যবিপ্রবির বিএমই বিভাগের শিক্ষার্থীদের তৈরী হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিনামূল্যে বিতরণ

  • 21 Mar
  • 10:10 PM

রাসেদুর রহমান, যবিপ্রবি প্রতিনিধি 21 Mar, 20

প্রাণঘাতি কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিজস্ব অর্থায়নে তৈরী হ্যান্ড স্যানিটাইজার শনিবার (২১শে মার্চ) বিকালে যশোর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও জনসমাগম মোড়ে রিক্সাওয়ালা, ভ্যান চালক, ইজি বাইক ড্রাইভার , ট্রাফিক পুলিশ , দোকানদার সহ সাধারণ মানুষের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।

প্রথমে যশোর শহরের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ডাক্তার এবং নার্সদেরকে এই হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করে । এরপর শহরের প্রাণকেন্দ্র দড়াটানা মোড় সহ বিভিন্ন মোড়ের ফল বিক্রেতা, রিক্সা ওয়ালা, ভ্যান চালক, পথচারী, ট্রাফিক পুলিশ, দোকানদার এবং পুলিশ সহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মাঝে এই হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিনামূল্যে বিতরণ করে।

শিক্ষার্থীদের নিজেদের উদ্যোগে নিজস্ব অর্থায়নে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ল্যাবরেটরিতে প্রাথমিকভাবে ১০০ মিলির ১৮০ পিচ বোতলের বেশি এই স্যানিটাইজার প্রস্তুত করে। প্রস্তুতকৃত হ্যান্ড স্যানিটাইজারের উপাদান হলো – ইথানল (৭০%), এলোভেরা জেল, অলিভওয়েল, ভিটামিন-ই ক্যাপসুল এবং ডিস্টিল ওয়াটার।

ল্যাবরেটরিতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরির কাজে গবেষণায় সহযোগীতা করেন বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ আল ইমরান। তিনি বলেন,“ সারা বিশ্বে নভেল করোনা ভাইরাসের মহামারী আকারে সংক্রমণের প্রেক্ষিতে যবিপ্রবির বিএমই বিভাগের শিক্ষার্থীরা সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে যে উদ্যোগ নিয়েছে তা প্রশংসনীয়। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে তারা হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করে রিকশা, অটো চালক ও দোকানদারদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তারা এই হ্যান্ডসেনিটাইজার বিনামূল্যে সরবরাহ করে। তারা বিশ্বাস করে নিম্নবিত্ত শ্রেণীর লোকেরাই এই রোগের সর্বপ্রথম বাহক হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকায় এই পেশাজীবী মানুষদের সংক্রমণ হওয়া থেকে বিরত রাখতে পারলে যশোর শহরের সংক্রমণ অনেকাংশেই হ্রাস পাবে। এই লক্ষ্যে বিএমই বিভাগের শিক্ষার্থীরা এই সকল লোকজনের মাঝে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিনামূল্যে বিতরণ করে”।

এ বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়ে বিএমই বিভাগের প্রভাষক মাহমুদুল হক মিলু বলেন, “করোনা ভাইরাস সংক্রমনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বারবার করে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বিশেষ করে ভালোভাবে হাত ধোয়ার ওপর জোর দিচ্ছে৷ কিন্তু বর্তমানে বাজারের উর্ধমুখী চাহিদার কারনে বিদ্যমান সংকট মোকাবেলায় সমাজের সকল স্তরের মানুষের কাছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার সহজলভ্য করতে ও বিনামূল্যে বিতরণের উদ্দ্যেশ্যে যবিপ্রবির বিএমই বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ৷ আমি এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই”।

হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সৈয়দ সাজিদ হাসান, মোঃ হোজ্জাতুল ইসলাম সাইদ, তৃতীয় বর্ষের শিক্ষর্থী নিলয় মন্ডল, মেহেদী হাসান প্রিন্স, আশিকুর রহমান , মোজাক্কির হোসেন ,তানভীরুল হক ,নাসের আরাফাত , সাহেব ইসলাম ও মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী আহসান সেতু সহ আরো অনেকে।

এ ব্যাপারে সহযোগিতায় ছিলো বায়োমেডিকেল ইন্ঞ্জিনিয়ারিং ক্লাব, যবিপ্রবি৷ সেন্টারস ফর ডিজিস কন্ট্রোল (সিডিসি) এর ভাইরাল ডিসিজ বিভাগের একজন প্রাক্তন এপিডেমিক ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস অফিসারের তথ্যমতে এই ফর্মুলাতে বাড়িতে উৎপাদিত হ্যান্ড স্যানিটাইজার ৬০ সেকেন্ডে প্রায় ৯৯.৯% জীবাণু দমনে সক্ষম।