লকডাউনেও যবিপ্রবির ল্যাবে নিয়ম বহির্ভূতভাবে দুই শিক্ষার্থীঃ অভিযুক্ত শিক্ষক

  • 05 May
  • 10:49 PM

যবিপ্রবি প্রতিনিধি 05 May, 20

নোভেল করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো বন্ধ রয়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)। মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস লকডাউন করা হয়েছে, বন্ধ করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের জিন প্রকৌশল ও জৈবপ্রযুক্তি (জিইবিটি) বিভাগের দুই শিক্ষার্থী সাইদুর রহমান ও আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শিক্ষকের ল্যাবে বেশ কিছুদিন ধরে দিনরাত যাপন করে সেখানেই আহার, নিদ্রাসহ সকল প্রয়োজনীয় কাজকর্ম ও গবেষণার কাজ করছেন। বিভাগীয় শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক ড. নাজমুল হাসান তাদের গবেষণার সুপারভাইজার হওয়ায় তিনি এ কাজ করাচ্ছেন।

এছাড়া ল্যাবটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব অ্যাকাডেমিক ভবনের অষ্টম তলায় অবস্থিত যেখানে ভবনের নিচতলায় জিনোম সেন্টারে মরণঘাতী করোনাভাইরাসের পরীক্ষা চলছে।

জিন প্রকৌশল ও জৈবপ্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষক এ বিষয়ে ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থীর সুপারভাইজার সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হাসান জানান, 'ওই দুই শিক্ষার্থী ল্যাবে অবস্থান করে কাজ করছিলেন কিনা জানি না তিনি জানতেন না, যখন জানতে পারি তখন তাদেরকে নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দিই।'

এ বিষয়ে শিক্ষার্থী সাইদুর রহমান বিষয়টি অস্বীকার করেন আর আমিনুল ইসলামকে মুঠোফোনে ফোন করলে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ড. মো. আমজাদ হোসেন জানান, 'করোনার প্রাদুর্ভাবের শুরুর দিকে মার্চ মাসের ১৮ তারিখে সকল শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে বলা হয় তারপর যখন জিনোম সেন্টারে করোনা পরীক্ষা শুরু হয় তখন ক্যাম্পাস লকডাউন করা হয়, বন্ধ করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম।

অনুমতি সাপেক্ষে করোনাভাইরাসের গবেষণা ব্যতীত অন্য কোনো ধরনের গবেষণা কর্ম চালানোর সুযোগ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের অনুমতি ব্যতীত ক্যাম্পাসের ল্যাবে এত দিন ধরে অবস্থান করা ঠিক নয়, তাদেরকে বন্দি রেখে যে সকল শিক্ষকগণ এমন কাজ করছেন তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনা দরকার। তাছাড়া তারা যে অ্যাকাডেমিক ভবনে অবস্থান করছেন সেখানেই মরণঘাতী করোনাভাইরাস নির্ণয়ের পরীক্ষা চলছে। তারা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।'

এ বিষয়ে যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন জানান, 'করোনার এ সময়ে ল্যাবে অবস্থান করা একদমই ঠিক হয়নি। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকদের বিষয়টি অবগত করে অতি দ্রুত নিরাপত্তার সঙ্গে শিক্ষার্থীদেরকে বাসায় পৌঁছানোর নির্দেশ দিই'।