মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বহনকারী পবিপ্রবির ‘জয় বাংলা’

  • 17 Aug
  • 10:34 AM

প্রতিমা, পবিপ্রবি প্রতিনিধি 17 Aug, 21

১৯৭১ সালে নয় মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর আমরা পেয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থাপনা করা হয়েছে অসংখ্য মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি ভাস্কর্য। তেমনি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষার্থে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে এক অনবদ্য মুক্তিযুদ্ধ ভাস্কর্য "জয় বাংলা"।

দক্ষিনাঞ্চলের পটুয়াখালী জেলায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংবলিত প্রথম স্থাপনা এটি। বাঙালির নির্ভীক চেতনাকে ধারণ করতে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য বীরমুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড.সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে একটি স্মৃতি ভাস্কর্য নির্মানের উদ্যোগ নেন। এরপর বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের পৃষ্ঠপোষকতায় পবিপ্রবির প্রশাসনিক ভবনের সম্মুখে গড়ে তোলা হয় " জয় বাংলা"। ২০১১ সালের ৩০ মার্চ ভাস্কর্যটির শুভ উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম।

ভাস্কর্যটির পাদদেশে রয়েছে লাল রঙের সিরামিক ইট দিয়ে ঘেরা ১৫ ইঞ্চি উঁচু ৪০ফুট × ৩০ ফুট মাটির একটি স্তরের উপর ১৫ ইঞ্চি উঁচু ২২ফুট ×১৬ ফুট আরেকটি ধাপ। এর ঠিক মাঝ বরাবর কালো গ্রানাইট পাথর দ্বারা সুসজ্জিত একটি আরসিসি বেদির ওপর ১৯ ফুট উঁচু স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি এক মুক্তিযোদ্ধার প্রতীকী যার কাঁধে রয়েছে একটি রাইফেল, মাথায় গামছা বাঁধা এবং হাতে রয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। যা বারবার আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সাহসী বাঙালির সংগ্রামের কথা মনে করিয়ে দেয়।

মুক্তিযুদ্ধের সময় "জয় বাংলা" স্লোগানটি যেমন বাঙালিকে স্বাধীনতার ডাকে সাড়া দিতে বারবার অনুপ্রাণিত করেছিল ঠিক তেমনি শিক্ষার্থীদের সকল প্রকার দাবি ও অধিকার আদায়ে সংগ্রাম- আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু পবিপ্রবির এই জয় বাংলা চত্বর।

"জয়বাংলা " ভাস্কর্যের তাৎপর্য -মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে দেশ গড়ার প্রত্যয়ে অকুতোভয়ে এগিয়ে যাক আমাদের তরুণ সমাজ। পবিপ্রবির হৃদয় জুড়ে "জয়বাংলা "।