‘মানব পাচার রোধ করা জরুরি’

  • 04 Sept
  • 01:19 PM

ভার্সিটি ভয়েস ডেস্ক 04 Sept, 21

মানব পাচার বল প্রয়োগের মাধ্যমে সংঘঠিত এমন একটি জঘন্য অপরাধ যা মানুষের মুক্ত চলাচলের অধিকারকে হরণ করে। সভ্যতার চরম উৎকর্ষের এ যুগেও মানুষ পণ্যে রুপান্তর হচ্ছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ৫০ বছর পর আজও মানবপাচার দেশ থেকে নির্মূল করা যায়নি। করোনা মহামারীর এই অবস্থায় যেখানে গোটা বিশ্ব ব্যবস্থা আজ থমকে গেছে সেখানে বাংলাদেশ মানবপাচার মতো ঘৃণ্য অপরাধের বৈচিত্র লক্ষণীয়।

মানবপাচার বিষয় সম্পর্কে কারোরই অজানা নয়। সীমানার বাইরে বিক্রয়, বিনিময় বা অন্য কোনো অবৈধ কাজে নিয়োগের জন্য নারী-পুরুষ-শিশু ব্যক্তিকে পাচার করে দেওয়া হয়। নানা ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে চলছে পাচার কাজ। পুরুষের পাশাপাশি নারী ও শিশু পাচার চক্রের কবলে পড়ছে। একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার মতে, বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর প্রায় সাত লাখ মানুষ অবৈধভাবে বিদেশে পাড়ি জমান, যাদের একটি বড় অংশ যায় পাচার হয়ে। নারীদের চাকরি দেওয়ার নাম করে পাচার করে দেওয়া হয়। তারপর তাদের যৌনকর্মী হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

মানব পাচারের পিছনে নানা কারন রয়েছে যেমনঃ দারিদ্র,কর্ম সুযোগের অভাব,স্বল্প শিক্ষা, ভঙ্গুর পরিবার,পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা। বেকারত্ব ও অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে অনেক নারী ও পুরুষকে পাচার করছে। যুবকেরা তাদের ভাগ্য ফেরাতে ও সুবিধা করতে বিদেশে যেতে চায় নিজের শেষ সম্বলটুকু দিয়ে কিন্তু অনেক সময় তারা সেই পাচারকারীর হাতে গিয়ে পড়ে। তারা পতিত হয় অন্ধকার জীবনে। প্রতিবছর কত মানুষ পাচার হয় তার কোনো সঠিক রেকর্ড কর্তৃপক্ষের কাচে নেই। চলতি বছরের ১৬ আগষ্ট ভারতে পাচার হওয়া মা- মেয়ে পালিয়ে দেশে আসেন। বিউটি পার্লারে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েটিকে পাচারচক্র ভারতে পাচার করে দেয়। মেয়েকে ফিরিয়ে আনতে মা ও সেই পাচারকারীদের দ্বারা ইচ্ছাকৃতভাবে ভারতে যায় এবং মেয়েকে নিয়ে দেশে আসেন।

এমন হাজারো ঘটনা ঘটছে কতৃপক্ষের অজান্তেই। এইতো তিন চারদিন আগের ঘটনা, শুশুর বাড়ির লোকেরা পাচারকারীর মাধ্যমে পাচার করে দিয়েছিল জাহিদা খাতুন নামের ঝিনাইদহের এই মহিলাকে, তিনি ৩২ বছর পর দেশে ফিরে আসতে সক্ষম হয়। তিনি বলেন,তার মতো আরো অনেক নারী পাকিস্তানে পাচার হয়ে আটকে আছে। ঠিক এমনভাবেই, হাজারো নারী, শিশু পাচার হয়ে যাচ্ছে কতগুলো বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষের দ্বারা। বিজিবির তথ্য অনুযায়ে,২০২১ সালের জানুয়ারি -জুলাই পর্যন্ত সীমান্ত অবৈধভাবে পাচারকালে উদ্ধারকৃত নারীর সংখ্যা ২৫ জন,পুরুষ ৩৩ জন ও শিশু ৭ জন। লিবিয়া ও ইউরোপে পাচার হচ্ছে দেশের দক্ষ জনশক্তি। আর কতো নারী,পুরুষ ও শিশুযে পাচার হচ্ছে তার সঠিক কোনো তথ্যই নেয় কতৃপক্ষের কাছে। আমরা সংবাদ মাধ্যমে পাচার হওয়া নারী -পুরুষের অনেক মর্মান্তিক ঘটনা জানতে পারি। তাও কেনো কতৃপক্ষ এই বিষয় সম্পর্কে সজাগ হয়না। মানব পাচার দমন ও প্রতিরোধ আইন-২০১২ থাকলেও যথার্থ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। কতৃপক্ষের প্রয়োজন পাচারের সাথে জড়িত পাচারচক্রকে আইনের আওতায় আনা। কঠোর পদক্ষেপ ও নজরদারি নিতে হবে এই মানব পাচারের বিরুদ্ধে। তাছাড়া, মানুষকে সচেতন করা ও জরুরি তারা কোনোভাবেই যেনো পাচারচক্রের ফাদে না পড়ে। কতৃপক্ষকেও কঠোরভাবে এই ঘৃন্য অপরাধ দমন করতে হবে। সবার সদিচ্ছা আর সম্মিলিত উদ্যোগ মানব পাচারের মতো ঘৃন্য অপরাধকে পৃথিবী থেকে চিরতরে বিলোপ করতে পারে। আইনের যথার্থ প্রয়োগে এবং কঠোরভাবে নজরদারির মাধ্যমে মানব পাচার রোধ করা যাবে।


লেখকঃ-
মানছুরা আক্তার সাদিয়া 
শিক্ষার্থী,সমাজকর্ম বিভাগ,জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।