মানবিক পুলিশ মনসুর হোসেন মানিক

  • 03 June
  • 01:49 AM

ভার্সিটি ভয়েস ডেস্ক 03 June, 20

বিনা চিকিৎসায় পথে-ঘাটে পড়ে থাকা দুস্থদের নিজ খরচে সেবা করছেন।করোনাকালীন সময়ে ঢাকা নগরীর রাস্তায় ঘুরে ঘুরে অসংখ্য অসহায়কে সেবা দিচ্ছেন। মহামারির এই সময়ে নিজের বেতনের টাকায় মাস্ক, গ্লাভস, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও খাবার বিতরণ করেন।অভিভাবকহীন অসহায় দুস্থদের নিয়মিত সেবা করছেন তিনি।বলছিলাম এক মানিক মানবিক পুলিশের কথা।বলছিলাম কলাবাগান থানার উপ-পরিদর্শক মনসুর হোসেন মানিক এর কথা।

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন এই পুলিশ সাব ইন্সপেক্টর। তিনি বর্তমানে রাজধানীর কলাবাগান থানায় বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সহ-প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের প্রচার সম্পাদক এবং নিজ বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি তাঁর মানবিক কাজ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে। মানব সেবার উদ্দেশ্য সম্পর্কে মানিক বলেন, ‘মানুষ মানুষের জন্য। কখনো কাউকে ফেলে যেতে পারি না। যতটুকু পারছি সাহায্য করছি। করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করছি। মানুষের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে আমি প্রস্তুত। সহকর্মীরা প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছেন। তবু ভয় পাই না। মানুষের সেবা দিয়ে চলেছি।’

মানবিক পুলিশ হয়ে উঠার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মানুষের সেবায় বিভিন্ন পেশায় কর্মরত রয়েছেন ডাক্তার, পুলিশ, অ্যাডভোকেট, ব্যবসায়ী, শিক্ষক ইত্যাদি। তারা যখন তাদের পেশার বাইরে থেকে কোনো গরীব, দুঃখী, অসহায় মানুষের জন্য কাজ করে তাদের জীবিকার ব্যবস্থা করে, সেগুলো মানবিক কাজ। যেমন আমি পুলিশ অফিসার আমার কাজ হচ্ছে মামলা নেওয়া, আসামি গ্রেপ্তার করা, আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করা। কিন্তু আমি যখন এগুলোর পাশাপাশি মহামারি বা দুর্যোগে গরীব, দুঃখী, অসহায় মানুষের সেবা করি বা তাদের জন্য কাজ করি, তা হচ্ছে মানবিক কাজ।’

চলমান সময়ে কাউকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হলে ওষুধ বা নগদ টাকা এবং রাস্তার অনাহারে থাকা মানুষকে খিচুড়ি, আপেল, পাউরুটি, বিশুদ্ধ পানি ও মাস্ক-সবটুকুই তিনি তার সাধ্যমতো সরবরাহ করে আসছেন। আর এর সবটুকুই তাঁর বেতনের টাকায়।একজনের পক্ষে সব মানুষের সেবা করা কঠিন। ঈদের আগেও তিনি মানবিক কাজগুলো চালিয়ে গেছেন। ঈদ কেমন কাটলো জানতে চাইলে মানিক বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ ভালো কেটেছে ঈদ। তেমন কষ্ট হচ্ছে না। তবে ঈদে পরিবারকে কোনো নতুন জামা-কাপড় কিনে দিতে পারি নাই।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘সবাইকে সৎ থাকতে হবে। সিনিয়রদের সম্মান ও জুনিয়রদের স্নেহ করা শিখতে হবে। শিক্ষকদের সাথে কখনো খারাপ ব্যবহার করা যাবে না। জীবনে লক্ষ্য থাকতে হবে, আর সেই অনুযায়ী কাজ করে যেতে হবে।’