মানবতার চিকিৎসক ডাঃ মাহফুজুর রহমান

  • 23 May
  • 06:27 AM

পাবিপ্রবি প্রতিনিধি 23 May, 20

পৃথিবীর প্রায় সবপ্রান্তেই এখন উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় ভরা। প্রতিটি মুহুর্তে মৃত্যুর ভয়ংকর সংবাদ মানুষের হৃদপিণ্ড কাপিয়ে তুলছে। করোনা ভাইরাসের সর্বগ্রাসীরূপ মানুষের মনের শান্তি ও চোখের ঘুম দুটোই কেড়ে নিয়েছে। এখন যেন একটা সুসংবাদ মানুষের কাছে দুর্লভ হয়ে গেছে। তবে ঘোর অন্ধকারের মধ্যেও কিছু মানুষ আশার মোমবাতির আলো হয়ে দাড়িয়ে থাকে অন্ধকার রাস্তাকে কিছুটা আলোকিত করতে। সেই হালকা মোমবাতির আলোর মধ্যেই অনেকেই খুজে পায় জীবনের সজীবতা। সেই আলোকে কেন্দ্র করেই জীবন ফিরে পায় তার গতি ও প্রকৃতি। এমনই এক মোমবাতির আলোকরশ্মি হয়ে দেখা দিয়েছে পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার ফৈলজানা ইউনিয়নের কৃতিসন্তান ডাঃ মাহফুজুর রহমান। সবাই তাকে ডাঃ মাহফুজ নামেই চিনে।

ডাঃ মাহফুজ তার শৈশব ও কৈশোর গ্রামেই কাটিয়েছেন। তিনি ২০০৮ সালে শরৎগঞ্জ টি.এ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি এবং ২০১০ সালে পাবনার সরকারী শহীদ বুলবুল কলেজ থেকে এইচ.এস.সি পাশ করেন। প্রথমবছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন পরে রাজশাহী মেডিকেলে সুযোগ হলে সেখানে ভর্তি হন এবং এম.বি.বি.এস কোর্স সম্পন্ন করেন। তিনি ৩৯তম বি.সি.এস পরীক্ষায় স্বাস্থ্য ক্যাডার হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন।

বর্তমানে ডাঃ মাহফুজুর রহমান সহকারী সার্জন পদে ফরিদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র,পাবনায় কর্মরত রয়েছেন। করোনা ভাইরাসের মহাদুর্যোগের সময় যে সকল ডাক্তার নিজের জীবন বাজি রেখে দেশের তরে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন ডাঃ মাহফুজ তাদেরই একজন। জীবনের ঝুকি থাকা সত্ত্বেও ডাঃ মাহফুজ করোনা উপসর্গ থাকা মানুষের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠিয়ে দিচ্ছেন।

সবারই স্বপ্ন থাকে ডাক্তার হয়ে এলাকার গরীব দুঃখী মানুষকে বিনামুল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়া। এক্ষেত্রে ডাঃ মাহফুজ যেন তার বাস্তবিক রূপ। এজন্য তিনি তার নিজ গ্রাম লক্ষীপুরের শরৎগঞ্জ বাজারে খুলেছেন ইসলামিয়া মেডিকেল সেন্টার। সেখানে তিনি গরীব দুঃখী মানুষকে স্বল্পমুল্য ও বিনামুল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সারাদিন তিনি তার মেডিকেল সেন্টারে এলাকার মানুষদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন। করোনার এই সংকটকালীন সময়ে তিনি নিজেকে ঘরে আবদ্ধ করে রাখেন নি। নিজেকে উজাড় ও বিলীন করে দিয়ে দিনরাত মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাজ করে চলেছেন।

এদিকে ডাঃ মাহফুজুর এই চিকিৎসা সেবা পেয়ে গ্রামের মানুষদের মধ্যে একধরনের আনন্দ ও উৎফুল্লতা প্রকাশ পেয়েছে। তাদের আশা মাহফুজের মতো এমন তরুণ ডাক্তাররাই পারবে এদেশের চিকিৎসা ব্যাবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে। কবি রবীন্দ্রনাথের ভাষায় যদি বলি" উদয়ের পথে শুনি কার বাণী,ভয় নাই ওরে ভয় নাই,নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান, ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই।