মানতে হলে জানতে হবে। আসুন জানি জামা’আতে নামাজের ব্যাপারে

  • 23 Mar
  • 03:00 PM

ড. মাসুম সরকার আজহারী 23 Mar, 20

ইসলামে জামা’আতে নামাজের ব্যাপারে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
(১) যুদ্ধের ময়দানেও জামা’আত ছাড়ার অনুমতি দেয়া হয়নি। (আননিসা, ১০২)।
(২) একাকী নামাজের চেয়ে জামা’আতের সাওয়াব ২৫/২৭গুণ বেশী। (বুখারী, ৬৪৫, ৬৪৬)।
(৩) তাছাড়া জামা’আতে যাওয়ার প্রতি কদমে সাওয়াব লিখা হয়, মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়, গুণাহ মাফ করা হয়।(মুসলিম, ২৫৭)।
(৪) অন্ধকারে মাসজিদে গমনকারীকে কিয়ামাতে পরিপূর্ণ নূর দেয়া হবে। (তিরমিযি,২২৩)। ...ইত্যাদি।
.
জামা’আতে নামাজ কেনঃ
জামা’আতে নামাজের হিকমাত হলো, মুসলিমদের মাঝে ভাতৃত্ব, সৌহার্দ, সম্প্রীতি তৈরী করা। মর্যাদার তারতম্য ও ভেদাভেদ দূর করে সাম্য প্রতিষ্ঠা করা।
.
জামা’আতে নামাজের হুকুমঃ
হানাফী ও মালিকীদের মতে, ফরজ নামাজ জামা’আতে পড়া সুন্নাহ মু’আক্কাদাহ। আর শাফি’য়ীদের মতে, ফরজে কিফায়াহ। আর হাম্বালীদের মতে, ফরজে ‘আইন। কারণ যুদ্ধের ময়দানে এমনকি অন্ধ ব্যক্তিকেও ছাড় দেয়া হয়নি। তবে হাম্বালীদের মতে, নামাজ সহীহ হওয়ার জন্য জামা’আত শর্ত নয়।
.
জামা’আত কখন ওয়াজিব করা হয়?
নামাজ ফরজ হয়েছে হিজরতের ৫বছর পূর্বে মি’রাজের সময়। আর জামা’আতে নামাজ ওয়াজিব করা হয়েছে হিজরতে পর। তার মানে হিজরতের আগে মাক্কায় একাকীই নামাজ পড়া হতো।
.
যে সব ওজরের কারণে জুমু’আহ ও জামা’আত ছেড়ে দেয়া জায়িয।
(১) রোগঃ এমন অসুস্থ যার কারণে মাসজিদে উপস্থিত হতে অক্ষম।
(২) রোগের ভয়ঃ মাসজিদে গেলে অসুস্থ হওয়ার ভয় থাকলে।
(৩) শারীরিক অক্ষমতাঃ অতিবৃদ্ধ, অন্ধ, হাত-পা না থাকা তথা শারীরিক প্রতিবন্ধী।
(৪) রোগীর পরিচর্যাঃ রোগীর সেবা-শুশ্রূষাকারী রোগীকে রেখে গেলে রোগীর জীবন নাশের ভয় হলে।
(৫) ক্ষতির আশংকাঃ জান, মাল, পরিবার, সম্মান ইত্যাদির ক্ষতির ভয় থাকলে।
(৬) বৃষ্টি, কর্দমাক্ত মাটি, প্রচণ্ড শীত, তুষারপাত, প্রচণ্ড গরম, দিনে ঝড়ো হাওয়া, ঘোর অন্ধকার।
(৭) পেশাব-পায়খানার প্রচণ্ড বেগ বা চাপ অনুভব করলে।
(৮)ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত অবস্থায় খাদ্য ও পানীর প্রস্তুত থাকলে।
(৯) সফর অবস্থায় কাফেলা (বর্তমানে ফ্লাইট, ট্রেন... ইত্যাদি)মিস করার আশংকা থাকলে।
(১০) দুর্গন্ধযুক্ত কোন কিছু কাঁচা খাওয়ার পর গন্ধ দূর করতে সক্ষম না হলে। যেমনঃ কাঁচা পেঁয়াজ, রসূন, মূলা ইত্যাদি।
(১১) শ্বেত বা কুষ্ঠ রোগী যার উপস্থিতিতে মুসল্লিরা কষ্ট পাবে।
(১২) কোন স্থানে বন্দী বা আটক থাকলে।
(১৩) ভূমিকম্প হলে বা মাসজিদের সাদ ধ্বসে পড়ার আশংকা থাকলে।
(১৪) গ্রেফতার হওয়ার বা কোন শাস্তি পাওয়ার আশংকা থাকলে।
(১৫) ঋণ আদায়ে অক্ষম ঋণগ্রহীতাকে ঋণদাতা কর্তৃক আটক বা শাস্তির ভয় থাকলে।
(১৬)বিরক্তির-অতিদীর্ঘ এবং ধীরগতিতে ইমাম নামাজ পড়ালে।
(১৭) এমনকি মালেকী এবং হাম্বলীদের মতে নববিবাহিত পুরুষের জন্য ৬দিন পর্যন্ত জায়িয আছে।
উপরোক্ত কোন কারণে জামা’আত ছাড়া একাকী নামাজ পড়লেও জামা’আতের সাওয়াব পাওয়া যাবে।
(বিস্তারিত দেখুনঃ ওয়াহবাহ আলযুহাইলী, আলফিকহ আলইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু, দিমাশক, দারুল ফিকর, ৪র্থ সংস্করণ, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ১১৮৭-১১৯১)।
.
অনেকে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত এলাকায়ও জামা’আতে নামাজ পড়ার ব্যাপারে অত্যন্ত আবেগঘন স্টেটাস দিচ্ছেন।
যুক্তি হিসেবে বলছেন, যেখেনে যুদ্ধাবস্থায় জামা’আত ছাড়ার অনুমতি নাই সেখানে রোগের ভয়ে কীভাবে জামা’আত ছাড়া যাবে?!!
তাদের উদ্দেশ্যে বলবো-
প্রথমতঃ
উপরোক্ত ১৭টি কারণের সাথে করোনা ভাইরাসকে বিবেক দিয়ে তুলনা করুন।
দ্বিতীয়তঃ
সলাতুল খাওফ (ভয়ের সময়ের নামাজ) এর ১৬টি পদ্ধতি হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত আছে। এতগুলো পদ্ধতি হওয়ার কারণ একটাই। আর তা হলো, যখন যেভাবে সহজ হয়েছে, সেভাবেই রাসূল (সা) তা আদায় করেছেন।
তৃতীয়তঃ
সকল মাজহাবের ইমামগণ একমত যে, তুমুল যুদ্ধাবস্থায় শুধু জামাত ছাড়াই জায়িয নয়, বরং নামাজের অনেক রুকন ছেড়ে দেওয়াও জায়িজ। যেমনঃ সে অবস্থায় জামা’আত ছাড়া একাকী, বসে, দাঁড়িয়ে, দৌড়ানো অবস্থায়, বাহনের পিঠে চড়ে, কিবলামুখী হয়ে কিংবা কিবলা ছাড়া, ইশারায় রুকু-সিজদা করে নামাজ পড়া জায়িয। (বিস্তারিত দেখুনঃ আলযুহাইলী, আলফিকহ আলইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু, ২/১৪৫৭-১৪৭০)।
তাই অতি আবেগী না হয়ে বিবেক বুদ্ধিকে কাজে লাগান।