‘মাদকের ভয়াবহতা রুখতে হবে’

  • 31 July
  • 07:18 PM

ভার্সিটি ভয়েস ডেস্ক 31 July, 21

মাদকের ভয়াবহতা গোটা বিশ্ব কে গ্রাস করে ফেলেছে। বতিক্রম নয় বাংলাদেশ। মাদকের কড়াল গ্রাসে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে আমাদের যুব সমাজ। যদি আমরা এই মাদকের ভয়াবহতা রুখতে না পারি তাহলে তরুণ সমাজ বিপথে চলে যাবে ,নষ্ট হয়ে যাবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।

মাদকদ্রব্য বলতে বোঝানো হয় যে, এমন দ্রব্য, যা খেলে নেশা হয়। এগুলো হল গাঁজা, ফেন্সিডিল, চরস, ভাঙ, গুল, জর্দা, হেরোইন, প্যাথেদ্রিন, মদ, ইয়াবা ইত্যাদি। যখন কেও এসব দ্রব্যাদির উপর নেশাগ্রস্থ হয় ,তখনই তাকে মাদকাসক্ত বলা হয়। সাধারনত মানুষ নেশা গ্রস্ত হয় বন্ধু-বান্ধব এর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে। হতাশা ,প্রেমে ব্যর্থতা,একাকীত্ব এগুলো মাদক গ্রহনের অন্যতম কারণ। কৌতুহল বশত এবং নিজেকে স্মার্ট দেখানোর জন্য কেউ মাদক গ্রহন করে থাকেন।

বাংলাদেশে মাদকাসক্তের প্রায় ৮০ শতাংশই কিশোর এবং ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী যুবক এবং দেশের প্রায় ৭০ লাখ মানুষ মাদক গ্রহনের সাথে জড়িত। মাদকদ্রব্য গ্রহনের ফলে শারীরিক, মানসিক ,অর্থনৈতিক ও সামাজিক নানা ধরনের ক্ষতি হয়ে থাকে। শারীরিক ক্ষতির মধ্যে মস্তিষ্ক ও শ্বাসযন্ত্রের ক্ষমতা কমে যাওয়া ,শ্বাসকষ্ট , ফুস ফুসের ক্যান্সার সহ নানা রোগের সৃষ্টি করে। মানসিক ক্ষতির মধ্যে কাজের দক্ষতা কমে যায় , বিচার-বিবেচনার ক্ষমতা থাকেনা। তাই সবার সাথে খারাপ আচরন করে এবং উগ্র আচরণের জন্ম
দেয়। অর্থনৈতিক ক্ষতির মধ্যে মাদকের টাকা জোগাড় করার জন্য পরিবারের উপর চাপ দেয়, কর্মক্ষম জনশক্তি কমে যায়। সামাজিক ক্ষতির মধ্যে সমাজের মধ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট হয়। মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে সমাজের অন্যান্য অপরাধের সাথে নিজেদের জড়িয়ে ফেলে যার মধ্যে ধর্ষণ ,ইভটিজিং ,চুরি , ডাকাতি অন্যতম।

মাদক প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা, শিক্ষা, পরিমিত জীবন যাপন, বন্ধু নির্বাচন, দায়িত্বশীলতা ইত্যাদি মাদকাসক্তি প্রতিরোধ ও প্রতিকারের পথ। পারিবারিকভাবে অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে তাদের সন্তান কাদের সাথে মিশছে। আর মাদকের ক্ষতিকর দিকগুলো তাদের সামনে তুলে ধরতে হবে। সন্তানদেরকে বেশি বেশি সময় দিতে হবে যাতে তারা মাদকের দিকে ঝুকে না পড়ে। খেলাধুলা সহ নানা চিত্তবিনোদন এর বাবস্থা রাখতে হবে। সামাজিকভাবে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে ,মাদকের সহজলভ্যতা রোধ করতে হবে।

সর্বোপরি মাদকের প্রশ্নে সবাইকে একযোগে 'না' বলা শিখতে হবে। রাষ্ট্রের উচিত প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য সেমিনার করা। তাছাড়া বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতনতা মূলক সেমিনার ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা। যারা এগুলো(মাদক) বানানো,বিক্রি ও পরিবহন এর সাথে জড়িত তাদের কে কঠোর শাস্তি প্রদান করা। আর এভাবেই মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পেতে পারে এই সমাজ। গড়ে উঠতে পারে দেশের জন্য একটি সুন্দর আগামী৷


লেখকঃ
মোঃ আল মাহ মুদ
শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।