‘মাদকের অপব্যবহার এবং অবৈধ পাচার বন্ধ করতে হবে’

  • 25 June
  • 02:56 PM

ভার্সিটি ভয়েস ডেস্ক 25 June, 21

মানুষ অসুস্থতা থেকে পরিত্রাণ পেতে বিজ্ঞানের সহায়তায় আবিষ্কার করেছে বিভিন্ন মাদক বা ঔষধ যেটা গ্রহণ করলে অনেক প্রকারের রোগ এবং মরণব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। কিন্তু কিছু মাদকের অতিরিক্ত ব্যবহার বা অপব্যবহার থেকে জন্ম নিতে পারে এর প্রতি ভয়ানক আসক্তি যেটা মানুষের রোগকে প্রতিরোধ না করে জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলে দিতে পারে। সর্বপ্রথম চীনে ১৮৩৯ সালের ২৬ জুন প্রথম আফিম ব্যবসা নিষিদ্ধ হয়। এই দিনটিকে স্মরণে রেখেই প্রতিবছর ২৬ জুন সারা বিশ্বে মাদকের অপব্যবহার এবং অবৈধ পাচারবিরোধী দিবস পালন করা হয়।

মানুষের কিশোর বয়সে কৌতুহলের কমতি থাকেনা কোনোকিছুর প্রতি। কিন্তু এই কৌতুহল কখনো কখনো টেনে নিয়ে যায় ধ্বংসের দিকে। যার মধ্যে মাদকের অপব্যবহার বা মাদকাসক্তি এখন সবার শীর্ষে। একজন মানুষ খুব সহজেই মাদকাসক্ত হয়ে যেতে পারে তার পারিপার্শ্বিক পরিবেশের জন্যে। আর বয়ঃসন্ধিকালে ছেলেমেয়েরা সাধারণত মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে কৌতুহল এবং হতাশায় থাকার কারনে। ফলস্বরূপ মাদকদ্রব্য কেনার অর্থের যোগান দিতে পরিবারের সাথে শুরু হয় মনোমালিন্যের। অনেক সময় পরিবার থেকে অর্থের যোগান না পেলে চুরি,ডাকাতি এমনকি ছিনতাই এর মত অপরাধ করতে শুরু করে কিশোর-কিশোরী। এভাবেই জন্ম হয় কিশোর গ্যাং এর। বর্তমানে মাদকদ্রব্য সহজলভ্য হয়ে যাওয়ায় মাদকসেবিদের হারও বেড়ে চলেছে খুব দ্রুত। কেউ চাইলে খুব সহজেই তার কাঙ্খিত মাদকদ্রব্য হাতের নাগালে পেয়ে যাচ্ছে। আর এই মাদক গ্রহনের ফলে প্রবল স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ে যাচ্ছে যুবসমাজ। যাদের দেশের হাল ধরার কথা ছিলো তারা নিজেকে তিলে তিলে নিঃশেষ করে ফেলছে। প্রশাসন যদিও মাদক নির্মূল করতে বদ্ধপরিকর কিন্তু মাদকবিক্রেতাদের দৌরাত্মের কারনে পুরোপুরি সেটা নির্মূল করা সম্ভব হচ্ছেনা। নিয়ন্ত্রণহীন মাদকবানিজ্য এবং যুবসমাজের মাদকাসক্তি জন্ম দিয়েছে সামাজিক বিশৃঙ্খলার। অনেক ক্ষতিকর মাদক রয়েছে যা গ্রহনে শুধু শারীরিক ক্ষতিই নয় হতে পারে মানসিক বিকৃতি পর্যন্ত।

মাদকদ্রব্য সহজলভ্যতার পেছনে সবথেকে বড় কারন হচ্ছে মাদকের অবৈধ পাচার। বেশিরভাগ সময় মাদকসহ পাচারকারী ধরা পড়লেও প্রতিনিয়ত আবিষ্কার হচ্ছে সৃজনশীল এবং অভিনব কৌশল যার ফলে মাদকের অবৈধ পাচার রোধকল্প হয়ে পড়েছে অপ্রতিরোধ্য। করোনা পরিস্থিতিতেও থেমে নেই মাদকের পাচার। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৬০ লক্ষাধিক মাদকাসক্ত রয়েছে। এই বিপুলসংখ্যক মাদকসেবিদের কাছে মাদক পৌছে যাচ্ছে তাদের চাওয়া মাত্রই। এ পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া মাদকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো হেরোইন, ইয়াবা, গাঁজা, রেক্টিফাইড স্পিরিট, মরফিন, কেডিন, ফেনসিডিল, প্যাথেডিন, ব্রুপ্রেনরফিন, টিডি জেসিক, কোডিন ট্যাবলেট, ফার্মেন্টেড, বনোজেসিক ইনজেকশন(বুপ্রেনরফিন), টেরাহাইড্রোবানাবিল, এক্সএলমুগের, আইসপিল, ভায়াগ্রা, সানাগ্রা, টলুইন, পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট, মিথাইল, ইথানল ও কিটোন। এগুলোর মধ্যে বর্তমানে জনপ্রিয়তার সবচেয়ে শীর্ষে রয়েছে ইয়াবা। কারণ ইয়াবা আকারে ছোট হওয়ায় সহজে বহনযোগ্য। তাই অন্য মাদকের তুলনায় ইয়াবা বিক্রেতারা খুব সহজে ও নিরাপদে এটির পাচার করছে।
মাদকের অপব্যবহার এবং অবৈধ পাচার রোধকল্পে সবার আগে জনগণকে সচেতন হতে হবে। এ ধরনের সামাজিক ব্যাধি মোকাবেলা করা শুধুমাত্র আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একার পক্ষে সম্ভব নয়, এজন্য সামাজিক এবং পারিবারিক অবস্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু মাদকসেবিদের বড় একটা অংশ যুবসমাজ সেক্ষেত্রে তাদের পরিবারকে এ বিষয়ে কঠোর হতে হবে। তাদের সন্তান কোথায় যাচ্ছে কার সাথে মিশছে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রতিদিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিকট অনেক মাদক পাচারকারী ধরা পড়ে। এদেরকে কঠোর শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এবং এসকল মাদক পাচারকারীদের শাস্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও তাদের কর্মকাণ্ডের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। 
মাদকের ভয়াল আগ্রাসন একটা জাতিকে ধ্বংস করে দিতে সক্ষম। এই আগ্রাসন থেকে দেশ এবং জাতিকে মুক্ত করতে মাদক সরবরাহের পথ বন্ধ করতে হবে এবং মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে।


লেখকঃ শেখ শাহরিয়ার হোসেন। 
শিক্ষার্থী, সমাজকর্ম বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।