মহামারি করোনায় শিক্ষার্থীদের মানসিক যত্ন

  • 20 July
  • 08:17 PM

পবিপ্রবি প্রতিনিধি 20 July, 21

স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার পাশাপাশি মানসিক যত্ন নেওয়াও অত্যাবশ্যকীয়। কিন্তু বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মহামারিতে দীর্ঘদিন প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বিচ্ছিন্ন শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে ব্যাঘাত ঘটছে।

একদিকে যেমন মহামারির ভয়াবহ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকরা হতাশাগ্রস্ত, তেমনি অন্যদিকে নিজেদের মানসিক বিকাশে, বন্দী সময়কে কাজে লাগিয়ে নিজেদের দক্ষ করে তুলতে সচেষ্ট আমাদের যুবসমাজ।

বাংলাদেশ সৃষ্টির জন্মলগ্ন থেকে শুরু করে বর্তমানেও তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে থেমে থাকছে না শিক্ষার্থীরা। থমকে যাওয়া সময়ে মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আত্মীয়- পরিজনদের সাথে যোগাযোগসহ নিজেদের প্রতিভা বিকাশে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে তারা। এই আবদ্ধ জীবনে আগামীদিনের একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে ফ্রিল্যান্সিং, গ্রাফিক্স ডিজাইনিং সহ আরো অনেকে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এ প্রসঙ্গে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি অনুষদের ছাত্রী সুচরিতা হালদার বলেন, " প্রথম দিকে সারাদিন বাসায় থাকার কারনে অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়তাম, মোবাইলে সারাদিন ফেইসবুকিং বা ভিডিও দেখতাম এবং প্রতিদিন সংক্রমণের খবর খুবই হতাশ করতো। পরবর্তীতে নিজেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করলাম বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে। মোটামুটিভাবে অনলাইন ছাড়া তো এখন কোন উপায় নেই। অনলাইনে কাজের মাধ্যমে নিজেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করছি।"
এছাড়াও বিভিন্ন বই পড়া, ছাদ বাগান করা, ছবি দেখা, ছবি আঁকাসহ নানাবিধ শিক্ষনীয় কার্যক্রমে নিজেদের ব্যস্ত রাখছেন শিক্ষার্থীরা। মানসিক যত্নে কি করছেন জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ছাত্রী উম্মে সুমাইয়া যুঁথী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের পর বাড়িতে থাকা অবস্থায় মায়ের পরামর্শে বাসায় তৈরীকৃত খাবার মানুষের কাছে পৌঁছে দেবার অভিপ্রায়ে একটি বিজনেস পেইজ খুলি এবং মানুষের কাছে ভালো সাড়াও পেয়েছি। যার মাধ্যমে আমি ভালো সময় অতিবাহিত করতে পারছি এবং পরিবারের সবাইকে আর্থিকভাবে সাহায্য করতে পারছি"।

করোনার এই ভয়াবহ প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে শিক্ষার্থীরা সবসময় সচেষ্ট থাকছে এবং অন্যদের উদ্বুদ্ধ করতে নানারকম লেখালেখিও করছে তারা।
সুতরাং, প্রত্যেকেরই মানসিক যত্নের প্রতি সচেতন থাকতে হবে এবং আমরা আশাবাদী যে, শিক্ষার্থীদের এসকল ভালো কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।