ভালবাসায় পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

  • 03 Aug
  • 07:19 PM

পবিপ্রবি প্রতিনিধি 03 Aug, 21

দক্ষিণবঙ্গের প্রাচীন সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।পটুয়াখালী জেলার প্রবেশদ্বার পাগলার মোড় ইউনিভার্সিটি স্কয়ার থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে দুমকি উপজেলায় সুনিবিড় পরিবেশে অবস্থিত পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এ অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে।প্রতিষ্ঠানটি ১৯৭৯-৮০ শিক্ষাবর্ষে পটুয়াখালী কৃষি কলেজ হিসেবে স্নাতক পর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করে।২০০০ সালের ৮ জুলাই তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পটুয়াখালী কৃষি কলেজের অবকাঠামোতে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে উদ্বোধন করেন।সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়টি ২১ বছরে পদার্পণ করেছে।
বর্তমানে অধ্যাপক ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করছেন।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মিশন হচ্ছে জাতির সেবা করার জন্য দক্ষ ও আলোকিত কর্মী তৈরির জন্য স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর উভয় স্তরে অত্যাধুনিক শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ প্রদান এবং উদ্যোক্তা বিকাশ করা।

সূচনাকালে ৪ টি অনুষদ নিয়ে যাত্রা শুরু করা এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ৮ টি অনুষদ রয়েছে। অনুষদগুলো হলো: কৃষি অনুষদ,ব্যবসায় প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা অনুষদ,কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ,পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অনুষদ,এনিম্যাল সায়েন্স এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদ(ডক্টর অফ ভেটেরিনারি মেডিসিন ও এনিম্যাল হাজবেন্ড্রী),মৎসবিজ্ঞান অনুষদ, নিউট্রিশন ও ফুড ম্যানেজমেন্ট অনুষদ এবং ল এন্ড ল্যান্ড এডমিনিষ্ট্রেশন।এই অনুষদগুলোর অধীনে ৫৮ টি বিভাগ রয়েছে।অনুষদগুলো সেমিস্টার পদ্ধতিতে শিক্ষাবর্ষ পরিচালনা করে। বর্তমানে প্রায় ২৬১ জন শিক্ষক এবং ৩০০০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

এনিম্যাল সায়েন্স এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদ(ডক্টর অফ ভেটেরিনারি মেডিসিন ও এনিম্যাল হাজবেন্ড্রী) অনুষদ বরিশালের বাবুগঞ্জে ১২.৯৭ একর আয়তনের পবিপ্রবির বহিস্থ ক্যাম্পাসে অবস্থিত। বাকি অনুষদগুলো ৭৭ একরের মূল ক্যাম্পাসে অবস্থিত।

সম্পূর্ণ আবাসিক সুবিধা প্রদানকারী এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের জন্য শের–ই–বাংলা হল–১,শের–ই-বাংলা হল–২,এম . কেরামত আলী হল,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল,ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর হল (বরিশাল ক্যাম্পাস) -এই ৫ টি এবং ছাত্রীদের জন্য কবি বেগম সুফিয়া কামাল হল,শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল এবং শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল (বরিশাল ক্যাম্পাস)-এই
৩ টি আবাসিক হল রয়েছে।এ হলগুলোতে প্রায় ৩০০০ ছাত্র-ছাত্রী তাদের একাডেমিক ক্লাস শুরু হওয়ার সাথে সাথেই ছাত্রবান্ধব পরিবেশে আবাসনের সুযোগ পায়।

শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও গবেষণা কাজের সহায়ক হিসেবে মূল ক্যম্পাসে দুইতলা ভবনবিশিষ্ট একটি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি রয়েছে,যেখানে প্রায় ২০ হাজার একাডেমি বই, সাময়িকী রয়েছে।এই লাইব্রেরীতে মুজিব কর্ণার রয়েছে যেখানে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মরণে মুক্তিযদ্ধু বিষয়ক প্রায় ১০০ টির মত বই রয়েছে।এখানে সাইবার সেন্টারে শিক্ষার্থীরা ইন্টারনেট সেবা লাভ করতে পারে।এছাড়া প্রশাসনিক ভবন,একাডেমিক ভবন,প্রতিটি হল ওয়াই-ফাই সুবিধা রয়েছে।
বহিস্থ ক্যাম্পাসেও একটি লাইব্রেরি রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন।প্রশাসনিক ভবন,একাডেমিক ভবন,টি.এস.সি,জয়বাংলা ভাস্কর্য, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সাত বীর শ্রেষ্ঠের আবক্ষ ভাস্কর্য,শহীদ মিনার,কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ,জিমনেসিয়াম,হেলথকেয়ার,কেন্দ্রীয় মসজিদ,জার্মপ্লাজম সেন্টার,খামার ভবন,মন্দির,সৃজনী বিদ্যানিকেতন এবং হল সমূহ ক্যাম্পাসকে সুসজ্জিত রূপ দিয়েছে।এছাড়া লালকমল, নীলকমল, সালসাবিল ও তরঙ্গতণু নামের ৪ টি লেক ক্যম্পাস প্রাঙ্গণকে আরো সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছে।সমগ্র ক্যাম্পাস জুড়ে বিভিন্ন ধরনের দেশি-বিদেশি বৃক্ষ ক্যাম্পাসকে সুশোভিত করেছে।
একাডেমির পড়াশোনার পাশাপাশি প্রতিবছর অন্ত এবং আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবলসহ বিভিন্ন টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়।এছাড়াও ঘাসফুল বিদ্যালয়, আলোকতরী সাংস্কৃতিক সংগঠন, উদীচী, বাঁধন,রিপোর্টার্স ইউনিটি,ডিবেটিং সোসাইটি, ক্যারিয়ার ক্লাব, ই.এস.ডিএম ক্লাব,টিউন ক্রাফট,ট্রাভেলার্স সোসাইটি,ইত্যাদি স্বেচ্ছাসেবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে।এসব সংগঠন বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে।ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে পরিচিত সনাতন সংঘ বিভিন্ন পূজা-অর্চনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে।পবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা বিএনসিসি এর নৌ-শাখার ক্যাডেট নিযুক্ত হয়ে সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পায় এবং বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম ও বিশেষ দিবসে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। তছাড়া শিক্ষার্থীরা রোভার স্কাউটে যুক্ত হয়ে স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে।
শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী পরিবহনের জন্য রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী নীল বাস এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবার জন্য এ্যাম্বুলেন্স।
দেশে চলমান করোনা সংক্রমণের কারণে প্রায় দেড় বছর যাবত স্বশরীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস বন্ধ রয়েছে।অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস থেকে দূরে থাকায় চিরপ্রানবন্ত বকুল তলা, প্যারিস রোড,নীলকমল সেতু আজ জনশূন্য।প্রাণপ্রিয় ক্যাম্পাস প্রসঙ্গে পবিপ্রবির ছাত্রী প্রতিমা দাস বলেন "পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মত এত সুন্দর, গোছানো, দুর্নীতিমুক্ত, মাদকমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হতে পারি নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করছি। করোনা পরিস্থিতির কারনে প্রায় দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রিয় ক্যাম্পাস থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় ক্যাম্পাসের কাটানো দিনগুলোকে, সহপাঠীদের, স্যারদের, এবং হলকে খুব মিস করছি। যেহেতু অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের টিকা গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে, আশা করি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে খুব শীঘ্রই আবার ক্যাম্পাসে ফিরতে পারবো।"

অতিদ্রুত করোনা আপদকালীন সময় কেটে যাক,আবার শিক্ষার্থীতে মুখরিত হোক প্রাণপ্রিয় ক্যম্পাস।
সফলতার শীর্ষে পৌঁছাক ভালবাসার পবিপ্রবি।