ভার্চুয়ালে শিক্ষার্থীদের সাথে পবিপ্রবির ভিসি

  • 16 May
  • 10:38 AM

মেহেদী হাসান, পবিপ্রবি প্রতিনিধি 16 May, 21

করোনা মহামারীর বিপর্যয়ে অন্যান্য মৌলিক বিষয়ের মতো শিক্ষার মতো মৌলিক বিষয়টিও মুখ থুবড়ে পড়ে আছে গত একটি বছর ধরে। অন্যান্য সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্ধ আছে পরীক্ষা কার্যক্রম। তবে চলছে অনলাইনে ক্লাস কার্যক্রম। দীর্ঘ দিন ধরে এক সেমিস্টারে আটকে থেকে শিক্ষার্থীরা যখন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে আছে এমন একটি বিপর্যস্ত সময়ে যোগ্য অভিভাবকের মতো শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থিত হন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য(রুটিন দায়িত্ব) প্রফেসর ড.স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি কর্তৃক আয়োজিত "ইদ আড্ডা" অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা যেমন শোনেন তেমনি শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবককে এভাবে সরাসরি সামনে পেয়ে শিক্ষার্থীরা একের পর এক তাদের মনের ভেতরে চেপে থাকা প্রশ্ন গুলো করেন, পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যার কথাগুলো তুলে ধরেন তাদের নিজস্ব মতামত প্রদান করেন।

এক বছর ধরে এক সেমিস্টারে আটকে থেকে শিক্ষার্থীদের মনে স্বভাবতই একটি প্রশ্ন কাজ করছিল বিশ্ববিদ্যালয় কবে খুলছে, পরীক্ষা কবে হবে? এই বিষয়ে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, "আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়ার ইচ্ছে ছিল এই মাসেই। এইজন্য সকল শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন কার্যক্রমের আওতায় আনারো একটা পরিকল্পনা আমাদের ছিল। কিন্তু বর্তমানে ভ্যাকসিন স্বল্পতার জন্য আমরা সেটি করতে পারছি না। তবে আমরা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত নিয়ে নিজেরাও উদ্বিগ্ন। সেজন্য আমরা পরিকল্পনা করেছি যতদ্রুত সম্ভব হয়ত আগামী জুলাই মাসে এক সেমিস্টারের পরীক্ষাটা নিয়ে নেয়ার। হয়ত সেটা হতে পারে এমসিকিউ অথবা লিখিত অথবা ওপেন বুক পদ্ধতিতে। এটি পরবর্তীতে আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করা হবে"। যেহেতু পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় একটি টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রতিটি ফ্যাকাল্টিতেই হাতে কলমে প্রাকটিক্যাল করতে হয় সেই দিক বিবেচনায় ভিসি স্যার বলেন," প্রাকটিক্যাল আমরা করব। অবশ্যই প্রাকটিক্যাল করতে হবে। হাতে কলমে শিক্ষার বিকল্প কিছু হতে পারেনা।‌ আমরা ভ্যাকসিন পেলেই প্রাকটিক্যালগুলোর উপর জোর দিব। যদি কারো ইচ্ছে থাকেও গ্রাজুয়েশন শেষেও তাদের জন্য প্রাকটিক্যাল শিখার সুযোগ রয়েছে।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অন্যতম একটি প্রাণের দাবি নিয়েও কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয় অভিভাবক। শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন করে ইন্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টি খোলা। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় অভিভাবক বলেন, আমরা ইতিমধ্যে তিনটি অনুষদ খোলার জন্য অর্গানোগ্রাম করেছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য একটি ফ্যাকাল্টি ল্যান্ড ম্যানেজম্যান্ট এন্ড এডমিনিস্ট্রেশন এর ডিগ্রী পরিবর্তন নিয়ে আন্দোলন এবং দাবি অনেক দিন ধরেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি এবিষয়েও দৃষ্টি রেখে বলেন, বিষয়টা অনেক জটিল। এ বিষয়ে আমরা আন্তরিক। খুব শীঘ্রই এই সমস্যার একটি সুষ্ঠু সমাধান হবে বলে তিনি‌ আশা রাখেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিঃস্থ ক্যাম্পাস (বাবুগঞ্জ ক্যাম্পাস) নিয়েও প্রশ্নের উত্তর দেয় বিশ্ববিদ্যালয় অভিভাবক। ক্যাম্পাসের উন্নয়নে তিনি বলেন, "আমাদের বহিঃস্থ ক্যাম্পাসের অনেক সমস্যা আছে তা আমি জানি। ব্যক্তিগতভাবে আমিও অনেক বার গিয়েছি সেখানে। আমি সেখানে আবাসিক ভবন উন্নয়নের জন্য ২০লক্ষ টাকা দিয়েছি যেখানে প্রস্তাব করা ছিল ৫ লক্ষ টাকা। তবে বাবুগঞ্জ ক্যাম্পাস ঢেলে সাজানোর জন্য একটা মেগা প্রজেক্ট দরকার।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেনকিং এর উন্নতি ঘটনোর কথার জবাবে বিশ্ববিদ্যালয় অভিভাবক বলেন, "আমরা এই বিষয়ে মনোযোগী। আমরা এগুচ্ছি।তবে এগুতে হলে গবেষণা করতে হবে আর এই গবেষণার প্রচার প্রসার ঘটাতে হবে।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন আরেকটি ক্যাম্পাস হচ্ছে বলে যে গুঞ্জন ছিল সেটা কতটুকু সত্য এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন," পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন আরেকটি ক্যাম্পাস হবে পটুয়াখালী জেলার সমুদ্র কন্যা কুয়াকাটায়। এ লক্ষ্যে আমরা ২০ একর জায়গা নির্ধারণ করেছি। সেখানে আমরা মেরিন সায়েন্স অ্যান্ড রিসার্চ একাডেমী করব। সমুদ্র তো অফুরন্ত প্রাকৃতিক সম্পদের একটা ভান্ডার। আমাদের সমুদ্র আছে। শুধু জনবলের অভাব।‌ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এই বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে সবুজ সংকেত দিয়েছে।এটি বাস্তবায়ন হলে সমুদ্র সম্পদের যথাযথ ব্যবহারে আমরা আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবো।"