বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা ব্যয় হতাশাজনক

  • 03 Mar
  • 12:14 PM

ডেক্স নিউজ 03 Mar, 21

করোনার কারনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম বর্তমানে খুবই নাজুক এছাড়া গবেষণা খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দারুণভাবে । তাই স্বাভাবিকভাবে ২০১৯ সাল বিবেচনা করলে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) বার্ষিক প্রতিবেদন অনুসারে, দেশের ১২৫ টি সরকারী ও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় ২০১৯ সালে গবেষণা কার্যক্রমের জন্য সর্বমোট ১৫৩৩ কোটি টাকা ব্যয় করেছে যা গড়ে ১.২২ কোটি টাকা। এটি তাদের মোট খরচের মাত্র ১ শতাংশ। গবেষণা খাতে ব্যয়ে এমন অনিহা গ্লোবাল নলেজ ইনডেক্স ২০২০-এ বাংলাদেশের দুর্বল অবস্থান অর্জনে ভূমিকা রেখেছে। এ সূচকের ১৩৮ টি দেশের মধ্যে ১১২ তম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ ।

ইউজিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ৩৪ টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় ৫৩ কোটি টাকা ব্যয় করেছে যা গড়ে ১.৪০ কোটি টাকা; ইতোমধ্যে ৮৭ টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ১০০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে যা গড়ে ১.১৫ কোটি টাকা।
একই বছর সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের কর্মচারীদের বেতন-সহ মোট কার্যক্রম পরিচালন ব্যয় ছিল ৪৬৪৩ কোটি টাকা এবং বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ব্যয় ৩৬৩১ কোটি টাকা। প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় তাদের মোট বাজেটের ১.১৪% গবেষণায় ব্যয় করেছে এবং বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ক্ষেত্রে এই অনুপাতটি ২.৯%।
















শীর্ষ দশটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় ২০১৯ সালে গবেষণার জন্য ৮২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে, অন্যদিকে শীর্ষ দশটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এই লক্ষ্যে মাত্র ৩২ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। অবাক করা বিষয় এটাই যে, ২০১৯ সালে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় ব্যয় করা অর্থ সে বছর ১০ টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় ব্যয় করা মোট অর্থের চেয়েও ৫ কোটি টাকা বেশি ছিল। গবেষণা ব্যয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষে আছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের কৃষি গবেষণায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অপরিসীম। বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০১৯ সালে ৭ কোটি টাকা ব্যয় করে গবেষণা খাতে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন পরিচালক প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমানের মতে,

“গবেষণা কার্যক্রম বিশ্বকে সমৃদ্ধ করতে নতুন জ্ঞান জোগায়। তবে দেশের সরকারী ও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ফলপ্রসূ গবেষণা করছে না, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমাদের বেসিক গবেষণা প্রয়োজন এবং সে লক্ষ্যে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। তবে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলি পর্যাপ্ত তহবিল পায় না, অন্যদিকে বেশিরভাগ বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণার জন্য অর্থ ব্যয় করতে নারাজ।”
দেশে প্রায় ৪৪ লক্ষ শিক্ষার্থী নিয়ে ৪৬ টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১০৬ টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। যেখানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। ২০১৯ সালের গবেষণায় বিনিয়োগের পরিমাণের ভিত্তিতে সরকারী ও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে শীর্ষ ১০ টি বিশ্ববিদ্যালয়কে বেছে নেওয়া হয়েছে যেখানে শীর্ষ ১০ বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় বিনিয়োগের পরিমাণ ১০ টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় ২.৫ গুণ বেশি ছিল। ২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ব্যয় ছিল ৭০০ কোটি টাকা, কিন্তু গবেষণায় ব্যয় করেছিল মাত্র ৫.২০ কোটি টাকা বা মোট ব্যয়ের ০.৭৪%।

সেসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান গবেষণার জন্য তহবিলের ঘাটতি নেই বলে দাবি করে বলেছিলেন,
"শিক্ষকরা যদি আরও গবেষণা করতে চান তবে আমরা তাদের পর্যাপ্ত তহবিল সরবরাহ করব।"

অন্যদিকে একই বছর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ব্যয় ছিল ২৫৩ কোটি টাকা এবং এটি গবেষণায় মাত্র ২.২৭ কোটি বা মোট ব্যয়ের ০.৮৯% ব্যয় করেছিল।

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯ সালের মোট ব্যয় ছিল ২২৬ কোটি টাকা কিন্তু গবেষণায় অর্থ ব্যয় মাত্র ২.৩০ কোটি টাকা যা মোট ব্যয়ের ১%।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় মোট ব্যয় ৪০০ কোটি টাকার মধ্যে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৩৭ কোটি টাকা বা ৯.২৫% ব্যয় করেছে। গবেষণা খাতে ব্যয়ে প্রথম অবস্থানে আছে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়।

গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও মনোযোগী হতে হবে এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। সেজন্য গবেষণা ব্যয় ভবিষতে অবশ্যই বাড়ানো প্রয়োজন।

লেখকঃ
মোঃ খালিদ হাসান মিলু
শিক্ষার্থী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর-১৭০৬
ছবিঃ নিজ