বেরোবি শিক্ষার্থীর অনলাইন ক্লাস সমাচার

  • 21 Sept
  • 08:43 AM

প্রীতম রায়, শিক্ষার্থী (বেরোবি) 21 Sept, 20

পাবলিকিয়ান ক্যাম্পাস, এক বুক ভালবাসা ও স্বপ্নের অর্জিত নকশা নিয়ে বিস্তৃত। সাম্প্রতিক করোনা ইস্যুতে বিশ্ব থেমে থাকলেও এদেশের উচ্চ শিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলো বেরোবির মতো থেমে নেই।

শুধু থেমে আছে আমাদের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়(বেরোবি)। জানা গিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন কোন ডিপার্টমেন্টে অনলাইন ক্লাস চলছে, তাও আবার কোন ব্যাচে হচ্ছে না।

এদিকে কেও মাস্টার্স কমপ্লিট এর অপেক্ষায়, কেও ইয়ার ফাইনাল দিবে, কেও রেজাল্টের অপেক্ষায়, কেও আছে তার অর্জিত সার্টিফিকেটের অপেক্ষায়, কেও চাকরি প্রিপারেশন এর অপেক্ষায়। অন্যদিকে পারিবারিক চাপ ও মানসিক দুর্বলতায় শিক্ষা বঞ্চিত, বিশেষ করে আমাদের শিক্ষার্থী বোনদের বাসায় বিয়ে সমাচার নিয়ে উঠে পড়ে লেগেছে।

এদিকে পড়াশোনার অতিরিক্ত বিরতিতে শিক্ষার্থীরা অসৎ উপায় অবলম্বন করছে যা সমাজের জন্য ঝুঁকি, তার কারণ হচ্ছে অতিরিক্ত শিক্ষা বিরতি।

"শিক্ষার্থীরা করোনায় মরবে না, মরবে পড়াশোনার অতিরিক্ত বিরতির মানসিক দুর্বলতায়"

এই মানসিক চাপে শিক্ষার্থীরা মৃত্যুঝুঁকিতে, এমনকি অনেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। বিগত কয়েকটি নিউজে দেখেছি দেশের নামি-দামি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট এই বিরতির জন্য মানসিক যন্ত্রনায় আত্নহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।

আমরা এই যন্ত্রণা থেকে শিক্ষা সঞ্চারে মুক্তি পেতে চাই। তার জন্য বর্তমান প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষা বিরতি দূর করা জরুরী।

যেখানে আমরা বেরোবি শিক্ষার্থীরা, অনলাইন ক্লাস ও প্রযুক্তি থেকে বঞ্চিত ও পুরোপুরি শিক্ষা বিরতিতে অবস্থান করছি। বিভিন্ন তথ্য মতে, দেশের উচ্চশিক্ষা প্রদানকারী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইউজিসির নির্দেশ অনুযায়ী তাদের অনলাইন ক্লাস করছে।

সবায় দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে, ইউজিসির পরিকল্পনা এবং কেবল পরীক্ষার জন্যই তারা অপেক্ষমান। কিন্তু বেরোবির কালো অধ্যায় যেন কোনো ভাবেই মুছে যাচ্ছে না। প্রশাসনের কঠোরতার অভাব ও ঢিলেমির কারনে শিক্ষার্থীরা আবারো ভয়াবহ সেশনজটের মুখোমুখি।

আমি একজন শিক্ষার্থী হিসেবে মনে করি, করোনাকালীন এই পরিস্থিতিতে বর্তমান প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ক্লাসের বিকল্প হিসেবে অনলাইন ক্লাস কার্যক্রম চালু করা উচিত। আর এই জটিলতা দূর করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সহযোগিতা ও শিক্ষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই সহজেই করোনাকালীন অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে সেশন জট নিরসন সম্ভব।


লিখেছেন-
শিক্ষার্থী- প্রীতম রায়
মার্কেটিং বিভাগ, তৃতীয় বর্ষ
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর (বেরোবি)