বুক রিভিউঃ ‘সাইক্লোন’- মুহাম্মদ জাফর ইকবাল

  • 12 June
  • 12:24 AM

আসমা আলী মীম, ২য় বর্ষ- মার্কেটিং বিভাগ (জবি) 12 June, 20

মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের সাইক্লোন বইটি জীবন যুদ্ধে পরাজিত এক সাহসী বুদ্ধিমতি মেয়ে "নভেরা" কে উৎসর্গ করা হয়েছে। বইটিতে জীবনের উথান-পতন দেখানো হয়েছে। বইয়ের নানা রকম ঘটনা,বিভিন্ন দিকে গল্পের মোড়, যার জন্য আপনার বইটি শেষ না করে উঠতে ইচ্ছে করবে নাহ।

পৃথিবীর এক অন্যতম মধুর সম্পর্কের নাম ভাই বোনের সম্পর্ক। যতই বিপদ-আপদ আসুক ভাই-বোনকে কখনো ছেড়ে যেতে পারে নাহ। ভাই বোনের এমন এক মধুর সম্পর্ক নিয়েই লেখা হয়েছে "সাইক্লোন"।

বিজলী আর খোকন সমুদ্রের ধারের কাজল ডাঙ্গা নামের ছোট্ট এক চরের বাসিন্দা। বিজলী বড় আর খোকন ছোট। তাদের পরিবারের অবস্থা অসচ্ছল হওয়া সত্বেও তাদের মনে কোন দুঃখ ছিলো নাহ। বিজলীর পুরো জগৎ জুড়ে ছিলো খোকন। খোকনের ও একমাত্র আশার স্থল ছিলো বিজলী। কিন্তু একদিন সব ওলট-পালট হয়ে গেলো। যারিনা নামক সাইক্লোন এক রাতের মাঝে তাদের জীবন পালটে দিলো। সেদিনের সাইক্লোনে বিজলীর বাবা-মা সহ ঐ চরের সবাই মারা যায়। কিন্তু ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় দুই ভাই বোন। তারপর তাদের উদ্ধার করে পাঠানো হয় হ্যাপি চাইল্ড অর্গানাইজেশনে। দুই ভাই বোন একজন আরেকজনকে ছাড়া থাকতে পারে নাহ। দুই ভাই-বোনকে একসাথে রাখাবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিয়ে আসে অর্গানাইজেশনটি। কিন্তু এনেই দুই ভাই-বোনকে আলাদা বিল্ডিংয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। যা মেনে নিতে পারে নাহ বিজলী ও খোকন। পরবর্তীতে বিজলীকে না জানিয়ে অর্গানাইজেশন খোকনকে একটি সন্তানহীন দম্পতির কাছে বিক্রি করে দেয় এবং খোকনকে হুমকি দেয়া হয় কাউকে বিজলীর কথা বললে বিজলীকে খুন করে ফেলবে। অর্গানাইজেশনে খোকনকে না পেয়ে বিজলী দিশেহারা হয়ে পড়ে,ঘটিয়ে ফেলে বাড়াবাড়ি কান্ড। ফলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ওদিকে খোকন ধনী দম্পতির কাছে সন্তান স্নেহে দিন কাটাতে থাকে। পরবর্তীতে বিজলী কারাগার থেকে পালিয়ে যায়। সারা শহর জুড়ে খোকনকে খুঁজতে থাকে বিজলী।

এখন প্রশ্ন হলো, ঢাকা শহরের এতো মানুষের মধ্যে খোকনকে খুঁজে পাওয়া কি সম্ভব?? বিজলীই বা কিভাবে একা বেঁচে থাকে এই নিষ্ঠুর নগরীতে যেখানে পদে পদে রয়েছে বিপদ? খোকনও কি মনে রাখে বিজলীকে? বিজলী কি শেষ পর্যন্ত তার ভাই খোকনকে খুঁজে পেয়েছিলো? এই উওরগুলো জানতে হলে আমাদেরকে "সাইক্লোন" বইটি পড়তে হবে।