‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস’ নিয়ে যা ভাবছেন দেশের ক্যাম্পাস সাংবাদিকেরা

  • 04 May
  • 12:16 AM

জাফর আহমেদ শিমুল, বিশেষ প্রতিবেদক 04 May, 21

সোমবার ৩ মে, বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। বাংলাদেশসহ সমগ্র পৃথিবীজুড়ে স্বানন্দে পালিত হচ্ছে এ বিপ্লবী 'মুক্ত গণমাধ্যম দিবস'। গণমাধ্যমকে বলা হয় একটি দেশের চতুর্থস্তম্ভ। আর গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকেরা হলেন জাতির বিবেক ও সমাজের স্বচ্ছ দর্পণ। আর তরুণ সাংবাদিকতার আতুরঘর বা শিক্ষালয় হচ্ছে ক্যাম্পাসের গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত সক্রিয় সাংবাদিক সংগঠনগুলো। বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে দেশের সক্রিয় ও স্বনামধন্য কিছু সাংবাদিকদের ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা তথা সাংবাদিকতা নিয়ে তাদের সৃষ্টিশীল চেতনা ও ভাবনা আশা-নিরাশা,হতাশার কথা,  ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব সহ সার্বিক ব্যাপারটিই তুলে ধরেছেন-
জাফর আহমেদ শিমুলঃ


'ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা বরাবরেই মতোই বেশ চ্যালেঞ্জিং। একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি একজন শিক্ষার্থী যখন ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায় যুক্ত হয়,তখন অনেকগুলি বিষয় খেয়াল রেখে সাংবাদিকতার চর্চা করতে হয়। বস্তুুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে অনেক সময়  বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং ছাত্র রাজনীতির গ্যাঁড়াকলে পড়ে মুক্ত সাংবাদিকতায় বাঁধার সম্মুখীন হোন ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা। যেমন গত ২৫ শে মার্চ পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের মারধরের শিকার হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'বাংলা ট্রিবিউন' প্রতিনিধি 'আবিদ হাসান রাসেল'। আবার "বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাজ কি" লিখে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় বহিষ্কার হতে হয় বশেমুরবিপ্রবির শিক্ষার্থী ফাতেমা তুজ জিনিয়াকে। পরে অবশ্য সাংবাদিক এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। শুধু তাই নয়, এর আগে ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের উপর বিতর্কিত ৫৭ ধারাও চলেছে হরদম। গত বছর তথ্য প্রযুক্তি আইনের মামলায় রাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি মানিক রায়হান বাপ্পীকে কারাগারে যেতে হয়। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনিয়ম-দুর্নীতির  সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে প্রতি নিয়তই হুমকি-ধামকির শিকার হোন ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা। এতোকিছুর পরেও স্রোতের বিপরীতে বীর দর্পে এগিয়ে যাচ্ছে ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা। আজ বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে এসকল ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের জন্য রইলো শ্রদ্ধা ও ভালবাসা।"

-আব্দুল্লাহ আল মুবাশ্বির
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি(বাংলা ট্রিবিউন)
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি।



'মুক্ত গণমাধ্যমে এদেশে এই মুহূর্তে কোনোভাবেই সম্ভব নয়'
শুধুমাত্র গণমাধ্যম নয়, দেশের প্রতিটি সেক্টরেই সমস্যা এবং অনিয়ম রয়েছে, বলতে গেলে গোটা সিস্টেমেই সমস্যা। সব সেক্টরে অনিয়ম চালু রেখে কখনোই মুক্ত গণমাধ্যমের আশা করা যায় না, এককভাবে সাংবাদিকদেরও দোষারোপ করা যায় না। আবার, শুধুমাত্র পত্রিকা বিক্রির টাকা বা সাবস্ক্রিপশন থেকে প্রাপ্ত আয় দিয়ে গণমাধ্যম চালানো সম্ভব নয়। বিনিয়োগকারী বাদে শুধু পত্রিকা বিক্রির আয় থেকে যদি গণমাধ্যম পরিচালনা করা সম্ভব হয় তাহলেই কেবল মুক্ত গণমাধ্যমের আশা করা যায়, যেটি বাংলাদেশে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কারন আমাদের দেশের মানুষ সবকিছু ফ্রি খেতে চায়, তারা সংবাদও ফ্রিতে চায়, বিনোদন ও ফ্রিতে চায়। এই দুই বিষয় মিলিয়ে, আমাদের দেশে নিকট ভবিষ্যতেও  মুক্ত গণমাধ্যমের আশা করা বোকামী। আপনারা আগে সিস্টেম চেন্জ করেন, অন্যান্য সেক্টরের অনিয়ম দূর করেন, নিজেদের মানসিকতা বদলান, সাবস্ক্রিপশন দিয়ে পত্রিকা পড়তে আগ্রহী হন, এরপর মুক্ত গণমাধ্যমের আশা করেন, এর আগে নয়।"

-খালিদ সাইফুল্লাহ্
ফ্রিল্যান্স রাইটার,
কালের কন্ঠ(ক্যাম্পাস প্রতিনিধি)
শিক্ষার্থী, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি



"মুক্ত গণমাধ্যম দিবস প্রকৃতপক্ষে আজও  আলোর আড়ালে অন্ধকারেই প্রতিচ্ছবি৷ এই দিনেই সাংবাদিক কাজলের হাতে হাতকড়া তারই এক উজ্জ্বল ক্ষত৷ স্বাধীনতার এই দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করার পরেও গণমাধ্যম এবং গণমাধ্যমকর্মীদের স্বাধীনতা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে৷ সময় এসেছে মুক্ত গণমাধ্যম স্লোগানের অন্তরালে কালো থাবা অবসানের৷ দেশের প্রতিটি মানুষের প্রকৃত মুক্তি যখন সামগ্রিকভাবে মুক্ত গণমাধ্যম চর্চার উপর নির্ভর করে সেখানে গণমাধ্যমকর্মীদের অধিকার সুনিশ্চিত হোক এবারের শপথ৷ কাজল আর মানিক রাইহান বাপ্পিদের হাতে হাতকড়া থেকে জাতি মুক্তি পাক৷"

ওয়াহিদ তাওসিফ মূছা
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি (একুশে টেলিভিশন)
সাধারণ সম্পাদক 
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সাংবাদিক সমিতি।



"সাংবাদিকতা একটি আধুনিক ও  সৃজনশীল পেশা। গণমাধ্যমকে বলা হয় একটি দেশের চতুর্থস্তম্ভ। দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করবে নিরপেক্ষ ভাবে এটাই গণমাধ্যমের প্রকৃত লক্ষ্য। কিন্তু বর্তমানে গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে। নিরপেক্ষ ভূমিকা প্রায় বিলুপ্তির পথে। বিশেষ করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সৃষ্টি করেছে গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে আতঙ্ক। সাংবাদিকতার প্রতি প্রবল আগ্রহ নিয়ে সাংবাদিকতায় নাম লেখালেও দিনদিন আগ্রহটা কমে যাচ্ছে। তাই মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে একজন সাংবাদিকতার শিক্ষার্থী হিসেবে একটাই প্রত্যাশা দেশের গণমাধ্যম মুক্ত ভাবে কাজ করার সুযোগ পাক। গণমাধ্যমকে ব্যবসায়ে রুপ লাভ না দিয়ে বরং দেশের মানুষের জন্য রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হয়ে কাজ করুক।"

-রাব্বী হাসান
তিতুমীর কলেজ প্রতিনিধি
(আমার সংবাদ)।


"বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে প্রথমেই কোভিড-১৯ মহামারির তথ্য জানানোর জন্য অক্লান্তভাবে, অনেক সময় কষ্টকর ও বিপজ্জনক পরিবেশে কাজ করে যাওয়া সাংবাদিকদের জানাই শ্রদ্ধা।
দুর্নীতির সাথে যারা লিপ্ত তাদের অশুভ তৎপরতা নিয়ন্ত্রণের অন্যতম শক্তি হতে পারে মুক্ত গণমাধ্যম।নানা নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশের সাংবাদিকরা৷ বিশ্বেই গণমাধ্যমের ঝুঁকি বেড়ে চলেছে।
গত কয়েক বছরে  গণমাধ্যমের স্বাধীনতা যে আরও সংকুচিত হয়েছে, তা অনুধাবন করার জন্য বিদেশী পর্যবেক্ষক সংস্থার পর্যবেক্ষণের দিকে না তাকালেও চলে। গণমাধ্যমে কর্মরত পেশাদার সাংবাদিক থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী নাগরিক পর্যন্ত প্রত্যেকেই তা উপলব্ধি করছেন।
অন্য কোনো পেশার মানুষজন যেমন মুক্ত ভাবে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে তেমনি করে সাংবাদিক দের মুক্ত একটি প্লাটফর্ম করে দেওয়া হোক যার ফলশ্রুতিতে আমরা সাংবাদিকেরা স্বাধীন ভাবে সাংবাদিকতা করতে পারবো।

-তানজিলা আক্তার লিজা
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি(বিডি নিউজ-গ্লোবাল)
শিক্ষা-সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক।
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সাংবাদিক সমিতি।



"আজ মুক্ত গণমাধ্যম দিবস ।  সাংবাদিকতা বিভাগে পড়তে এসেছি বা সাংবাদিকতা করতে এসেছি শুধুমাত্র চাকরি করা বা টাকা উপার্জনের জন্য নয়, এসেছি নিজের 'প্যাশন' থেকে। একজন নারী হিসেবে সাংবাদিকতায় পড়ি বা সাংবাদিকতা করি জিনিস টা মানুষ শুনলে অবাক হয়ে যায়।নিজের আবেগের জায়গা থেকেই এটিকে পেশা হিসেবে নিয়েছি।তাই যত ঝড়ই আসুক না কেন নিজের জায়গা থেকে ইনশা-আল্লাহ সরবো না।আজকে মুক্ত গণমাধ্যম দিবস একটাই চাওয়া রইলো নারী হিসেবে কেউ যেন পিছিয়ে না পড়ে, মূলস্রোতের গণমাধ্যমে কর্মরত পুরুষ সাংবাদিকদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলে সমান তালে দেশীয় সাংবাদিকতায় শক্তিশালী অবদান রাখতে পারি। আমরা নারীরাও যেন সফল সাংবাদিক হতে পারি। গণমাধ্যমে গণমানুষের কথা তুলে ধরতে পারি।"

-সাজিয়া আফরিন সৃষ্টি
স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রতিনিধি (জাগো নিউজ)
কার্যনির্বাহী সদস্য
স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক ফোরাম।