জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও প্রত্যাশা

  • 19 Oct
  • 06:27 PM

মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক (জবি) 19 Oct, 20

পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ১৫ তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস এবং ১৬২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ২০ অক্টোবর, ২০২০। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ২০ অক্টোবরকে ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। করোনা মহামারীতে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশনা, বেলুন উড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শুভ উদ্বোধন, ভার্চ্যুয়াল আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি একমাত্র ছাত্রী হলের উদ্বোধন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৮৫৮ সালে ঢাকা ব্রাহ্ম স্কুল নামে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। এরপর ১৮৭২ সালে নাম বদলে বালিয়াটির জমিদার কিশোরীলাল রায় চৌধুরী তার বাবার নামে জগন্নাথ স্কুল নামকরণ করেন। ১৮৮৪ সালে এটি একটি দ্বিতীয় শ্রেণির কলেজে ও ১৯০৮ সালে প্রথম শ্রেণির কলেজের রূপ পায়। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা শুরু হলে তৎকালিন জগন্নাথ কলেজের স্নাতক কার্যক্রম সাথে আই.এ, আই.এসসি, বি.এ (পাস) শ্রেণী ছাড়াও ইংরেজি, দর্শন ও সংস্কৃতি অনার্স এবং ইংরেজিতে মাস্টার্স চালু বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ইন্টারমিডিয়েট কলেজে অবনমিত করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৪৯ সালে আবার কলেজেটিতে স্নাতক পাঠ্যক্রম শুরু হয়। ১৯৬৮ সালে এটিকে সরকারিকরণ করা হয়। কিন্তু পরের বছরেই আবার এটি বেসরকারি মর্যাদা লাভ করে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও স্বাধীনতা পূর্ববর্তী-পরবর্তী সময়ে সকল আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এ প্রতিষ্ঠানটি ২০০৫ সালে জাতীয় সংসদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৫ পাশের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রূপান্তরিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর নানা সীমাবদ্ধতা ও সংকট সত্ত্বেও একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আত্মপ্রকাশ জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভাবনা, অনুভূতি ও প্রত্যাশা তুলে ধরেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাস সাংবাদিক মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ।


বাংলাদেশের ইতিহাসের যতগুলো প্রাচীন প্রতিষ্ঠান আছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় তার মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে এটি। ঊনবিংশ শতাব্দীতে শুরু হয় বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এসে পৌঁছেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ বছর ১৫ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। কবি সুফিয়া কামালের কাছে যেমন বসন্ত হাসি ফোটাতে পারেনি ঠিক তেমনি এই বছর প্রাণপ্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মদিন আমাদের মনে আনন্দ সৃষ্টি করতে পারলো না। শান্ত চত্বর, কাঁঠাল তলা, রফিক ভবনের নিচে, বিজ্ঞান অনুষদের মাঠ সবকিছু যেন আমাদের ছাড়া হাহাকার করছে। প্রিয় ক্যাম্পাসটিতে হবে না কোনো অনুষ্ঠান, শিক্ষার্থীরা উপস্থিত থেকে প্রিয় প্রতিষ্ঠানের জন্মদিন পালন করতে পারবে না। করোনা পরিস্থিতির কারণে এ বছর ভার্চুয়াললি পালিত হবে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। তবে খুব মিস করছি তোমায় জবি।

মিথিলা দেবনাথ ঝিলিক
দ্বিতীয় বর্ষ, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ


পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)। প্রতিষ্ঠার ১৫ বছর পূর্ণ করে ১৬ বছরে পদার্পণ করতে যাচ্ছে শিক্ষাক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখা প্রিয় এই প্রতিষ্ঠানটি। এই দীর্ঘ সময়ে ভালোবাসার এই প্রতিষ্ঠানটি থেকে তৈরি হয়েছে ইতিহাসখ্যাত অনেক জ্ঞান পিপাসু পন্ডিত, শিল্পী, আইনজীবী, ইতিহাসবিদ। তবে প্রতিষ্ঠার পনেরো বছরেও আমরা ছাত্ররা এখনো আবাসিকতা পাইনি। জবি দিবসে প্রত্যাশা থাকবে দ্রুত আবাসিক সমস্যা নিরসনের। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে নানা ধরনের অরাজকতা ও ছাত্র সমস্যা সমাধানে চাই জকসু নির্বাচন। এছাড়াও বিশ্বের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে পাল্লা দিতে সব ধরনের প্রযুক্তিগত ত্রুটি দূর করে চাই বেশি বেশি গবেষণা ও সমুন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা। জবির নতুন বছরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের হোক আত্মিক সম্পর্ক। প্রিয় ক্যাম্পাসের নাম আরো ছড়িয়ে পড়ুক পুরো পৃথিবীজুড়ে। শুভকামনা জবি।

আসাদুজ্জামান সিফাত
প্রথম বর্ষ, পরিসংখ্যান বিভাগ


অগ্রজদের কাছ থেকে নানা আনন্দঘন যেসব দিনগুলোর কথা শুনেছি তাঁর মধ্যে অন্যতম ছিলো "জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস"। প্রতিবছর ২০ অক্টোবর দিনটি পালন করা নানা উৎসবের আমেজে, নিত্য-নতুন নান্দনিকতায় বা সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সঙ্গী করে। প্রকৃতির বৈরীতার দরূণ এবার সেসব কিছুই হবে না পাশাপাশি আমাদের কেও থাকতে হবে মলিন মুখে। অগ্রজদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মেমোরি হিসাবে শেয়ার করা পোস্ট দেখে আফসোস করা ছাড়া আমাদের আর করার মতো কিছু থাকবে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সারাদিন অনুষ্ঠান বা নাচা-নাচির পরে হয়তো স্বভাবতই লিখতে বসতাম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ২০২০ নিয়ে। জুড়ে দিতাম বন্ধুত্বের ভালোবাসায় ঘেরা রঙিন সব ছবি। কল্পনাও করি নি এমন হবে দিনটা। ২০০৫ সালের পর সর্বপ্রথম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপিত হবে এমন নিরানন্দের আমেজে। বিগত ১৫ বছরের সময়টা ছিলো না জবির জন্য মোটেই নিরানন্দের। অল্প সময়ের ব্যবধানেই জবি পৌঁছে গিয়েছে সুযোগ্য স্থানে। প্রতিযোগীতা মূলক সকল ক্ষেত্রেই চিনিয়েছে নিজেকে। মাত্র একযুগেই পৌঁছে গিয়েছে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা এক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কাতারে। তবে, রয়েছে অবকাঠামোগত ও আবাসিক সংকট। যা প্রতিনিয়ত পাঁচ ধাপ আগালে দু'ধাপ পিছিয়ে দিচ্ছে জবিকে। নবনির্মিত ছাত্রীহল সে সংকট অনেকাংশে দূর করবে খুব স্বাভাবিক ভাবেই তবে রয়ে যাবে ছেলেদের আবাসন সমস্যা। প্রত্যাশা থাকবে সকল বাঁধা কাটিয়ে নতুন ক্যাম্পাসে নতুনভাবে প্রাণের জবি এগিয়ে যাবে অনেকদূরে। পরিণত হবে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের সুযোগ্য প্রতিনিধি হিসাবে। শুভকামনা নিরন্তর সকল জবিয়ানের তরে।
শুভ জন্মদিন প্রাণের স্পন্দন।

অনন্য প্রতীক রাউত
প্রথম বর্ষ, আইন বিভাগ


প্রাণের বিদ্যাপীঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬ বছরে পদার্পণ। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গৌরবের আরেকটি অধ্যায়ের সূচনায় অতীতের সকল অপ্রাপ্তি, অপূর্নতা আর বাধা কাটিয়ে সাফল্যের সাথে সামনের দিকে এগিয়ে যাক ভালোবাসার 'জবি'। করোনার কারণে বিগত বছর গুলোর তুলনায় কিছুটা ভিন্ন ভাবে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালিত হলেও আমাদের সবার জন্য আনন্দের বিষয় হচ্ছে ছাত্রীহলের উদ্বোধন। প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে হল বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের এক কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন। আশা করি আমাদের সব স্বপ্ন একদিন বাস্তবায়ন হবে। বর্তমানে আমরা সবাই খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে দিন পার করছি। তবে প্রত্যাশা একটাই মহামারি কাটিয়ে খুব শীঘ্রই ফিরবো আমাদের চিরচেনা ক্যাম্পাসে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য অতীতের মতো ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই প্রত্যাশা রইলো।

তামান্না ইসলাম বৃষ্টি
তৃতীয় বর্ষ, মনোবিজ্ঞান বিভাগ