বিশ্ববিদ্যালয় খোলার দাবিতে ইবিতে ফের বিক্ষোভ

  • 27 May
  • 03:39 PM

আজাহার ইসলাম, ইবি প্রতিনিধি 27 May, 21

আগামী এক জুন হল ও ক্যাম্পাস খুলে শিক্ষাকার্যক্রম স্বাভাবিক করাসহ ৪ দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, ভিসি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও সমাবেশ করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শিক্ষার্থীরা। দাবি অনাদায়ে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেয় তারা।

এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৭ মে) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়না চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের করে শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রধান ফটকের সামনে এসে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। এর আগে  বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে তারা। এছাড়া আগামী শনিবার (২৯ মে) ভিসি বরাবর শিক্ষার্থীরা স্মারকলিপি প্রদান করবে বলে জানা গেছে।

এসময় ‘বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিন নইলে গলায় দড়ি দিন’, ‘দাবি মোদের একটাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা চাই’, ‘মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিন’, ‘শিক্ষা নিয়ে প্রহসন, মানিনা মানবো না’ ‘পরীক্ষা নিয়ে টালবাহানা, মানিনা, মানবো না’ সহ নানা স্লোগানে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা।

মিছিল শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে গলায় দড়ি দিয়ে প্রতিকী ফাঁস নেয় শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীরা বলেন, ‘আমরা শিক্ষামন্ত্রীর গতকালের বক্তব্য প্রত্যাখান করছি। বিশ্ববিদ্যালয় ব্যতীত সবকিছু ঠিকঠাক চলছে। এতদিনে অনেকের গ্রাজুয়েশন শেষ করে পরিবারের হাল ধরার কথা। অথচ আমরা পরিবারের কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছি। আমরা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয় খুলে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক না হলে আমাদের গলায় দড়ি দেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।’ এসময় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেয় তারা।

বিক্ষোভে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসেন রাজীন, জেরিন, ইতিহাস বিভাগের মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলা বিভাগের শ্যামলী তানজিন অনু, সাথিয়া সাথী, ল’ এন্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের হুমায়রা আঞ্জুম অন্তু উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আনারুল ইসয়াল, আলামিন ইসলাম, নির্মল, তানজিরসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী অংশ নেন।

এর আগে একই দাবিতে গত ২৪ মে (সোমবার) মানববন্ধন করে শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে আগামী ১ জুন সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা, স্থগিত ও আটকে থাকার পরীক্ষাগুলো গ্রহণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীদের দ্রুত ভ্যাকসিন নিশ্চিত করণ এবং করোনাকালে শিক্ষার যে ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে নিতে জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিত করণ।

উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে সরকার। গতকাল বুধবার (২৬ মে) শিক্ষামন্ত্রী ড. দিপু মনি এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আগামী ১৩ জুন থেকে পর্যায়ক্রমে স্কুল-কলেজ খোলার ইঙ্গিত দেন। এছাড়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক হলের শতভাগ শিক্ষার্থীকে দুই ডোজ টিকা দেয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়া হবে বলে জানান তিনি।