বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে কাটানো সময়

  • 13 Aug
  • 05:58 PM

সানজিদা সেতু, পবিপ্রবি 13 Aug, 21

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের একটা বড় অংশ জুড়ে থাকে হলের স্মৃতি।
হলজীবনের শুরুটা গুণরুম থেকে।পবিপ্রবির কবি বেগম সুফিয়া কামাল হলের গণরম নং-১২৫।প্রথমবারের মতো বাড়ি থেকে দূরে পরিবার ছেড়ে একদল নতুন মানুষের সাথে থাকা।দেশের ভিন্ন ভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষগুলো সবাই চাল-চলন,কথাবার্তা,অভ্যাসে আলাদা।প্রথমদিকে সবার সাথে মানিয়ে নিতে সমস্যা হলেও কিছুদিন পরেই এরা সবাই পরিবার হয়ে যায়।হাসি-কান্না,আনন্দ,হতাশা আর খুনসুটির সঙ্গী হয়ে যায়।বাড়ি ছেড়ে দূরে থাকার কষ্টের চেয়ে এই নতুন বন্ধুদের সাথে রাতভর গল্প,আড্ডা,আচমকা গড়ে ওঠা নাচ-গানের আসর আর অহেতুক হৈ-হুল্লোড়গুলো সবার মনে বেশি জায়গা করে নেয়।

নতুন ক্যাম্পাস,নতুন নিয়ম-কানুন,আর পড়াশোনার মধ্যেই কখন যে গণরুমের সময়টা শেষ হয়ে যায় তা কেমন যেন টেরই পাওয়া যায় না।

নতুন রুমে উঠার পর সিনিয়ররা যেন সহোদরদের মতোই আপন হয়ে যায়।সময়মতো সঠিক পরামর্শ, উপদেশ,ভালবাসা,আবদার,কি না পাওয়া যায় তাদের কাছে!

প্রভোস্টের দায়িত্বে থাকা শিক্ষকবৃন্দ অভিভাবকের মতো শিক্ষার্থীদের ভাল-মন্দের খেয়াল রাখে।শিক্ষার্থীদের যেকোনো সমস্যা হল অফিসে জানানো হলে যথাসম্ভব দ্রুত সমাধান করা হয়।

হল কর্তৃক আয়োজিত বার্ষিক ফিস্ট ডে,স্পোর্টস ডে -এর অনুষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত করে। পহেলা বৈশাখের হল ডাইনিং এর পান্তা- ইলিশ,আলপনা উৎসব,নবীন ব্যাচের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম,বিদায়ী ব্যাচের বিদায় অনুষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের কাছে এক একটা উৎসব হিসেবে আসে।

রিডিং রুমে পড়াশোনা কিংবা গ্রুপ এসাইনমেন্ট করতে যাওয়া,ডাইনিং এর খাবার, ক্যান্টিনে চায়ের সঙ্গে জমে ওঠা আড্ডা,টেনিস কোর্টে খেলা,একসাথে সবাই মিলে গান-গল্পের পসরা নিয়ে বসা,বিভিন্ন খেলা চলাকালে সবাই একসাথে হৈচৈ করে টিভিরুমে খেলা দেখা আর প্রত্যাশিত জয় হলে বাঁধ ভাঙা উল্লাসে মেতে ওঠা,হলের ছাদ -এসবকিছুর মধ্যে কতখানি আনন্দ ছিল তা করোনা মহামারীর কারণে হল বন্ধ থাকায় বেশ ভালোভাবেই অনুভূত হয়েছে।

অন্যকে ছাড় দেয়ার মানসিকতা,আত্মত্যাগ,মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতার মতো অত্যাবশকীয় মানবিক গুণাবলিগুলো শিক্ষার্থীরা হলজীবনে অর্জন করে যা জীবনের পরবর্তী সময়ের জন্য খুব প্রয়োজনীয়।

করেনার ভয়াবহতা দ্রুত কমে আসুক।বিশ্ববিদ্যালয় এবং হলগুলো সরব হোক চিরচেনা কোলাহলে।