বিপর্যয়ের মুখে বাংলাদেশ!

  • 17 Apr
  • 07:48 PM

ভার্সিটি ভয়েস ডেস্ক 17 Apr, 21

বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি উন্নয়নশীল দেশ। কিন্তু বাংলাদেশ কি আসলেই উন্নতি করছে? শুধুমাত্র জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা পূরণের মাধ্যমেই কি চূড়ান্ত উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়!

বর্তমান বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৫৭ লাখ এবং এর বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ (তথ্যসূত্র বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো)। এটা অব্যাহত থাকলে আগামী দুই যুগের ব্যবধানে বাংলাদেশের জনসংখ্যা হবে ২৫ কোটি। বিশ্বের ইতিহাসে কোথাও কখনো ৫৬ হাজার বর্গমাইল জায়গায় এত মানুষ একসাথে বসবাস করেনি। এর মাধ্যমে অনেক ভয়াবহ সমস্যার সম্মুখীন হতে যাচ্ছি আমরা। জনসংখ্যা জনসম্পদে রূপান্তরিত হয়ে দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের সামাজিক ও শিক্ষা ব্যবস্থা যে জনসম্পদ তৈরিতে মোটেও কার্যকরী নয় তা বর্তমান শিক্ষা ও বেকারত্বের হার দেখলেই উপলব্ধি করা যায়।

জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ইত্যাদি লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। যেখানে আমরা দুর্নীতিতে প্রথম অবস্থানে ছিলাম বেশ কয়েকবার -সিপিআই ২০২০ অনুযায়ী ১৮০ টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান নিচের দিক থেকে ১২তম।

এই অবস্থা থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য নতুন প্রজন্মকে সম্মিলিত ভাবে এগিয়ে আসতে হবে। সকল কিছুর উপরে দেশকে প্রাধান্য দিতে হবে। স্বাধীনতার এত বছর পরও আমরা এখনো দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারলে অর্থনৈতিক উন্নতি এমনিতেই হবে- উদাহরণস্বরূপ আমরা মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, কানাডা ইত্যাদি দেশের দিকে লক্ষ্য করতে পারি।

মেধা ও নৈতিকতার সমন্বয়ে নতুন প্রজন্মকে আদর্শ দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করতে হবে। এটি করতে পারলে আমাদের আর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পেছনে দৌড়াতে হবে না। ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিয়ে নতুন করে ইতিহাস তৈরীর চেতনা বুকে ধারণ করে কাজ করে যেতে হবে। বাংলাদেশের ইতিহাস গত কয়েকশত বছরে কখনোই তেমন ভালো ছিল না।

দেশের জনসংখ্যা যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে আগামীতে খাদ্য সংকট, অর্থনৈতিক সংকট, পরিবেশ বিপর্যয় ইত্যাদি নানান সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে আমাদেরকে। বাসস্থানের অভাবে বৃদ্ধি পাবে অপরিকল্পিত নগরায়ন। অত্যাধিক খাদ্য উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন রাসায়নিক সার ব্যবহার করে ভূমির উর্বরতা নষ্ট করা হবে। বনভূমি ও পাহাড় কেটে তৈরি করা হবে ঘরবাড়ি/শিল্পকারখানা।

জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে এখন থেকেই কঠোর পদক্ষেপ নেয়া উচিত। সরকার এ ব্যাপারে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে এখন দরকার এর সঠিক বাস্তবায়ন। এরই সাথে জনসম্পদ তৈরিতে সকলের জন্য সুশিক্ষা ও এর মান কে নিশ্চিত করতে হবে। নতুন প্রজন্মের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা বৃদ্ধিতে কাজ করা উচিত, যা দেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করে বেকারত্ব দূরীকরণে ভূমিকা রাখবে।

আমরা বাংলাদেশের নাগরিক, দেশের প্রতি আমাদের অনেক দায়িত্ব রয়েছে। অফুরন্ত প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর আমাদের এই দেশ, আমাদেরকে শুধু এর সঠিক ব্যবহার করার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ ও সুশিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে আমরাই পারি আগামীর বাংলাদেশকে রক্ষা করতে।


লেখকঃ-
নাজমুছ ছাকিব
ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।