'বাবার টিউশনির টাকায় ক্যাডার হয়েছি,হারাম এক টাকা খাবনা'

  • 23 Jan
  • 05:06 PM

ভার্সিটি ভয়েস ডেস্ক 23 Jan, 20

‘বাবার টিউশনির টাকায় বিসিএস ক্যাডার হয়েছি। আমি হারাম এক টাকা খাব না, কেউ খাওয়াতেও পারবে না। আর কেউ আমার অধীনে থেকে অনিয়ম করে খেতেও পারবে না। কারণ এই শিক্ষা আমার পরিবার থেকে আমি পাইনি।’
নিজের দৃষ্টিভঙ্গী ও কর্মপরিকল্পনার কথা এভাবেই বলছিলেন সদ্য সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন হিসেবে যোগ দেয়া ডা. তউহীদ আহমদ কল্লোল। এর আগে তিনি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ছিলেন।

ডা. তউহীদ আহমদ কল্লোল বলেন, নিজের অবস্থান, পারিবারিক নীতি-নৈতিকতার দায়বদ্ধতা থেকেই এখানে সৎভাবে কাজ করতে এসেছি। আমাকে সরকার যে বেতন দেয়, তা দিয়েই সংসার চালাই। আমি যদি দুর্নীতি করি তাহলে কলঙ্কের দাগটা আমার বাবা ও পরিবারের ওপর লাগবে। আমি কখনোই কাউকে সেই কাজ করতে দেব না। আমি নিজেও দুর্নীতি করব না, সেসব কাজ থেকেও বিরত থাকব যেগুলো আমাকে কলঙ্কের দাগ লাগাবে।

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকেই এমবিবিএস পাস করেছেন তউহীদ আহমদ কল্লোল। পরে ২১তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
ডা. তউহীদ আহমদ কল্লোল বলেন, আমার বাবা উপসচিব ছিলেন। এরপরও তিনি টিউশনি করেছেন। কষ্ট করে আমাকে পড়িয়েছেন। মানুষের মতো মানুষ করেছেন। সুনামগঞ্জ হাসপাতালের একটি দুর্নীতির তদন্তের দায়িত্বে থাকার কারণে এর আমার কিছু ধারণা রয়েছে। এ ধারণার আলোকে সুনামগঞ্জ সরকারি হাসপাতালের সেবার মান বাড়ানো, সুন্দরভাবে সাজানোর পাশাপাশি দুর্নীতি বন্ধে কঠোর প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরো বলেন, সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের সংখ্যা কম, আশপাশে ময়লা-আবর্জনায় পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। আমি এসব দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করারসহ সব সমস্যা চিহ্নিত করে তার সমাধামে কাজ শুরু করেছি। হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্স থেকে শুরু করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে একটি নিয়ম-শৃঙ্খলাসহ সবাইকে নিয়মের মধ্যে অফিসে আসছেন কিনা, তা খতিয়ে দেখব।

নিজ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে ডা. তউহীদ আহমদ কল্লোল আরো বলেন, হাসপাতালের সমস্যাগুলো সমাধানে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি তিনভাগে ভাগ করে নিয়েছি। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করা হবে। এরপর মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা এবং পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করব। আপনারা আমাকে সহযোগিতা করবেন। পরামর্শ দিলে জনস্বার্থে আমি তা গ্রহন করব। কারণ অনেক সময় অনেক কিছু চোখের আড়ালে হয়ে যায়। তাই এসব কাজে আপনাদের সহযোগীতা আমার খুব প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, কে চিকিৎসক, কে নার্স, কে কর্মকর্তা এবং কে কর্মচারী সবার পোশাক নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। আর সবাইকে নিজ নিজ নেমপ্লেট ব্যবহার করতে হবে। এতেই প্রমাণিত হবে কারা হাসপাতালের দালাল। সরকার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের জন্য টাকা দেবে, আর তা মেরে খাবে- আমি এসব সহ্য করব না। আমি শুধু দেখব কেউ আমার হাসপাতালের খাত থেকে দুর্নীতি করে কত টাকা নয়-ছয় করেছেন। সেটি অবশ্যই দেখব আমি। এটা সবার ক্ষেত্রেই দেখব। সব কিছুর হিসাব নেব। কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

সুনামগঞ্জে নতুন ২৫০ শয্যা হাসপাতালের কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে ডা. কল্লোল বলেন, আমার রোগীরা কষ্টে থাকবে তা হবে না। সব রোগীকে দ্রুত নতুন ভবনে নিয়ে যাব। নতুন ভবনে কোথাও কোনো সমস্যা আছে কিনা, লিফট থেকে শুরু করে সব সুইচ পরীক্ষা করা হচ্ছে। চিকিৎসক সংকট রয়েছে, তা বাড়ানোর জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিচ্ছি। আশা করি দ্রুত সমাধান হবে।

তিনি আরো বলেন, তবে অজ্ঞাতভাবে আমার ভুল হতে পারে। কারণ সিভিল সার্জন হিসেবে আমাকে অনেক ফাইল স্বাক্ষর করতে হয়। আমার মাধ্যমে কোন ভুল ফাইলে স্বাক্ষর হয়ে যায় তাহলে অবশ্যই আপনারা ধরিয়ে দেবেন, আমি শুধরে নেব।