বাকৃবিতে কাঁচকি মাছের মূল্য সংযোজিত খাদ্যপন্য উৎপাদন

  • 26 Sept
  • 11:23 PM

আতিকুর রহমান, বাকৃবি প্রতিনিধি 26 Sept, 21

বহুগুন পুষ্টিসমৃদ্ধ দেশীয় প্রজাতির মাছের মধ্যে কাঁচকি অন্যতম। কাঁচকি মাছে মাছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, মিনারেল, ভিটামিনসহ আরো অনেক পুষ্টি উপাদান রয়েছে। যা শিশুদের শারিরীক বিকাশে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। নতুন নতুন খাদ্যপন্য তৈরির ধারাবাহিকতায় এবার কাঁচকি মাছের মূল্য সংযোজিত তৈরিকৃত খাদ্যপন্য উৎপাদনে সফলতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক। এ খাদ্যপন্যটিকে কমপ্লিট ডায়েট বলে উল্লেখ করেছেন গবেষকরা।

রবিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগ থেকে এক সংবাদ মাধ্যমে এ তথ্যগুলো জানানো হয়। এ উদ্ভাবনের প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নুরুল হায়দার এবং সহযোগি গবেষক মো. মোবারক হোসেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এ প্রকল্পটি পরিচালিত হয়েছে।

জানা যায়, দেশীয় প্রজাতির এ কাঁচকি মাছে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম, প্রোটিন ও ভিটামিন ‘এ’ বিদ্যমান এবং প্রচুর পরিমাণে এ মাছটি এখন পাওয়া যাচ্ছে। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচকি মাছে ১৩.৫ গ্রাম প্রোটিন, ৪.৬ গ্রাম স্নেহ, ৮৬৫ মিলি গ্রাম ক্যালসিয়াম ও ২.৪ মিলিগ্রাম আয়রন রয়েছে। এবং তাতে কোনো স্বাস্থ্য ঝুঁকি নেই। তাছাড়া কাঁচকি মাছ হৃদরোগ, উচ্চরক্তচাপ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস ছাড়াও দৈনন্দিন অনেক শারীরিক সমস্যা দুর করতে সক্ষম।

ড. মুহম্মদ নুরুল হায়দার বলেন, দেশীয় প্রজাতির ছোট মাছ থেকে মূল্য সংযোজিত তৈরিকৃত খাদ্য উৎপাদনে গবেষণায় কাঁচকি মাছকে নির্বাচন করি। এ পুষ্টিসমৃদ্ধ মাছ খেতে শিশুসহ অনেকেই অনাগ্রহী। মাছের এ প্রোটিন, ভিটামিন এবং মিনারেল সহজে তারা যেন পেয়ে যায় সেজন্যে দুটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৬ টি পণ্য উৎপাদন করেছি। শিশু সহ সকল বয়সের মানুষের চানাচুর এবং বার জাতীয় খাবারটি খুব পছন্দনীয়। তাই ক্যাটাগরি-১ এর পণ্যগুলো মূলত চানাচুর জাতীয় অন্যদিকে ক্যাটাগরি-২ এর পণ্যগুলো মূলত কুড়কুড়ে বাদাম ও তিলের বার জাতীয় (যা স্থানীয়ভাবে তিল বাদাম তক্তি হিসেবে পরিচিত) করে তৈরি করা হয়েছে। এতে তারা এসব মুখরোচক খাবারের সাথে মাছের পুষ্টিও গ্রহণ করতে পারবে।

তিনি আরো বলেন, মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ফিশ নিউট্রিশন ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে দেখা যায় চানাচুর জাতীয় পণ্যগুলোতে গড়ে ৪-৫ % ময়েশ্চার, ২৬-৩০% লিপিড, ১৮-২২% প্রোটিন, ৫% মিনারেল, ২% ফাইবার এবং ৩৯-৪২% কার্বোহাইড্রেট রয়েছে। যেখানে সাধারণ চানাচুরে প্রোটিন থাকে ১২-১৩%। বার জাতীয় পণ্যগুলোতে ২০-২২ % ময়েশ্চার, ১৩-১৯% লিপিড, ১৩-১৫% প্রোটিন, ১২-১৫% মিনারেল, ২-৩% ফাইবার এবং ৩২-৩৪% কার্বোহাইড্রেট পাওয়া যায়। মুখরোচক খাবারে প্রয়োজনীয় পুষ্টিমান বৃদ্ধিও লক্ষেই আমরা মূলত গবেষণাটি প্রকল্প সম্পন্ন করেছি। ছোট মাছের কাটা খেতে হবে চিবিয়ে এতে পর্যাপ্ত পরিমাণ ক্যালসিয়াম পাওয়া যাবে। অন্যদিকে গর্ভবতী মা এবং দুগ্ধদানকারী মায়ের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির যোগান দিয়ে থাকে এ কাঁচকি মাছ।